প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ঢাকা, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬: নাইজেরিয়ায় অবৈধ খননকাজের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে আটক ৩৭ জন খনি শ্রমিকের মৃত্যুতে দেশের সরকার শুক্রবার একটি বেসামরিক নিরাপত্তা কমান্ডারকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করেছে এবং ‘পূর্ণাঙ্গ তদন্তের’ নির্দেশ প্রদান করেছে।
এই মৃত্যুর ঘটনা বৃহস্পতিবার নাইজার রাজ্যে ঘটে। একটি গোয়েন্দা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, যেখানে তাদের রাখা হয়েছিল সেখানে অতিরিক্ত ভিড় এবং যথেষ্ট বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা না থাকার কারণে তাদের মৃত্যু ঘটেছে। লাগোস থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ তথ্য জানায়।
বেলজিয়ামের আয়তনের দ্বিগুণেরও বেশি আয়তনের নাইজার রাজ্যটি খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ। সোনার সন্ধানে হাজার হাজার ক্ষুদ্র খনি শ্রমিক সেখানে কাজ করে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, তদন্ত চলাকালীন নাইজেরিয়া সিকিউরিটি অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স কোরের (এনএসসিডিসি) রাজ্য কমান্ডার সুবেরু সিয়াকা আনিভিয়েকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। এনএসসিডিসি মানুষের জীবন এবং গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় সম্পদ ও অবকাঠামো সুরক্ষায় কাজ করে, যা পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে পরিচালিত হয়।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ওলুবুনমি তুনজি-ওজো এক বিবৃতিতে বলেন, ‘এটি একটি দুঃখজনক ঘটনা। তবে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করা হবে। আর যার দায়িত্বে থাকা অবস্থায় ঘটনাটি ঘটেছে, সেই কমান্ড্যান্টকে তদন্ত চলাকালে বরখাস্ত রাখা হবে।’
গোয়েন্দা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নাইজার রাজ্যের রাজধানী মিননায় এই ঘটনা ঘটার পর খনি শ্রমিকদের বিভিন্ন সংগঠন এবং তাদের সমর্থকদের মধ্যে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।
এএফপির দেখা গোয়েন্দা প্রতিবেদনে এই তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।
অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া ৪০ সেকেন্ডের একটি ভিডিওতে খোলা জায়গায় কয়েক ডজন তরুণের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। তাদের পরনে ছিল শুধু হাফপ্যান্ট। তাদের বেশিরভাগকেই কিশোর বলে মনে হয়েছে। পুলিশও এই ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে।
কর্মকর্তা ও বিশেষজ্ঞরা জানান, নাইজার রাজ্যের অবৈধ খনিগুলো থেকে সোনা উত্তোলনকে কেন্দ্র করে স্থানীয়ভাবে ‘ব্যান্ডিট’ নামে পরিচিত অপরাধী চক্রগুলোর সহিংসতা বাড়ছে।
এই চক্রগুলো খনি শ্রমিকদের কাছ থেকে কর আদায় করে এবং খনিতে প্রবেশের অনুমতি দেওয়ার বিনিময়ে উত্তোলিত আকরিকের একটি অংশ দাবি করে।
২০২৪ সালের সুইসএইডের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অবৈধভাবে উত্তোলিত সোনার বেশিরভাগই সংযুক্ত আরব আমিরাতে পাচার করা হয়। সেখান থেকে তা ইউরোপ, যুক্তরাষ্ট্র, এশিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকার বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থায় ঢুকিয়ে বৈধ করা হয়।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন