প্রিন্ট এর তারিখঃ ২১শে অক্টোবর, ২০২৬ইং; ০৩:২৭ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ ২২শে জুলাই, ২০২৬ইং; ০৯:২৪ পি.এম
দিল্লি সহ গোটা ভারত উত্তাল; সেলিব্রেটিরাও যোগ দিচ্ছেন - মোদির পতন কি আসন্ন?
এবার দিল্লির যন্তর মন্তরে ছাত্র আন্দোলনের উত্তাল মুহূর্তে রুপালী পর্দার জনপ্রিয় সেলিব্রেটিরা একে একে এসে বিস্ফোরণমুখ ছাত্র আন্দোলনে সমর্থন জানাচ্ছেন। ভারতের জনপ্রিয় কিংবদন্তি নায়ক নাসির উদ্দিন শাহ ছাত্রদের উপর বর্বরোচিত পুলিশি হামলার কারণে ক্ষোভ প্রকাশ করে তীব্র নিন্দা জানিয়ে ভিডিও বার্তা দিয়েছেন। দক্ষিণ ভারতের জনপ্রিয় নায়ক সাম্প্রতিক হওয়া মুখ্যমন্ত্রী থালা পাতি বিজয় ছাত্রদের দাবির প্রতি রাজনৈতিক সমর্থন জানিয়েছেন। এছাড়াও ডজন ডজন দক্ষিণ ভারতীয় সিনেমার জনপ্রিয় অভিনেতা অভিনেত্রী এবং বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা অভিনেত্রীগণ এতে সমর্থন জানাচ্ছেন। আন্দোলন ক্রমে তীব্র থেকে তীব্রতার হয়ে উঠছে। তবে কি মোদি সরকারের ক্ষমতার গদি মালদ্বীপ, শ্রীলঙ্কা, বাংলাদেশ ও নেপাল সরকারের মতো কর্পূরের মতো উড়ে যাবে নাকি চিরন্তন স্বৈরশাসক হিটলার, মুসলিনিদের মত শক্তি প্রয়োগ করে তা থামিয়ে দেবে এটা সময়-ই বলবে?
ইতিহাসের একটি অদ্ভুত স্বভাব আছে—সে কখনও আগাম ঘোষণা দিয়ে আসে না। নিঃশব্দে জমতে থাকা ক্ষোভ একদিন আচমকাই রাজপথের বজ্রধ্বনিতে রূপ নেয়। তখন লাঠির শব্দও তাকে স্তব্ধ করতে পারে না, টিয়ার গ্যাসের ধোঁয়াও তার দৃষ্টিকে ঝাপসা করতে পারে না, আর জলকামানের প্রবল স্রোতও তার পদযাত্রাকে থামিয়ে রাখতে পারে না। রাজপথ তখন কেবল ইট-পাথরের রাস্তা থাকে না; তা হয়ে ওঠে মানুষের অস্থির সময়ের ভাষ্য।
দিল্লির যন্তর মন্তর আজ সেই প্রতীকের নাম। সেখানে যে কণ্ঠস্বর উঠছে, তা কেবল কয়েকজন শিক্ষার্থীর দাবি নয়—এটি রাষ্ট্র, গণতন্ত্র এবং শাসনের চরিত্র নিয়ে এক গভীর বিতর্কের প্রতিধ্বনি। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষের সংহতি, বিরোধী রাজনীতির সক্রিয়তা এবং উত্তপ্ত রাজনৈতিক পরিবেশ—সব মিলিয়ে ভারতের রাজনীতি যেন এক নতুন সন্ধিক্ষণে এসে দাঁড়িয়েছে।
ক্ষমতার সবচেয়ে বড় ভ্রান্তি হলো—নিজেকে চিরস্থায়ী মনে করা। ইতিহাস কিন্তু বারবার শিখিয়েছে, মসনদ যত উঁচুই হোক, তার পায়ার নিচে যদি জনআস্থার মাটি আলগা হয়ে যায়, তবে প্রাসাদ টিকে থাকলেও ভিত্তি কেঁপে ওঠে। শাসকের শক্তি কেবল রাষ্ট্রযন্ত্রে নয়; তার আসল শক্তি মানুষের বিশ্বাসে। সেই বিশ্বাসে যদি ফাটল ধরে, তবে ক্ষমতার আকাশেও অনিশ্চয়তার মেঘ জমতে শুরু করে।
সমালোচকদের অভিযোগ, গত এক দশকে ভারতের রাজনীতি ক্রমশ আরও মেরুকৃত হয়েছে।
বিরোধীদের অভিযোগ, ভিন্নমতকে প্রতিপক্ষ নয়, শত্রু হিসেবে দেখার প্রবণতা গণতান্ত্রিক পরিসরকে সংকুচিত করেছে। এই অভিযোগ কতটা সত্য বা অসত্য—তার বিচার ইতিহাস করবে; কিন্তু একটি বিষয় স্পষ্ট, গণতন্ত্রে রাজপথের ভাষাকেও উপেক্ষা করার সুযোগ নেই।
তবে রাজনীতি কখনো সরলরেখায় চলে না। উত্তাল আন্দোলন সবসময় ক্ষমতার অবসান ঘটায় না, আবার দৃশ্যত স্থিতিশীল ক্ষমতাও কখনো কখনো হঠাৎ জনরায়ের মুখে ভেঙে পড়ে। তাই আজকের উত্তেজনা থেকেই আগামীকালের নিশ্চিত রাজনৈতিক পরিণতি ঘোষণা করা যায় না।
রাজপথের গর্জন অনেক সময় ঝড়ের পূর্বাভাস, আবার কখনও তা কেবল ক্ষণিকের বজ্রধ্বনি। কোনটি সত্য হবে, তার উত্তর দেবে সময়, জনগণের রায় এবং ভারতের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া।
ক্ষমতার ইতিহাসে একটি সত্য চিরন্তন—লোহা দিয়ে প্রাসাদ নির্মাণ করা যায়, কিন্তু জনবিশ্বাস ছাড়া তাকে স্থায়ী করা যায় না। আর যখন রাজপথ প্রশ্ন করতে শেখে, তখন ক্ষমতার প্রাসাদকেও একদিন সেই প্রশ্নের উত্তর দিতে হয়।
ইতিমধ্যেই দ্বিতীয় ও তৃতীয় দিনের আন্দোলনে ক্রমেই উত্তাল হয়ে উঠছে দিল্লি সহ ভারতের বিভিন্ন রাজ্য।।দক্ষিণ ভারতের জনপ্রিয় নায়ক সাম্প্রতিক হওয়া মুখ্যমন্ত্রী থালা পাতি বিজয় ছাত্রদের দাবির প্রতি রাজনৈতিক সমর্থন জানিয়েছেন। তিনি কেন্দ্র সরকারের সমালোচনা করেছেন এবং ছাত্রদের অনুভূতির প্রতি সম্মান দেখানোর আহ্বান জানিয়েছেন।একই সঙ্গে তিনি NEET পরীক্ষা বাতিলের দাবিও পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
এছাড়া দক্ষিণ ভারতের ও বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা অভিনেত্রীগণ ইতিমধ্যেই কেউ সশরীরে কেউ বা বিবৃতি দিয়ে ককরোচ জনতা পার্টির দাবির প্রতি ও তাদের সরকার বিরুদ্ধে অবস্থান কর্মসূচি ও বিক্ষোভে সমর্থন প্রকাশ করেছেন এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য প্রকাশ রাজ, সোনু সুদ, ভির দাস, দিয়া মির্জা, সোহা আলি খান, রিতেশ দেশমুখ, জেনেলিয়া দেশমুখসহ আরও কয়েকজন।
ইতিমধ্যেই ভারতের জনপ্রিয় কিংবদন্তি নায়ক নাসির উদ্দিন শাহ ছাত্রদের উপর বর্বরোচিত পুলিশি হামলার কারণে ক্ষোভ প্রকাশ করে তীব্র নিন্দা জানিয়ে ভিডিও বার্তা দিয়েছেন। যা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।
ক্রমেই বাড়ছে দিল্লির জন্তর মন্তরে বিভিন্ন রাজ্য থেকে আসা ছাত্র-জনতার ঢল। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ, জল কামান টিয়ার গ্যাস বেধড়ক পিটুনি দিয়ে আন্দোলন ছাত্র ভঙ্গ করতে চাইলেও তা যেন ক্রমেই উত্তপ্ত বারুদে পরিণত হচ্ছে। এর পরিণতি কি হবে তার সময়ই বলবে। তবে মালদ্বীপ, শ্রীলঙ্কা বাংলাদেশ ও নেপালের সরকারবিরোধী ছাত্র জনতার যে বিক্ষোভ একসময় বিস্ফোরণে রূপান্তরিত হয়ে সরকার গুলোকে পালাতে বাধ্য করেছে ভারতের নরেন্দ্র মোদির অবস্থা বর্তমান ঠিক তেমন পরিস্থিতির দিকেই যাচ্ছে -এখন এমন কথা বলা মনে হয় অমূলক নয়।
লেখকঃ সাংবাদিক, রাজনৈতিক ও সামরিক বিশ্লেষক ও কলামিস্ট।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন
কপিরাইট © ২০২৪-২৫ তালাশ বিডি.কম সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। || Design & Developed By "Talash BD Media Limited"