প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বরিশালের বিভিন্ন অঞ্চলে প্রায় ১৫ বছর ধরে মেডিসিন, চর্ম, যৌন ও অ্যালার্জিসহ বিভিন্ন রোগের চিকিৎসা করে আসছিলেন আলীমুল ইসলাম (৪৮)। তিনি রোগ নির্ণয়ের জন্য ল্যাপটপ ও বিশেষ ডিভাইস ব্যবহার করে রোগীদের আকৃষ্ট করতেন। তবে, সম্প্রতি ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে তিনি ধরা পড়েছেন।
আলীমুল ইসলাম বরিশালের উজিরপুর উপজেলার বাহেরঘাট এলাকার আব্দুল আলী হাওলাদারের পুত্র। তার জাতীয় পরিচয়পত্র থেকে এ তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।
সম্প্রতি ভ্রাম্যমাণ আদালত বাবুগঞ্জ উপজেলার কলেজ গেট এলাকার এনএমএস ফার্মেসিতে রোগী দেখার সময় তাকে আটক করে। এ সময় তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় এবং চিকিৎসায় ব্যবহৃত ডিভাইস ও কাগজপত্র জব্দ করা হয়।
সালেহা বেগম নামের এক নারী জানান, তিনি চোখের সমস্যা ও মাথাব্যথায় ভুগছিলেন। এক দালালের মাধ্যমে তিনি জানতে পারেন, বাবুগঞ্জের কলেজ গেট এলাকায় এমন একজন চিকিৎসক রয়েছেন, যিনি যন্ত্রের সাহায্যে সব ধরনের রোগ নির্ণয় করে চিকিৎসা দেন। সালেহা তার কাছে গিয়ে প্রতারণার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন।
তিনি আরও জানান, একটি ডিভাইসে হাত রেখে রোগ নির্ণয়ের পদ্ধতিতে চিকিৎসা নেন। পরে তিনি জানতে পারেন, চিকিৎসক পরিচয় দেওয়া ওই ব্যক্তির যোগ্যতা ও কাগজপত্র ভুয়া।
সালেহার মতো আরও অনেক সাধারণ মানুষকে চিকিৎসার নামে প্রতারিত করার অভিযোগ উঠেছে আলীমুল ইসলামের বিরুদ্ধে।
প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে বরিশাল সদর, উজিরপুর ও বাবুগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় রোগী দেখতেন আলীমুল। বাবুগঞ্জের মাধবপাশা বাজার ও বাবুগঞ্জ ডিগ্রি কলেজ গেট এলাকায় নিয়মিত রোগী দেখতেন তিনি।
তার ব্যবস্থাপত্রে নামের আগে ‘ডা.’ লেখার পাশাপাশি এমবিইএইচ (ভারত), ডিএমএফ (ঢাকা) এবং কলকাতার এনআরএস মেডিক্যাল কলেজে প্রশিক্ষণ নেওয়ার তথ্য উল্লেখ ছিল। তিনি মেডিসিন, চর্ম, যৌন ও অ্যালার্জিসহ বিভিন্ন রোগের চিকিৎসায় অভিজ্ঞতার দাবি করতেন। তবে এসব যোগ্যতা ও প্রশিক্ষণের সনদ যাচাই করে ভুয়া বলে শনাক্ত করা হয়েছে বলে উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে।
পরে বাবুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আসমা উল হুসনার নেতৃত্বে কলেজ গেট এলাকার এনএমএস ফার্মেসিতে অভিযান চালানো হয়। এ সময় বাবুগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিক্যাল কর্মকর্তা (আরএমও) তামিম মল্লিক ও মেডিক্যাল অফিসার তূর্য অধিকারী উপস্থিত ছিলেন।
তূর্য অধিকারী জানান, খবর পেয়ে ইউএনওর সঙ্গে ঘটনাস্থলে গিয়ে আলীমুল ইসলামের কাগজপত্র যাচাই করা হয়। তার দেখানো কাগজপত্র ভুয়া বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে। তিনি চিকিৎসার নামে মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছিলেন। এ ধরনের অভিযান স্বাস্থ্য বিভাগ ও উপজেলা প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে অব্যাহত থাকবে।
ইউএনও আসমা উল হুসনা জানান, চিকিৎসক না হয়েও চিকিৎসক পরিচয়ে রোগী দেখার অভিযোগে অভিযান চালানো হয়। ব্যবস্থাপত্রে আলীমুল নিজের নামের আগে ‘ডা.’ লিখে চিকিৎসক পরিচয় দিতেন। তবে তিনি এর পক্ষে বৈধ যোগ্যতার কাগজপত্র দেখাতে পারেননি। প্রায় ১৫ বছর ধরে এভাবে প্রতারণা করে আসছেন বলে তিনি স্বীকার করেছেন।
তিনি আরও জানান, আলীমুলকে প্রথমবারের মতো ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। ভবিষ্যতে চিকিৎসাসংক্রান্ত কোনো কার্যক্রমে জড়িত না হওয়ার শর্তে তাকে কারাদণ্ড থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। অভিযানে চিকিৎসায় ব্যবহৃত ডিভাইস ও ভুয়া কাগজপত্র জব্দ করা হয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন