প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
পুলিশ বাহিনীতে আরো ১০ হাজার ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল (টিআরসি) পদ সৃষ্টির প্রস্তাব পুলিশ সদর দপ্তর করেছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মতামতসহ এই প্রস্তাবটি বর্তমানে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।
পরবর্তী ধাপে, এটি অনুমোদনের জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং পুলিশ সদর দপ্তর থেকে জানা গেছে, প্রস্তাব অনুযায়ী জাতীয় বেতন স্কেলের ১৭তম গ্রেডে ১০ হাজার কনস্টেবলের পদ সৃষ্টি করা হবে। এসব পদে ধাপে ধাপে ৮ হাজার ৫০০ জন পুরুষ এবং ১ হাজার ৫০০ জন নারী কনস্টেবল নিয়োগ দেওয়া হবে।
নিয়োগ সম্পন্ন হলে বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীতে কনস্টেবলের সংখ্যা বেড়ে হবে ১ লাখ ৪০ হাজার ৬৫৮। বর্তমানে যেসব কনস্টেবল পদের সংখ্যা মঞ্জুরিকৃত রয়েছে, তা ১ লাখ ৩০ হাজার ৬৫৮। এছাড়া, কনস্টেবল থেকে মহাপুলিশ পরিদর্শক (আইজিপি) পর্যন্ত ক্যাডার ও নন-ক্যাডার পর্যায়ে, সিভিল পদসহ মোট ২ লাখ ৭ হাজার ৯২০ মঞ্জুরিকৃত পদ রয়েছে।
এই বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন, পুলিশ ও অর্থ) মোহাম্মদ আবু নঈম বলেছেন, পুলিশ সদর দপ্তর কর্তৃক পাঠানো ১০ হাজার কনস্টেবল পদ সৃষ্টির প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ের মতামতসহ বর্তমানে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে বিদ্যমান।
পরে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন পেলে এ পদগুলো সৃষ্টি হবে এবং পরবর্তীতে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করবে পুলিশ সদর দপ্তর।
এর পূর্বে গত ১৫ জুলাই জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশন ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আরো পেশাদার ও কার্যকর করতে ১০ হাজার নতুন পুলিশ কনস্টেবল নিয়োগের পরিকল্পনার কথা বলেন। তিনি বলেন, 'জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার একটি আধুনিক ও পেশাদার পুলিশ বাহিনী গড়ে তুলতে কাজ করছে।' এর পর ২১ জুলাই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক চিঠির মাধ্যমে পুলিশ সদর দপ্তরকে প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনের বিষয়টি জানায়। এরপর পুলিশ সদর দপ্তর আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন পদ সৃষ্টির প্রস্তাব পাঠায়।
এছাড়া, ২৩ জুলাই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিবের কাছে পাঠানো প্রস্তাবে পুলিশ সদর দপ্তর জানায়, বর্তমানে বাংলাদেশ পুলিশ ৮টি রেঞ্জের অধীনে ৬৪টি জেলা পুলিশ, ৮টি মেট্রোপলিটন পুলিশ এবং সিআইডি, এসবি, শিল্পপুলিশ, নৌ পুলিশ, ট্যুরিস্ট পুলিশ, এপিবিএন, রেলওয়ে পুলিশ, হাইওয়ে পুলিশ, এমআরটি, ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টার, টিডিএস, পিটিসি, কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতাল, বিভাগীয় পুলিশ হাসপাতাল, বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমি ও পুলিশ স্টাফ কলেজসহ বিভিন্ন বিশেষায়িত ইউনিটের মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব পালন করছে।
প্রস্তাবে আরো বলা হয়, জনবল সংকটের কারণে ঘটনাস্থলে সময়মতো পুলিশ উপস্থিতি এবং নিয়মিত টহল দিতে সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে, যা কার্যকর আইন প্রয়োগ, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, সদস্যদের কর্মঘণ্টা ও ছুটির ভিত্তিতে কল্যাণ নিশ্চিত করা কঠিন করে দিচ্ছে। একই সঙ্গে পুলিশের কর্মপরিধি ও জনসাধারণের প্রত্যাশা বাড়লেও সেই অনুপাতে জনবল বৃদ্ধি পায়নি।
এতে সংবাদে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, নৌ পুলিশ, ট্যুরিস্ট পুলিশ, পিবিআই, এমআরটি, শিল্পাঞ্চল পুলিশ ও এপিবিএনের মতো বিশেষায়িত ইউনিট গঠন করা হলেও প্রকৃত চাহিদা অনুযায়ী জনবল অনুমোদন দেওয়া হয়নি।
প্রস্তাবে পুলিশ-জনসংখ্যা অনুপাতের বিষয়টিও তুলনামূলক আলোচনা করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, বর্তমানে মঞ্জুরিকৃত পুলিশ পদের সংখ্যা ২ লাখ ৭ হাজার ৯২০ হওয়ায় দেশে পুলিশ-জনসংখ্যার অনুপাত ৮৬৬:১। জাতিসংঘের মানদণ্ড অনুযায়ী শান্তিকালে আদর্শ অনুপাত ৪০০:১ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। বাংলাদেশের পুলিশের জনবল কাঠামো বর্তমানে পর্যাপ্ত নয়।
পুলিশ সদর দপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, ১০ হাজার নতুন পদ অনুমোদনের পর নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে প্রায় ছয় মাস এবং প্রশিক্ষণ শেষ করতে আরও ছয় মাস সময় লাগবে। অর্থাৎ পুরো প্রক্রিয়া শেষ হতে প্রায় এক বছর সময় প্রয়োজন হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন