প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
একটি পুরোনো ছবি, যা মাত্র ৩০ ডলারে কেনা হয়েছিল, বিক্রি হয়েছে ১৩ লাখ ৫২ হাজার ডলারের বেশি দামে। বাংলাদেশি মুদ্রায় এটি প্রায় ১৬ কোটি টাকা। ছবিটি বিখ্যাত শিল্পী গের্ট্রুড অ্যাবারক্রম্বির হাতে আঁকা। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে ছবিটি কারও দৃষ্টিতে আসেনি।
ছবিটির নাম ‘অল্ডারম্যান মেরিয়ামস শেলস’। এটি ১৯৫১ সালে আঁকা হয়। নিউইয়র্কের ফ্রিম্যানস নিলামঘর ছবিটি বিক্রি করেছে। এ বিক্রির মাধ্যমে অ্যাবারক্রম্বির কাজের জন্য নতুন বিশ্ব নিলাম রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছে। সিবিএস নিউজ এই তথ্য জানিয়েছে।
ছবিটির ইতিহাস শুরু হয় ১৯৫২ সালে। মিশিগানের কালামাজুর চিকিৎসক ডা. জন টি রেনল্ডস ছিলেন এর প্রথম মালিক। চিকিৎসার বদলে অ্যাবারক্রম্বি তাকে ছবিটি উপহার দিয়েছিলেন। ১৯৫২ ও ১৯৫৩ সালে ছবিটি নিউইয়র্ক, শিকাগো, মিলওয়াকি ও ইভান্সটনের প্রদর্শনীতে প্রদর্শিত হয়। এরপর ছবিটি সবার দৃষ্টির আড়ালে চলে যায়।
৭০ বছরের বেশি সময় পরে, এক সংগ্রাহক কালামাজুর একটি এস্টেট সেলে যান। এস্টেট সেল মানে মৃত ব্যক্তির জিনিসপত্র বিক্রির আয়োজন। তিনি সেখানে পুরোনো ভিনাইল রেকর্ড খুঁজছিলেন। হঠাৎ তার দৃষ্টি ছবিটির দিকে পড়ে। ছবিটি উল্টে দেখার পর, পেছনে লেখা অ্যাবারক্রম্বির নাম দেখে তিনি ৩০ ডলার দিয়ে ছবিটি কিনে নেন।
সিবিএস নিউজের তথ্য অনুযায়ী, ছবিটি ডা. রেনল্ডসের সম্পত্তির অংশ ছিল। অর্থাৎ ছবিটি কয়েক দশক ধরে একই পরিবারের কাছে ছিল। কিন্তু এর আসল গুরুত্ব অনেকেই জানতেন না।
ছবিতে কিছু ঝিনুক দেখা যায়। পেছনের রং গাঢ় কালো। একটি ঝিনুক যেন পুরো কালো জায়গার মধ্যে ভেসে আছে। শিল্প বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ছবির অদ্ভুত আলো এবং স্বপ্নের মতো দৃশ্য অ্যাবারক্রম্বির শিল্পজীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়কে তুলে ধরে।
ছবিতে একটি ফাটা ঝিনুকের নকশাও রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, এই নকশা প্রথমবার দেখা গেল এই ছবিতে। পরে এটি তার কাজে বারবার ফিরে এসেছে।
নিলামে তোলার আগে ছবিটি মেরামত করা হয়। কাজটি করে শিকাগোর বাউমগার্টনার ফাইন আর্ট রেস্টোরেশন। নিলামের আগে ছবির দাম ১৫ হাজার থেকে ২ লাখ ৫০ হাজার ডলারের মধ্যে ধরা হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত ক্রেতার প্রিমিয়াম মিলিয়ে দাম ১৩ লাখ ৫২ হাজার ৬০০ ডলারে পৌঁছায়। ফ্রিম্যানস জানিয়েছে, অ্যাবারক্রম্বির কোনো ছবি প্রথমবার ১০ লাখ ডলার পার হলো।
সিবিএস নিউজ আরও জানিয়েছে, অ্যাবারক্রম্বি শিকাগোর শিল্প ও সংগীত জগতে একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব ছিলেন। তিনি হাইড পার্কে বাস করতেন এবং শহরের জ্যাজ সংগীতের সঙ্গে তার গভীর সম্পর্ক ছিল। তিনি ১৯৭৭ সালে মারা যান।
এভাবে এস্টেট সেলে পাওয়া ৩০ ডলারের একটি ছবি হয়ে উঠল এই শিল্পীর বিক্রি হওয়া সবচেয়ে দামি কাজগুলোর একটি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন