প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, সরকার দেশের সামগ্রিক জনঅর্থায়ন কাঠামো সংস্কারের মাধ্যমে স্থানীয় ব্যাংকগুলোর ওপর নির্ভরতা কমিয়ে বিকল্প অর্থায়নের পথে হাঁটছে।
তিনি উল্লেখ করেছেন, স্থানীয় ব্যাংক থেকে উচ্চ সুদে ঋণ নেওয়ার ফলস্বরূপ বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত হয়ে থাকে। বর্তমান সরকারের লক্ষ্য হলো ২০২৫-২৬ ও ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে ব্যাংক ঋণ নেওয়ার প্রবণতা কমিয়ে আনা।
রোববার (২১ জুন) রাজধানীর গুলশানের লেকশোর হোটেলে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) কর্তৃক আয়োজিত বাজেট পর্যালোচনা নিয়ে এক সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই মন্তব্য করেন।
অনুষ্ঠানে সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।
অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, বিগত ১০ বছর ধরে তিনি বলছেন যে স্থানীয় ব্যাংক থেকে সরকারের অতিরিক্ত ঋণ নেওয়া উচিত নয়। ১০ থেকে ১৩ শতাংশ সুদে ব্যাংক থেকে সরকারের টাকা নেওয়া হলে বেসরকারি খাতের টিকে থাকতে খুব কষ্ট হয়। তার মতে, সরকার যখন এই উচ্চ সুদে টাকা নেয় তখন সেটি পরিশোধের বিষয়টি একটি বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়ায়। সুতরাং, সরকার ধীরে ধীরে ব্যাংক নির্ভরতা কমিয়ে বাজার-ভিত্তিক ও বিকল্প অর্থায়নের দিকে নজর দিচ্ছে।
এছাড়া বাজেট প্রণয়ন ও বর্তমান বকেয়া চ্যালেঞ্জ নিয়ে তিনি জানান, বর্তমানে মাত্র দেড় মাসের প্রস্তুতিতে এই বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে, যা সাধারণত ছয় মাসের একটি দীর্ঘ প্রক্রিয়া। তিনি উল্লেখ করেন যে, পূর্ববর্তী সরকারের কাছ থেকে অনেক বকেয়া বিল উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া গেছে, যেমন প্রায় ৫০০ কোটি টাকার বিদ্যুৎ বিল বাকি পড়ে রয়েছে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, এই বাজেটের প্রায় ১ লাখ ২৫ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করতে হবে, ঋণের সুদ বা ডেট সার্ভিসিংয়ে, যার ফলে সরকারের খরচের জায়গা বা ‘ফিসকাল স্পেস’ সংকুচিত হয়ে আসছে।
মন্ত্রী সামাজিক নিরাপত্তা ও ফ্যামিলি কার্ড সুবিধাভোগীদের কাছে সরাসরি সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, সরকার চেষ্টা করছে যাতে কোন মধ্যবর্তী ব্যক্তি ছাড়া সরাসরি গৃহিণীর বা পরিবারের যোগ্য সদস্যের অ্যাকাউন্টে টাকা পৌঁছাতে পারে। বিশেষ করে ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে ঘরের কাজ করা মহিলাদের কাজের স্বীকৃতি দেওয়ার প্রচেষ্টা চলছে। এটি কেবল আর্থিক সহায়তা নয়, বরং সমাজে সহনশীলতা বাড়াতে ও পরিবারগুলোকে সচল রাখতে ভূমিকা রাখছে। প্রতিবন্ধী ও কৃষকদের খাদ্য নিরাপত্তার জন্যও সরাসরি সেবা নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে।
শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বিনিয়োগের বিষয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সীমাবদ্ধতার মধ্যেও শিক্ষার বাজেটের ২ শতাংশ বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যা ভবিষ্যতে ৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে। শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়ন এবং ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড কাজে লাগাতে হলে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে উন্নত করতে হবে। বিশেষ করে স্কিল ডেভেলপমেন্ট, রিস্কিলিং ও আপস্কিলিংয়ের মাধ্যমে দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। সরকার শুরুতে ‘প্রিভেন্টিভ হেলথ কেয়ার’ বা প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবায় জোর দিচ্ছে যাতে সাধারণ মানুষের চিকিৎসা ব্যয় কমে আসে।
এছাড়া, বাজেটের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টারের (পিপিআরসি) নির্বাহী চেয়ারম্যান হোসেন জিল্লুর রহমান, রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি ইন্টিগ্রেশন ফর ডেভেলপমেন্টের (র্যাপিড) চেয়ারম্যান এম এ রাজ্জাক, বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি আনোয়ার-উল-আলম চৌধুরী পারভেজ, বিজিএমইএর জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি ইনামুল হক খান, গার্মেন্টস শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সভাপতি মন্টু ঘোষ।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন