প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
কুড়িগ্রাম-৩ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মাহাবুবুল আলম সালেহী বলেছেন, "তিস্তা মহাপরিকল্পনার নামে সরকার ড্রেজিংয়ের কথা বলছে।" তিনি উল্লেখ করেন, "যার জন্য তারা এক্সপার্ট এনে তিস্তাপাড়ের মানুষের সঙ্গে প্রহসন করছে।" তিনি এ কথাও বলেছেন, "এটা সরকারের লোক দেখানো ছাড়া কিছু নয়। আন্দোলন হয় তিস্তায় আর বাজেট যায় পদ্মায়।"
শনিবার (২০ জুন) দুপুরে লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার ভুল্ল্যারহাট তিস্তা নদীর পাড়ে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন সংগ্রাম কমিটির আয়োজনে মানববন্ধনে অংশ নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ সব কথা বলেন। সংসদ সদস্য মাহাবুবুল আলম সালেহী আরও বলেছেন, "তিস্তা মহাপরিকল্পনার ক্রেডিট আমরা নিতে চাই না।"
তিনি সুস্পষ্টভাবে বলেছেন, "সরকার নিজে ক্রেডিট নিয়ে এটি বাস্তবায়ন করুন।" তিনি মনে করেন, "আমরা চাই, প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনের আগে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের যে ঘোষণা দিয়েছেন, সেটির বাস্তবায়ন।" তিনি উল্লেখ করেন যে, "এত বিশাল বাজেটে নেই তিস্তা মহাপরিকল্পনার কোনো রূপরেখা।" সরকারের কাছে তিনি বার্তা দিয়েছেন, "শিক্ষা মন্ত্রণালয়সহ কয়েকটি মন্ত্রণালয়ে বেশ কিছু টাকা অহেতুক পড়ে রয়েছে।"
তিনি দাবি করেন, "সেখান থেকে হলেও তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করুন। তিস্তাপাড়ের মানুষকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করুন।" মানববন্ধনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে কুড়িগ্রাম-১ আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল ইসলাম মন্তব্য করেন, "তিস্তা বাঁচাও আন্দোলনে যিনি নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনি তো আজকের সরকারের প্রভাবশালী মন্ত্রী।"
তিনি প্রশ্ন তুলেন, "তাহলে সেই মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে কেন বাজেটে কোনো রূপরেখা বা টাকা রাখা হয়নি?" তিনি বলেন, "তাহলে তো তারা তিস্তা বাঁচাতে আন্দোলন করেনি। তারা ভোটের জন্য করেছেন।"
তিনি জানান, "আমরা চাই, আপনারা নিজেদের সেই দাবি তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করে প্রতিশ্রুতি পূরণ করুন।" তিনি জোর দিয়ে বলেন, "এত বিশাল বাজেট থেকে রংপুরবাসী আজ বৈষম্যের শিকার। তিস্তাপাড়ের মানুষের দাবি পূরণ করতে হবে। তিস্তাপাড়ের মানুষকে বাঁচাতে হবে।" তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, "দাবি মানা না হলে রংপুরবাসী ঢাকা ঘেরাও কর্মসূচি পালন করবে।"
নদীর তীরে পানিতে দাঁড়িয়ে হাজার হাজার মানুষ মানববন্ধন করে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবি তোলেন। জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন সংগ্রাম কমিটির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট ফিরোজ হায়দার লাভলুর সভাপতিত্বে মানববন্ধনে আলোচনা করেন জেলা জামায়াতের আমির অ্যাডভোকেট আবু তাহের, জামায়াতের ঢাকা মহানগর মজলিসের সুরা সদস্য আনোয়ারুল ইসলাম রাজুসহ জামায়াতের সব সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
এদিকে মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারী তিস্তা পাড়ের কৃষক ফয়সাল মিয়া (৬৫) তার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "শুষ্ক মৌসুমে যখন পানির প্রয়োজন তখন তারা তিস্তা নদী থেকে পানি পান না।" তিনি জানান, "আর বর্ষাকালে আসে প্রচুর পানি, ভেসে যায় তাদের ঘরবাড়ি।" তিনি যোগ করেন, "আমরা যদি সারা বছরই তিস্তায় পানি পাই তাহলে এটি আমাদের জীবন মানোন্নয়নে ভূমিকা রাখবে।"
অপর এক কৃষক আব্দুল গফুর বলেন, "বাহে তিস্তার বুকে যদি সারা বছরই পানি থাকে বিশেষ করে শুষ্ক মৌসুমে পানি থাকলে তাহলে বিপুল পরিমাণ জমিতে চাষাবাদ হবে।" তিনি জানান, "তিস্তা পাড়ের লক্ষ লক্ষ মানুষ মুক্তি পাবে দারিদ্র্যের হাত থেকে।"
মানববন্ধনে আসা সাবেক কলেজ শিক্ষক কফিল উদ্দিন বলেন, "তিস্তা চুক্তি নিয়ে আর কোন রাজনীতি নয়, এখন আমরা বাস্তবায়ন দেখতে চাই।" তিনি দলমত নির্বিশেষে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবীতে সবাইকে এগিয়ে আসার আহবান জানান।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন