প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
রাষ্ট্রপতি পদটি হলো রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পদমর্যাদার অধিকারী পদ। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সাংবিধানিক প্রশাসনিক কাঠামোর মধ্যে রাষ্ট্রপতির এই মহান ভূমিকা রয়েছে। দেশের সব আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম রাষ্ট্রপতির নামে পরিচালিত হলেও, সংসদীয় সরকারব্যবস্থায় রাষ্ট্রপতির নির্বাহী ক্ষমতা মূলত সীমিত। যদিও তার ক্ষমতা সীমাবদ্ধ, তবুও দেশের প্রথম নাগরিক হিসেবে রাষ্ট্রপতির বেতন, ভাতা ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের সুবিধা বেশ বিস্তৃত।
বাংলাদেশের সংবিধানের ৪৮(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির স্বাধীন সাংবিধানিক ক্ষমতা প্রধানত দুটি ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হয়। প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ এবং প্রধান বিচারপতি নিয়োগ এই দুটি গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পদের নিয়োগ ব্যতীত রাষ্ট্রপতিকে অন্য যেকোনো দায়িত্ব পালনে, অবশ্যই প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ মেনে কাজ করতে হয়।
সংবিধানের ৪৯ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির বিশেষ অধিকার হল আদালত অথবা অন্য কোনো কর্তৃপক্ষের দেওয়া দণ্ড মার্জনা, হ্রাস বা মওকুফ করা। সংসদীয় কাঠামোর কারণে রাষ্ট্রপতির ক্ষমার ক্ষেত্রেও সরকারের সুপারিশের প্রয়োজন হয়ে থাকে। পদমর্যাদার কারণে রাষ্ট্রপতি পূর্ণ সাংবিধানিক দায়মুক্তি পান। রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব পালনকালে তার বিরুদ্ধে কোনো আদালতে ফৌজদারি মামলা দায়ের করা যায় না এবং তাকে গ্রেপ্তার বা সমন জারির বিধান নেই।
একই সঙ্গে রাষ্ট্রপতির আর্থিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সুবিধা নির্ধারণ করা হয় বিশেষ আইনের মাধ্যমে। দ্য প্রেসিডেন্টস রেমুনারেশন অ্যান্ড প্রিভিলেজ সংশোধন অ্যাক্ট অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির মাসিক বেতন ১ লাখ ২০ হাজার টাকা, যেটা সম্পূর্ণ আয়করমুক্ত। ২০১৬ সালের সংশোধনীতে বেতন বাড়িয়ে এই টাকা নির্ধারণ করা হয়। রাষ্ট্রপতির দাপ্তরিক ও আবাসিক ঠিকানা হিসেবে ঐতিহাসিক বঙ্গভবন নির্ধারিত রয়েছে। এই বাসভবনের নিরাপত্তা, সাজসজ্জা এবং প্রশাসনিক যাবতীয় রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয়ের দায়িত্ব সরকারি কোষাগারের।
যাতায়াত ও সফরের জন্য রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রীয় খরচে সর্বোচ্চ মানের পরিবহন সুবিধা পেয়ে থাকেন। সরকারি কাজে বিদেশ ভ্রমণের সময় সরকার নির্ধারিত হারে বিশেষ দৈনিক ভাতা পান। রাষ্ট্রপতির আপ্যায়ন বা বিনোদনের জন্য পৃথক বার্ষিক বাজেট বরাদ্দ থাকে, এবং এই বাজেটের ব্যয় হিসাবের ক্ষেত্রে সাধারণ নিরীক্ষা প্রযোজ্য নয়। মেয়াদ শেষে পদ ত্যাগ বা অবসরে যাওয়ার পরেও সাবেক রাষ্ট্রপতিরা আইন অনুযায়ী পেনশন, বিশেষ নিরাপত্তা এবং আজীবন নির্দিষ্ট কিছু সরকারি সুবিধা ভোগ করেন।
সার্বিকভাবে দেশের নির্বাহী ক্ষমতার কেন্দ্রে প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভা অবস্থান করলেও, সংবিধানের সুরক্ষক এবং রাষ্ট্রের ধারাবাহিকতা রক্ষায় রাষ্ট্রপতির পদটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও মর্যাদাপূর্ণ।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন