প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব প্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন বলেছেন যে, সমৃদ্ধ দেশ গড়ার জন্য শিক্ষার্থীদের উপযুক্ত শিক্ষায় শিক্ষিত করে গড়ে তোলা প্রয়োজন। শিক্ষার্থীদের মধ্যে মেধা বিদ্যমান, তবে সেই মেধার ব্যক্তিগত জীবনে প্রতিফলন ঘটানোর জন্য আত্মনিয়োগ ও কঠোর পরিশ্রম আবশ্যক। এজন্য শিক্ষকদের আন্তরিকভাবে পাঠদান করতে হবে এবং শিক্ষার্থীদের অধ্যাবসায় ও নিয়মানুবর্তিতা শিক্ষা দিতে হবে। তিনি গতকাল বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রামের হাটহাজারী সরকারি কলেজে একাদশ শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের নবীন বরন ও কৃতি শিক্ষার্থীদের মধ্যে বৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। কলেজের বিপুল প্রান্তরে আয়োজিত সভায় সভাপতিত্ব করেন কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. আরিফুর রহমান।
সভাপতির বক্তব্যে অধ্যক্ষ কলেজের বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরেন, যেমন কলেজে আই সি টি ল্যাব, ছাত্রাবাস, একাডেমিক ভবন নির্মাণ, অডিটোরিয়াম, শিক্ষার্থীদের বিনোদনের জন্য খেলার মাঠ, শিক্ষার্থী পরিবহনের জন্য ডবল ডেকার বাস, শিক্ষক পরিবহনের বাস/হাইস, এবং কলেজ সরকারি করণের পরও কিছু শিক্ষক/কর্মচারী সরকারি করণের আওতায় না আসার বিষয়টি উল্লেখ করেন। প্রধান অতিথি অধ্যক্ষের প্রস্তাব কার্যকর করার আশ্বাস প্রদান করেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কলেজের প্রাক্তন ছাত্র এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড চট্টগ্রামের চেয়ারম্যান মোঃ আবদুল্লাহ আল মামুন চৌধুরী। তিনি বিশেষ অতিথির বক্তব্যে কলেজ জীবনের স্মৃতি স্মরণ করে বলেন যে, বিগত ১৬/১৭ বছর মানুষ ভোট দিতে পারেনি। এবার জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত সরকার শিক্ষার উন্নয়ন সর্বোচ্চ বরাদ্দ প্রদানের মাধ্যমে শিক্ষা ব্যবস্থাকে সমৃদ্ধ করার জন্য কাজ করছেন। শিক্ষার্থীদেরকে লেখাপড়া চাপিয়ে না দিয়ে আনন্দের মাধ্যমে পাঠদান করতে হবে। পূর্বের পরীক্ষার ফলাফলের তুলনায় বর্তমানের পরীক্ষার ফলাফলের মধ্যে তারতম্য রয়েছে। সরকার চিন্তা করছেন যে, শিক্ষার্থীদের শুধু পাস করিয়ে দিলেই হবে না, বরং তাদের কর্মসংস্থান ব্যবস্থা করতে হবে। এই বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে পরীক্ষার ফলাফলের এই তারতম্য ঘটেছে। বিশ্বায়নের যুগে নিজেকে চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করার জন্য প্রস্তুত করতে হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মুমিন এবং কলেজের শিক্ষক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সাইফুদ্দিন চৌধুরী। অধ্যাপক মীর মোহাম্মদ জিয়াউল হক ও অধ্যাপক সৈয়দা নার্গিস সুলতানা এর যৌথ সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন নবীন বরন ও কৃতি শিক্ষার্থীদের বৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠান উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক আবদুল্লাহ আহসান চৌধুরী। শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে প্রেরণামূলক বক্তব্য রাখেন কলেজের বাংলা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান আবু মুসা মোহাম্মদ মামুন। শিক্ষার্থীদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন অন্মেষা।
প্রধান অতিথি অধ্যক্ষের প্রস্তাবিত সমস্যাগুলোর সমাধান করার আশ্বাস প্রদান করে বলেন যে, এই কলেজকে মডেল কলেজ হিসেবে গড়ে তোলার জন্য বর্তমান সরকারের প্রধান মন্ত্রী তারেক রহমান শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার জন্য আন্তরিকভাবে কাজ করছেন।
প্রধান অতিথি আরো বলেন, বর্তমানে মাদক একটি বড় সমস্যা। অনেকে ভুলবশত মাদক সেবন করলে নিজেকে স্মার্ট মনে করেন। প্রকৃতপক্ষে, মাদক ক্রমাগত নিজেকে নিঃশেষ করে দিচ্ছে। তাই মাদক নিয়ন্ত্রণ প্রশাসনের একার পক্ষে সম্ভব নয়। এজন্য সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে মাদক নির্মূল করতে হবে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি বিজ্ঞান বিভাগের ১ম রাধিকা বর্ণিক, ২য় উম্মে সাইদা ও ৩য় সম্মুজিৎ ভট্টাচার্য, মানবিক বিভাগে ১ম মোচ্ছাম্মৎ জান্নাতুল ফেরদৌস মিরা, ২য় মোঃ সাইফ আনোয়ার চৌধুরী, ৩য় জান্নাতুল মাওয়া, ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ১ম নুসরাত জাহান মিমতা, ২য় নাবিহা ফাতিমা ও ৩য় মোচ্ছাম্মৎ তামান্না উর্মি ঐশির হাতে শিক্ষা বৃত্তি তুলে দেন। মন্ত্রী কলেজ ক্যাম্পাসে প্রবেশ করলে কলেজের বি এন সি সি সেকেন্ড ল্যাবটেনেন্ট আবু তালেবের নেতৃত্বে মন্ত্রীকে গার্ড অব অনার প্রদান করে সম্মান জানানো হয়। পরে মন্ত্রী অনুষ্ঠান মঞ্চে উপস্থিত হলে জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু করে নবাগত শিক্ষার্থীদের ফুল দিয়ে বরন করা হয়।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন