প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
মাদারীপুর শহরের একটি জনপ্রিয় রেস্তোরাঁর খাবার খেয়ে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে অন্তত ১৬ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। শুক্রবার (১২ জুন) রাত থেকে শনিবার (১৩ জুন) দুপুর পর্যন্ত মাদারীপুর ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালের ডায়রিয়া ওয়ার্ডে এসব রোগী ভর্তি হন। আক্রান্তদের মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, আক্রান্তদের অনেকেই মাদারীপুর শহরের পুরানবাজার এলাকার ‘আরএফসি’ রেস্তোরাঁর গ্রিলড চিকেন ও নান রুটি খেয়েছিলেন। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) ওই খাবার খাওয়ার পর শুক্রবার বিকেল থেকে তাদের বমি ও পাতলা পায়খানাসহ বিভিন্ন উপসর্গ দেখা দেয়। পরে রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শহর ও সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে অসুস্থ রোগীদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
আশঙ্কাজনক অবস্থায় কুলপদ্বী এলাকার সুমাইয়া আক্তার ও মিম আক্তারকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
অসুস্থ শিশু আমির হাওলাদারের মা কবিতা আক্তার বলেন, “আমার ছেলে আরএফসি থেকে নানরুটি ও গ্রিল খাওয়ার পর থেকেই বারবার বমি ও পাতলা পায়খানা শুরু হয়। পরে তার অবস্থা খারাপ হলে হাসপাতালে ভর্তি করি।”
তালতলা এলাকার রকিবউদ্দিন আহমেদ জানান, তার পরিবারের চারজন সদস্য একই রেস্তোরাঁয় খাবার খাওয়ার পর অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তিনি বলেন, “খাবারের মান নিয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।”
অভিযোগের বিষয়ে আরএফসি রেস্তোরাঁর মালিক রাহাত ব্যাপারী বলেন, “ঘটনার খবর পেয়ে আমি হাসপাতালে গিয়েছি। আক্রান্তদের চিকিৎসার দায়িত্ব নেব। আমাদের খাবারে কোনো সমস্যা ছিল কি না, তা নিশ্চিত নই। তবে ভবিষ্যতে আরও সতর্কতার সঙ্গে খাবার পরিবেশন করা হবে।”
মাদারীপুর ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) অখিল সরকার বলেন, “খাদ্যে বিষক্রিয়ার উপসর্গ নিয়ে কয়েকজন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের অধিকাংশই একই রেস্তোরাঁয় খাবার খেয়েছিলেন বলে জানিয়েছেন। ডায়রিয়া ওয়ার্ডে রেখে তাদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।”
নিরাপদ খাদ্য অধিদপ্তর মাদারীপুর কার্যালয়ের কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম বলেন, “অভিযোগ পেলে তদন্ত করা হবে। পাশাপাশি নিজ উদ্যোগেও রেস্তোরাঁটি পরিদর্শন করা হবে। খাবারের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার পর সত্যতা পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন