প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
শিক্ষা ও স্বাস্থ্য সচেতন প্রজন্ম তৈরি করতে টাঙ্গাইল বাতিঘর আদর্শ পাঠাগার একটি ব্যতিক্রম উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
এই প্রতিষ্ঠানটি শিশুদের পাঠাভ্যাস গঠনের পাশাপাশি দেশীয় ফলের পরিচিতি ও পুষ্টিগুণ সম্পর্কে তাদের সচেতন করতে আজ দিনব্যাপী একটি ফল উৎসবের আয়োজন করেছে।
‘নিয়মিত দেশীয় ফল খেলে-সব ধরনের পুষ্টি মেলে’ এই প্রতিপাদ্য নিয়ে জেলার বাতিঘর আদর্শ পাঠাগার আজ সকালে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার বাতিঘর আদর্শ পাঠাগার প্রাঙ্গণে শিশুদের জন্য এই ফল উৎসবের আয়োজন করে।
এ উৎসবের পাশাপাশি স্বাস্থ্য সচেতনতামূলক একটি আলোচনা সভাও আয়োজন করা হয়েছে। এতে বাতিঘর আদর্শ পাঠাগারের সভাপতি মো. শাহজাহানের সভাপতিত্বে আলোচনা করেন পুষ্টিবিদ মো. আব্দুল হাকিম, কান্দাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. হালিমুজ্জামান, পাঠাগারের উপদেষ্টা হাজী মো. কোরবান আলী, সদস্য হুমায়ুন কবির, রেজোওয়ানা শরীফ ও আতাউর রহমান মিন্টু।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, বাংলাদেশের বৈচিত্র্যময় স্বাদের মৌসুমী ফলের সঙ্গে বিশ্বের কোন দেশের ফলের তুলনা হয় না। দেশের ফলের স্বাদ ও পুষ্টিগুণ অন্য কোনো দেশের ফলের মধ্যে পাওয়া যায় না। প্রতিটি ঋতুর ফল আলাদা স্বাদের এবং পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ। বক্তারা মানব দেহের সুস্থতার জন্য নিয়মিত দেশীয় ফল খাওয়ার পরামর্শ দেন।
ফল উৎসবে অংশ নেওয়া শিশু শিক্ষার্থীরা জানায়, ফল উৎসবের মাধ্যমে তারা দেশীয় বিভিন্ন ফল এবং এসব ফলের পুষ্টিগুণ সম্পর্কে জানতে পারছে। এছাড়া দেশীয় ফলের গাছ লাগানোর গুরুত্ব সম্পর্কেও তাদের সচেতন করা হচ্ছে। বাতিঘর আদর্শ পাঠাগারের এই ব্যতিক্রম উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয়।
বাতিঘর আদর্শ পাঠাগারের প্রতিষ্ঠাতা মো. কামরুজ্জামান বলেন, বই পাঠের পাশাপাশি শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ এবং দেশীয় সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত করার জন্য বিভিন্ন শিক্ষামূলক ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রম পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হয়। এরই ধারাবাহিকতায় এই ফল উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে।
আলোচনা শেষে নানা প্রজাতির দেশীয় ও মৌসুমী ফলের প্রদর্শনী এবং শিশুদের মাঝে ফল বিতরণ করা হয়। ফলের মধ্যে ছিল আম, কাঁঠাল, লিচু, কলা, পেঁপে, জাম, লটকন, পেঁয়ারা, ডেউয়া, আমলকি, আনারসসহ বিভিন্ন প্রকারের পুষ্টিকর দেশীয় ফল।
উল্লেখ্য, ‘এসো বই পড়ি, নিজেকে আলোকিত করি’ স্লোগান নিয়ে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার চৌরাকররা গ্রামে ২০১০ সালে বাতিঘর আদর্শ পাঠাগার প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকে পাঠাগারটি গ্রামের মানুষের মধ্যে পাঠাভ্যাস তৈরি এবং জ্ঞানভিত্তিক সমাজ বিনির্মাণে সেলুন, বাসস্ট্যান্ড ও স্টেশন অণুপাঠাগার স্থাপনসহ নানা শিক্ষামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এ ছাড়া, পাঠাগার কর্তৃপক্ষ শিক্ষার আলো ছড়ানোর পাশাপাশি আর্তমানবতার সেবায় বিভিন্ন কার্যক্রমও পরিচালনা করে আসছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন