প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনের প্রচার এখন বেশ তৎপর হয়ে উঠেছে। আসনটি শূন্য হয়েছে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার কারণে। ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে আগামী ২৯ অক্টোবর। বিএনপির প্রার্থী হিসেবে মির্জা ফখরুলের ছোট ভাই মির্জা ফয়সাল আমিন নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছেন। অন্যদিকে, ১১ দলীয় ঐক্যের পক্ষ থেকে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন নির্বাচনে লড়ছেন, যিনি ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে পরাজিত হয়েছিলেন।
দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেনকে বিজয়ী করতে জামায়াতসহ ১১ দলীয় ঐক্য সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। তবে অভিযোগ উঠেছে যে, বিএনপির লোকজন প্রচারকাজে বাধা দিচ্ছে এবং দলের নেতাকর্মীদের ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। এ পরিস্থিতির মধ্যে জামায়াতের প্রার্থী সুষ্ঠু ভোটের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তিনি নির্বাচন কমিশন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছেন যেন ভোট কেন্দ্র নিরাপদ থাকে। একই সঙ্গে ১১ দলীয় ঐক্যের নেতারা ‘মাগুরা মার্কা’ বিতর্কিত নির্বাচন এড়ানোর জন্য সতর্ক করছেন।
সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ঠাকুরগাঁও-১ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা পাঁচ লাখ ১৬ হাজার ১৩৮ জন। গত সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দুই লাখ ৩৮ হাজার ৮৩৬ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত নেতা দেলাওয়ার হোসেন পেয়েছিলেন এক লাখ ৪১ হাজার ১৭ ভোট। মির্জা ফখরুল ৯৭ হাজার ৮১৯ ভোট বেশি পেয়ে জয়লাভ করেন।
তবে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি সংসদ থেকে পদত্যাগ করায় আসনটি শূন্য হয়ে যায়। নির্বাচন কমিশন পরে ২৯ অক্টোবর ভোটের তারিখ নির্ধারণ করে উপনির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে। বিএনপি জামায়াত ছাড়াও আরো তিনটি দলের প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। তারা হলেন—আবদুল আলীম নিজামী (বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন—বটগাছ), হাফেজ ডা. খাদেমুল ইসলাম (ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ—হাতপাখা) এবং হুসাইন মুহাম্মদ ওমর ফারুক (বাংলাদেশ কংগ্রেস—ডাব)।
বিগত সংসদ নির্বাচনের আগে জামায়াতের প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন প্রচার মাঠে বেশ আলোচিত ছিলেন। যদিও বিএনপির প্রার্থী বড় ব্যবধানে বিজয়ী হন, জামায়াতের পক্ষ থেকে কারচুপি, অনিয়ম ও গণনায় ত্রুটির অভিযোগ তোলা হয়। সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, বিএনপির বড় নেতা হিসেবে ভোটারদের কাছে আলাদা সহানুভূতি থাকার কারণে তিনি বিজয়ী হন। এবারের নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থীকে আলাদাভাবে মূল্যায়ন করা হচ্ছে এবং পরিস্থিতি ভিন্ন বলে অনেকের মত। এ কারণে জামায়াতের নেতাকর্মীরা নতুন আশা দেখছেন।
জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার "আমার দেশ"কে জানান, ঠাকুরগাঁও উপনির্বাচনে তাদের প্রার্থীর অবস্থান খুব ভালো। তিনি বলেন, "সুষ্ঠু ভোট হলে আমরা বিজয়ী হব ইনশাআল্লাহ।"
সূত্রমতে, জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য দেলাওয়ার হোসেনকে ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে। তাকে বিজয়ী করতে জামায়াতসহ জোটের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা মাঠে সক্রিয় রয়েছেন। নির্বাচনি এলাকার সভা-সমাবেশ ও উঠান বৈঠকসহ বিভিন্ন কর্মসূচিতে তারা অংশ নিচ্ছেন। আগামী ২৪ অক্টোবর সর্বশেষ বড় নির্বাচনি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে শীর্ষ নেতারা উপস্থিত থাকবেন।
নির্বাচনি মাঠের সর্বশেষ পরিস্থিতি সম্পর্কে দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন গতকাল বৃহস্পতিবার "আমার দেশ"কে বলেন, দলীয় সরকারের অধীনে হলেও ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া দেখা যাচ্ছে। তিনি জানান, দাঁড়িপাল্লার পক্ষে ভোটারদের একটি অংশ প্রকাশ্যে তৎপরতার পাশাপাশি অনেকে নীরবে ভোট দেবেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, "ভোট কারচুপি ও কেন্দ্র দখল না হলে ইনশাআল্লাহ আমি বিজয়ী হব।"
বিভিন্ন শঙ্কার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, "বাসায় বাসায় গিয়ে আমাদের ভোটকর্মীদের হুমকি দিচ্ছে। আমাকেই বেশ কয়েকটা গণসংযোগে বাধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে সাধারণ নেতাকর্মীদের সঙ্গে আরো খারাপ ব্যবহার করা হয়েছে।" তিনি জানান, নানা বাধাবিঘ্নের কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ও প্রতিক্রিয়া বাড়ছে। অনেক ক্ষেত্রে স্থানীয়রাই প্রতিরোধ করছেন।
ভোটের সমতল মাঠ নিশ্চিত করতে প্রশাসনের ভূমিকা দুর্বল আখ্যায়িত করে দেলাওয়ার হোসেন বলেন, "এ বিষয়ে আমরা নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে যোগাযোগ করে অভিযোগ দিচ্ছি। তারা আমাদের সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে আশ্বস্ত করছেন।" তিনি জানান, খেলাফত আন্দোলনসহ অন্যান্য প্রার্থীরাও নানা অভিযোগ করছেন।
নির্বাচনে জয়ের প্রত্যাশা নিয়ে জামায়াতের এ প্রার্থী জানান, "গতবার সারা দেশেই একটি পলিসি করে আমাদের হারানো হয়। আমার আসনে ভোট গণনায় ত্রুটিসহ কিছু অনিয়মের অভিযোগ ওঠে।" তিনি বলেন, "এখানকার প্রার্থীও বিএনপির শীর্ষ নেতা হওয়ায় মানুষের আলাদা সহানুভূতি ছিল। তবে এবার রাষ্ট্রপতির ভাইয়ের প্রার্থী হওয়া, সরকার ও বিএনপির কর্মকাণ্ডসহ সাত মাসের ব্যর্থতা এবং স্থানীয় পর্যায়ে নিরীহ মানুষের ওপর নির্যাতন, চাঁদাবাজি, দুর্নীতিতে সাধারণ মানুষ ক্ষুব্ধ ও হতাশ। তাই তারা এখন দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিতে প্রস্তুত।"
এদিকে নির্বাচনি গণসংযোগে দেলাওয়ার হোসেন বলেন, "দাঁড়িপাল্লার সমর্থনে পাড়া-মহল্লায় যেভাবে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে, তা দেখে সন্ত্রাসীদের গডফাদারের মাথা নষ্ট হয়েছে। এজন্যই তারা বাধা সৃষ্টি করছে। তবে প্রচারে যত বেশি বাধা আসবে, জনগণ তত বেশি দাঁড়িপাল্লার সমর্থনে নির্বাচনের মাঠে নেমে পড়বে।"
জানা গেছে, ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচন কার্যক্রম পরিচালনায় কেন্দ্র থেকে দায়িত্ব পালন করছেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও রংপুর অঞ্চলের পরিচালক মাওলানা আব্দুল হালিম। জামায়াতে ইসলামী ও ১১ দলের শীর্ষ নেতারা প্রচারকাজে যোগ দিচ্ছেন। এনসিপি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসসহ অন্যান্য শরিক দলের নেতারাও দাঁড়িপাল্লার পক্ষে তৎপরতা চালাচ্ছেন।
ভোটের প্রচার কাজে অংশ নেওয়া জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সহসভাপতি প্রকৌশলী রাশেদ প্রধান বলেন, "১১ দলের প্রার্থীর পক্ষে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। সবাই এমনকি বিএনপির একটি অংশও দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিতে চান। সুষ্ঠু ভোট হলে বিশাল ব্যবধানে তিনি জয়ী হবেন।"
এদিকে ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে সেনা মোতায়েনের পরিকল্পনা নেই বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল সানাউল্লাহ। তবে জাতীয় নির্বাচনের তুলনায় প্রায় তিনগুণ বেশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েনের পরিকল্পনা রয়েছে বলে তিনি জানান।
গত বুধবার ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সেল, ভিজিল্যান্স ও অবজারভেশন টিম এবং সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এ তথ্য জানান।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন