প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
কাঠালিয়ায় তদন্তাধীন ঘটনায় শিক্ষার্থী-অভিভাবকদের উদ্বেগ, ব্যবস্থা নিতে শিক্ষা অফিসের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ঝালকাঠির কাঁঠালিয়া উপজেলার ১১৩ নম্বর পশ্চিম চেঁচরী আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সঞ্জয় কুমার হাওলাদারের বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ের কোমলমতি ছাত্রীদের যৌন হয়রানির চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত শিক্ষক স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী হওয়ায় বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা জানায়, প্রধান শিক্ষক সঞ্জয় কুমার হাওলাদার বিদ্যালয়ের ৩য়, ৪র্থ ও ৫ম শ্রেণির একাধিক ছাত্রীর সাথে বিভিন্ন অজুহাতে অসদাচরণ ও যৌন হয়রানি করে আসছেন। এর আগে ১ থেকে ২ মাস পূর্বে 'কুলসুম' নামের এক ছাত্রীর সাথেও একই ধরনের ঘটনা ঘটানো হয়েছিল। পরবর্তীতে বিষয়টি জানাজানি হলে আরও বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী একই অভিযোগ নিয়ে সামনে আসে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক সঞ্জয় কুমার হাওলাদারের কাছে জানতে চাইলে তিনি দাবি করেন, ভুল বোঝাবুঝির কারণে তার বিরুদ্ধে এই ধরনের অভিযোগ তোলা হয়েছে। তার ভাষ্যমতে, স্থানীয় সালিশদারদের মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসা করা হয়েছে এবং জরিমানার টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে সেই টাকা অন্য এক শিক্ষকের কাছে জমা রয়েছে বলেও জানান তিনি।
ঘটনা সম্পর্কে কাঁঠালিয়া উপজেলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা কিং ফয়সাল অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করেছেন।
অন্যদিকে, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এ.কে.এম জামান শুরুতে বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে বলে জানালেও, পরবর্তী সময়ে মুঠোফোনে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি সুর পাল্টে বলেন, "আমি কিছু জানি না, আপনাদের কাছেই প্রথম জানতে পারলাম।"
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার (চলতি দায়িত্ব) মো. শাহিনুল ইসলাম মজুমদার মুঠোফোনে জানান, "এ ধরনের ঘটনা ঘটে থাকলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শিক্ষক সমাজের মাঝে এ ধরনের আচরণ কোনোভাবেই কাম্য নয়।"
স্থানীয়দের অভিযোগ, শিক্ষা অফিসে বিতর্কিতরা বহাল তবিয়তে থাকায় এ ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের পরও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যেখানে শিশুদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষার মূল দায়িত্ব শিক্ষকদের কাঁধে, সেখানে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে এমন গুরুতর অভিযোগ এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও গভীর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। সচেতন মহল অবিলম্বে শিক্ষা অফিস থেকে বিতর্কিতদের অপসারণ এবং সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে দোষী শিক্ষকের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন।
এছাড়া কাঁঠালিয়া উপজেলা শিক্ষা অফিসে যোগদানের পর থেকে নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। শিক্ষকদের মাসের পর মাস মৌখিক ছুটি দেওয়া এবং বিভিন্ন অনিয়মে শিক্ষা বিভাগ জর্জরিত হয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ওপর এমন নির্যাতন ও শিক্ষকদের দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ দেখে আজ প্রশ্ন জাগে—আর কত ফুল এভাবে ঝরে পড়বে? কবির ভাষায় বলতে হয়—“এমন দেশটি কোথাও খুঁজে পাবে নাকো তুমি, সকল দেশের রানী সে যে আমার জন্মভূমি।” কিন্তু সেই জন্মভূমির স্কুলেই যদি শিশুরা নিরাপদ না থাকে, তবে এ পাপাচার কার দায়িত্বে ছায়া ফেলবে?
আজ কেন এই রহস্যজনক নীরবতা? আজ কোথায় মানবাধিকার? আজ কোথায় দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)? আজ কোথায় নির্যাতিত ছাত্রীদের পাশে দাঁড়ানোর মতো মানবাধিকার সংগঠনগুলো? আজ কোথায় নারী অধিকার নিয়ে সোচ্চার থাকা বিভিন্ন সংগঠন? কোমলমতি শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং এই ন্যক্কারজনক ঘটনার সঠিক বিচার পেতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে দ্রূত হস্তক্ষেপ কামনা করছেন এলাকাবাসী
এ বিষয়ে কাঁঠালিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) জানান, "লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন