প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ঢাকা, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬ : নিরাপদ কীটনাশক ব্যবস্থাপনা এবং গ্রামীণ নারীদের পরিবেশবান্ধব ক্ষুদ্র ব্যবসার প্রসারে ৪ লাখ ৪৭ হাজার মার্কিন ডলার অনুদান সহায়তা পেতে দুটি প্রকল্পের নথিতে সই করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) ও জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও)।
রোববার ঢাকায় ইআরডির সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের সিদ্দিকী এবং বাংলাদেশে এফএওর প্রতিনিধি ড. জিয়াওকুন শি নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে নথিতে সই করেন।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ইআরডির জাতিসংঘ অনুবিভাগের উইং প্রধান এ কে এম সোহেল। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ইআরডির জাতিসংঘ অনুবিভাগের যুগ্ম সচিব ড. কাজী শাহজাহান এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থার কর্মকর্তারা।
ইআরডির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
কীটনাশকের নিরাপদ ব্যবস্থাপনায় ২ লাখ ডলার কীটনাশকের জীবনচক্রভিত্তিক ব্যবস্থাপনায় সক্ষমতা জোরদার’ শীর্ষক চার বছর মেয়াদি প্রকল্পটি এফএও-চীন দক্ষিণ-দক্ষিণ সহযোগিতা কর্মসূচির অংশ। এতে অর্থায়ন করছে চীনের কৃষি ও পল্লী বিষয়ক মন্ত্রণালয়।
এ প্রকল্পের আওতায় বাংলাদেশ পাবে ২ লাখ মার্কিন ডলার। বাংলাদেশ ছাড়াও ইথিওপিয়া, ঘানা, জর্ডান ও কিরগিজস্তানে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হবে।
প্রকল্পটির মাধ্যমে কীটনাশক ব্যবহারের হালনাগাদ বিধিমালা প্রণয়ন, ডিজিটাল নিবন্ধন ব্যবস্থা চালু এবং আইন প্রয়োগ জোরদারে সহায়তা প্রদান করা হবে। পাশাপাশি কীটনাশকের অবশিষ্টাংশ পরীক্ষায় পরীক্ষাগারগুলোর সক্ষমতা বাড়ানো এবং নিরাপদ কীটনাশক ব্যবহার সম্পর্কে কৃষকদের সচেতন করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
প্রকল্পের নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে, বাংলাদেশে ৩০ শতাংশের বেশি সবজিতে অতিরিক্ত মাত্রায় কীটনাশকের অবশিষ্টাংশ থাকার তথ্য পাওয়া গেছে।
২০২৬ সালের ১০ জুন ইআরডিতে অনুষ্ঠিত আন্তঃমন্ত্রণালয় সভার পর এফএও প্রকল্পের নথি সংশোধন করে। সংশোধিত নথি অনুযায়ী, কৃষি মন্ত্রণালয় প্রকল্প টাস্কফোর্সের নেতৃত্ব দেবে। বাস্তবায়নে যুক্ত থাকবে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বারি)। জাতীয় প্রকল্প সমন্বয়কের কর্মস্থল হবে বাংলাদেশে। পাশাপাশি প্রকল্পের বাজেটও যৌক্তিকভাবে পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে।
নারী-নেতৃত্বাধীন সবুজ উদ্যোগে ২ লাখ ৪৭ হাজার ডলার:
দ্বিতীয় প্রকল্পের নথিতে ‘গ্রিন রুটস উইমেনস ফার্ম ল্যাবস’ শীর্ষক ২৪ মাসের একটি উপ-কর্মসূচির কথা বলা হয়েছে। বাংলাদেশ ও উগান্ডায় পরীক্ষামূলকভাবে এটি বাস্তবায়ন করা হবে। এতে বাংলাদেশের জন্য বরাদ্দ ২ লাখ ৪৭ হাজার মার্কিন ডলার।
এফএওর কৃষক মাঠ স্কুল পদ্ধতির ওপর ভিত্তি করে কর্মসূচিটি নেওয়া হয়েছে। এর আওতায় গ্রামীণ নারীদের পরিবেশবান্ধব ক্ষুদ্র ব্যবসা শুরু ও সম্প্রসারণে সহায়তা প্রদান করা হবে। এ জন্য তাদের প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ, উপযোগী প্রযুক্তি এবং অর্থায়ন ও বাজারের সঙ্গে সংযোগের সুযোগ তৈরি করা হবে।
এ কর্মসূচির জাতীয় পর্যায়ের অংশীদার হলো কৃষি মন্ত্রণালয়, কৃষি বিপণন অধিদপ্তর, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর এবং দেশের কৃষক সমাজ। ২০২৬ সালের আন্তর্জাতিক নারী কৃষক বর্ষের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে ইআরডির সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের সিদ্দিকী মন্তব্য করেন, ‘প্রকল্প দুটি নিরাপদ খাদ্য, জলবায়ু সহনশীল জীবিকা এবং নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নে আমাদের যৌথ অঙ্গীকারের প্রতিফলন। কৃষক ও গ্রামীণ নারীদের জন্য এসব উদ্যোগের সুফল নিশ্চিত করতে ইআরডি সমন্বয় কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে।’
বাংলাদেশে এফএওর প্রতিনিধি ড. জিয়াওকুন শি বলেন, নিরাপদ কৃষি-খাদ্য ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং গ্রামীণ নারীদের জন্য সুযোগ সৃষ্টিতে বাংলাদেশ সরকারকে সহায়তা করতে পেরে এফএও আনন্দিত।
অনুষ্ঠানে ইআরডির জাতিসংঘ অনুবিভাগের প্রধান এ কে এম সোহেল বলেন, স্বাধীনতার পর থেকেই খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) বাংলাদেশের বিশ্বস্ত উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে কাজ করছে। দেশের কৃষি খাতের উন্নয়নে সংস্থাটি ৫০ কোটি মার্কিন ডলারের বেশি বিনিয়োগ করেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন