প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ইসরাইল ফিলিস্তিনিদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের জন্য ফাঁসির মঞ্চ নির্মাণ করছে। জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ও উগ্র ডানপন্থি রাজনীতিক ইতামার বেন-গভির আজ বুধবার (১৯ আগস্ট) নির্মাণাধীন সেই স্থাপনা পরিদর্শন করেন এবং এর বিভিন্ন অংশের ছবি প্রকাশ করেছেন।
ইসরাইলের মধ্যাঞ্চলে নির্মাণাধীন কারাগারের ওই অংশে, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দীদের জন্য বিশেষ একটি ‘ডেথ রো’ বা মৃত্যুদণ্ড সেল থাকবে। এর কেন্দ্রে ফাঁসির মঞ্চ স্থাপন করা হবে। নিহত ইসরায়েলিদের আত্মীয়দের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর দেখার জন্য আলাদা পর্যবেক্ষণ কক্ষও নির্মাণ করা হবে।
বেন-গভির জানিয়েছেন, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের দৃশ্য ভুক্তভোগীদের পরিবারের সদস্যদের দেখার সুযোগ রাখা হবে। তিনি আরও দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের অন্যান্য দেশেও এ ধরনের ব্যবস্থা প্রচলিত রয়েছে।
এই স্থাপনা নির্মাণের উদ্যোগটি নেওয়া হয়েছে, যখন ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের বিধান কার্যকর করার জন্য দেশটিতে নতুন আইন পাস হয়েছে। ২০২৬ সালের ৩০ মার্চ ইসরাইলি পার্লামেন্ট নেসেট পশ্চিম তীরে সামরিক আদালতে বিচারপ্রাপ্ত কোনো ফিলিস্তিনি ইসরাইলি নাগরিককে হত্যার অভিযোগে ‘সন্ত্রাসী’ কর্মকাণ্ডে দোষী সাব্যস্ত হলে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার আইন অনুমোদন করে।
আইন অনুযায়ী, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পদ্ধতি হবে ফাঁসি। চূড়ান্ত রায় হওয়ার পর ৯০ দিনের মধ্যে কাজটি সম্পূর্ণ করার বিধান রাখা হয়েছে। বিশেষ পরিস্থিতির কারণে প্রধানমন্ত্রী সর্বোচ্চ ১৮০ দিন পর্যন্ত মৃত্যুদণ্ড কার্যকর বিলম্ব করার অনুমতি পাচ্ছেন।
আইনটি বেন-গভিরের দল ওজমা ইয়েহুদিতের উদ্যোগে ব্যাপক সমর্থন পেয়েছে। নেসেটে আইনটি ৬২ ভোটে পাস হয়েছে, বিপক্ষে ৪৭ ভোট পড়েছে। সমালোচকরা দাবি করছেন, একই ধরনের অপরাধে অভিযুক্ত ইহুদি ইসরাইলিদের জন্য এই আইন একইভাবে প্রযোজ্য নয়। ফলে এটি ফিলিস্তিনিদের লক্ষ্য করে বৈষম্যমূলক আইন হিসেবে আখ্যায়িত হয়েছে।
আইনের পক্ষে বেন-গভিরের দীর্ঘদিনের অবস্থান রয়েছে। তিনি এটিকে সন্ত্রাস দমনে ‘নিরোধক’ হিসেবে তুলে ধরেছেন। চলতি বছরের মার্চে জেরুজালেমের একটি জাদুঘরে ফাঁসির মঞ্চের সামনে দাঁড়িয়ে ফিলিস্তিনি বন্দীদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পক্ষে বক্তব্য দেন।
আইনটি পাস হওয়ার পর থেকেই মানবাধিকার সংগঠন ও নানা মহল এর বৈধতা এবং বৈষম্যমূলক চরিত্র নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে। সমালোচকরা মনে করছেন, মৃত্যুদণ্ডের এমন বিধান আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ডের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে। আইনটির বিরুদ্ধে ইসরায়েলের সুপ্রিম কোর্টে চ্যালেঞ্জও করা হয়েছে।
এর মধ্যেই বেন-গভির মৃত্যুদণ্ডের অবকাঠামো নির্মাণের কাজ এগিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দেন। এর আগে এপ্রিল মাসে তিনি জানিয়েছিলেন, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দীদের জন্য আলাদা উইং তৈরির কাজ শুরু হয়েছে এবং কয়েক মাসের মধ্যেই তা প্রস্তুত হতে পারে।
নতুন আইনের পাশাপাশি, অক্টোবর ২০২৩-এর হামলায় জড়িত ফিলিস্তিনিদের বিচারের জন্যও মৃত্যুদণ্ডের পথ খুলতে নেসেট মে মাসে একটি বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠনের অনুমোদন দিয়েছে। ওই আইনের আওতায় ৭ অক্টোবরের হামলায় জড়িত ফিলিস্তিনিদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে।
বেন-গভিরের সাম্প্রতিক বক্তব্যও এই কঠোর অবস্থানের ধারাবাহিকতা। চলতি সপ্তাহে একটি পডকাস্টে তিনি গাজায় প্রতিদিন ৩০ থেকে ৪০ জনকে হত্যা করার পক্ষে মন্তব্য করেছেন এবং গাজায় ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণের আহ্বান জানিয়েছেন। তার এই বক্তব্যও ব্যাপক বিতর্ক ও সমালোচনার সৃষ্টি করেছে।
ইসরাইলের ইতিহাসে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনা অত্যন্ত বিরল। নতুন আইনের মাধ্যমে ফিলিস্তিনিদের জন্য ফাঁসির বিধান চালু করা এবং সেটি কার্যকর করার জন্য আলাদা অবকাঠামো নির্মাণ দেশটির বিচারব্যবস্থা ও ফিলিস্তিনি বন্দীদের অধিকার নিয়ে আন্তর্জাতিক বিতর্ক আরও তীব্র করে তুলতে পারে।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স ও দ্য টেলিগ্রাফ
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন