প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
চট্টগ্রামের পটিয়ায় কুখ্যাত সন্ত্রাসী সাইফুদ্দিন, যিনি সাইফুল ইসলাম নামেও পরিচিত এবং ‘বালু সাইফু’ নামে পরিচিত, অবশেষে পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়েছেন। পটিয়ায় ৪ আগস্ট ছাত্র-জনতার ওপর সরাসরি গুলিবর্ষণসহ তার বিরুদ্ধে মোট ১৩টি মামলা এবং গ্রেফতারি পরোয়ানা রয়েছে।
বুধবার ভোর ৩টা ৪৫ মিনিটে উপজেলার হাইদগাঁও ইউনিয়নের পূর্ব হাইদগাঁও এলাকায় গভীর রাতে তার বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
সাইফুদ্দিন পটিয়া উপজেলা আওয়ামী যুবলীগের সাবেক সহ-সম্পাদক এবং হাইদগাঁও ইউনিয়ন যুবলীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।
বিগত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ আমলের এমপি সামশুল হক চৌধুরীর সময়ে ‘বালু সাইফু’ অপরাধ জগত নিয়ন্ত্রণের সুযোগ পাননি। তবে ২০২৪ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের দক্ষিণ জেলা সভাপতি মোতাহেরুল ইসলাম চৌধুরী জয়ী হওয়ার পর তিনি এবং তার কয়েকজন সহযোগী পটিয়ার অপরাধ জগত নিয়ন্ত্রণে নিয়োজিত হন।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, সাইফুদ্দিনের বিরুদ্ধে অপহরণ, চাঁদাবাজি, মারামারি, মাদক এবং বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে ১৩টি মামলা রয়েছে। ২০২৪ সালের ২০ ও ২৭ আগস্ট দায়ের করা পৃথক দুটি মামলায় বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের ধারায় এবং একই বছরের ১ নভেম্বর দায়ের করা মামলায় হত্যাচেষ্টা, মারধর, চুরি, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের বিভিন্ন ধারায় তাকে আসামি করা হয়েছে।
আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পরেও সাইফুদ্দিন পাহাড়ে অবস্থান নিয়ে বীরদর্পে অপকর্ম চালিয়ে গেছেন। তিনি প্রতিনিয়ত ফেসবুকে সরকারবিরোধী অপপ্রচার ও উসকানি দিয়েছেন। তাকে নিয়ে পটিয়ার রাজনীতিবিদ ও প্রশাসন অস্বস্তিতে ছিল। পটিয়া থানার পাশাপাশি বিভিন্ন থানা পুলিশ তাকে গ্রেফতারে একাধিকবার চেষ্টা চালালেও ব্যর্থ হয়েছিল।
স্থানীয়দের মতে, আওয়ামী লীগের সরকার পতনের পরেও সাইফুদ্দিন পটিয়ায় চোলাই মদের ব্যবসা, পাহাড়ে জমি এবং বাগান মালিকদের জিম্মি করে মাসিক হারে চাঁদাবাজি সহ নানা অপরাধমূলক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছিল। পটিয়া ও রাঙ্গুনিয়া সীমান্তের পাহাড়ের তিকুরাপাড়া এলাকায় তার একটি বিশাল চোলাই মদের কারখানা রয়েছে। সেখান থেকে মদের চালান বিকাল বেলা পটিয়ার পাহাড়ের পাদদেশে এনে সন্ধ্যার পর বিভিন্ন বাহনে পটিয়া, বোয়ালখালী, আনোয়ারা ও চন্দনাইশের একাংশে বিতরণ করা হতো। তার নেতৃত্বে পাহাড়ের ১০-১২ জনের একটি সশস্ত্র সন্ত্রাসী গ্রুপ সক্রিয় রয়েছে। তাদের মাসিক হারে চাঁদা না দিলে কোনো বাগান মালিক বা তাদের শ্রমিকরা সেখানে যেতে পারেন না। চাঁদা না দিলে পাহাড়ে গেলে তাদের অপহরণ করে মোটা অংকের চাঁদা আদায় করা হয়।
ওসি জিয়াউল হক জানিয়েছেন, সাইফুদ্দিনের বিরুদ্ধে পটিয়া থানায় ১৩টি মামলা রয়েছে। তাকে গ্রেফতারের পর আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন