প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
গণিত গবেষণায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ব্যবহার নিয়ে চলমান বিতর্কের মাঝে গুগল ডিপমাইন্ডের ভাইস প্রেসিডেন্ট পুষমিত কোহলি তাদের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, এআই গণিতবিদদের কাজের বিকল্প হিসেবে কাজ করবে না; বরং এটি নতুন গাণিতিক সমস্যা খুঁজে বের করা, প্রমাণ খোঁজা এবং জটিল প্রশ্নের সমাধানে গবেষকদের সহায়তা করার জন্য একটি কার্যকর হাতিয়ার। কোহলি মনে করেন, গণিতের সব সমস্যার সমাধান কখনোই সম্পূর্ণরূপে শেষ হবে না।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে-এর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ওপেনএআইয়ের সাম্প্রতিক গণিত গবেষণা প্রকাশের বিরুদ্ধে গণিতবিদদের একটি সংগঠন প্রতিষ্ঠানটিকে বয়কটের আহ্বান জানায়। এই প্রেক্ষাপটে কোহলি মন্তব্য করেন।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে একাধিক পোস্টে তিনি জানান, গণিতের অগ্রগতির মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত গণিতবিদদের আরও সক্ষম করে তোলা। তিনি বলেন, গুগল ডিপমাইন্ড শুরু থেকেই গণিতবিদদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে নতুন প্রযুক্তি ও গবেষণার সরঞ্জাম তৈরিতে গুরুত্ব দিয়েছে।
কোহলির মতে, এআইয়ের মাধ্যমে গাণিতিক প্রমাণ খুঁজে বের করার সক্ষমতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। একই সঙ্গে, গাণিতিক প্রমাণ যাচাইয়ের প্রযুক্তিও উন্নত হচ্ছে। এর ফলে গবেষকেরা জটিল সমস্যার উত্তর দ্রুত খুঁজে পেতে সক্ষম হচ্ছেন। তবে তিনি সতর্ক করেন যে, একটি প্রশ্নের উত্তর পাওয়া মানেই গবেষণা শেষ হয়ে যাওয়া নয়; বরং প্রতিটি উত্তর নতুন প্রশ্নের জন্ম দেয়।
তিনি লেখেন, গণিতের ক্ষেত্রে এআইয়ের অগ্রগতি একটি রূপান্তরমূলক সময়ের সূচনা করেছে। তবে গণিত কখনোই পুরোপুরি ‘সমাধান’ হয়ে যাবে না। প্রতিটি উত্তর নতুন প্রশ্নের দরজা খুলে দেয়।
কেন ওপেনএআই বয়কটের ডাক?
ওপেনএআইয়ের সাম্প্রতিক গণিত গবেষণা প্রকাশের পর ‘অ্যাসোসিয়েশন ফর হিউম্যান ম্যাথমেটিকস’ নামের একটি সংগঠন প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে কাজ বন্ধ করার জন্য গণিতবিদদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওপেনএআইয়ের প্রকাশিত গবেষণায় ৩৭৭টি গাণিতিক সমস্যা নিয়ে কাজের ফলাফল এবং ৭০০টির বেশি ফাইলের একটি সংগ্রহ রয়েছে। সংগঠনটি দাবি করেছে, এ কাজের জন্য গণিতবিদেরা অনুরোধ করেননি। তাদের মতে, গবেষণাটি প্রকাশের পদ্ধতি বৈজ্ঞানিক গবেষণার প্রচলিত রীতিনীতি ও নৈতিকতার প্রশ্ন তুলেছে।
সংগঠনটি এ উদ্যোগকে গবেষণার অগ্রগতির প্রদর্শন না বলে ক্ষমতা প্রদর্শনের উদাহরণ হিসেবে বর্ণনা করেছে।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রিন্সটনে ইনস্টিটিউট ফর অ্যাডভান্সড স্টাডির অধীনে থাকা গণিত ও এআই বিষয়ক একটি স্বাধীন পরামর্শক গোষ্ঠীও এআই দিয়ে তৈরি গাণিতিক যুক্তি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তাদের আশঙ্কা, এআইয়ের তৈরি যুক্তি গবেষকদের পক্ষে বোঝা, যাচাই করা কিংবা তার দায় নেওয়া কঠিন হতে পারে। উন্নত এআই মডেল ও কম্পিউটিং সুবিধায় অসম প্রবেশাধিকার গবেষণায় বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোকেও বাড়তি সুবিধা দিতে পারে।
তবে ওপেনএআই জানিয়েছে, গবেষণার ফলাফল প্রকাশের আগে তারা ওই পরামর্শক গোষ্ঠীর সঙ্গে আলোচনা করেছে এবং তাদের পরামর্শ ও প্রকাশ্য সুপারিশ অনুসরণ করেছে। প্রতিষ্ঠানটি গিটহাবেও গবেষণার উপকরণ প্রকাশ করেছে। এর মধ্যে লিন নামের একটি আনুষ্ঠানিক গাণিতিক যাচাইব্যবস্থায় তৈরি অনেক প্রমাণের সংস্করণ এবং মডেলের যুক্তি নিয়ে সারসংক্ষেপ রয়েছে।
গণিতবিদদের সঙ্গে সহযোগিতায় জোর দিচ্ছে ডিপমাইন্ড।
কোহলি জানান, গণিতবিদদের সঙ্গে সহযোগিতার মাধ্যমে এআইয়ের কার্যকর ব্যবহার গড়ে তোলার চেষ্টা করছে গুগল ডিপমাইন্ড। এ ক্ষেত্রে তিনি সিডনি বিশ্ববিদ্যালয় ও অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের সঙ্গে প্রাথমিক সহযোগিতার কথা উল্লেখ করেন। ওই সহযোগিতার ভিত্তিতে ২০২১ সালে নেচার সাময়িকীতে প্রকাশিত একটি গবেষণাপত্রে দেখানো হয়েছিল, কীভাবে এআই গণিতবিদদের নতুন গাণিতিক অনুমান বা কনজেকচার তৈরি করতে সাহায্য করতে পারে।
তিনি আরও বলেন, গণিতবিদদের মতামত ডিপমাইন্ডের আলফাএভলভ ও আলফাপ্রুফের মতো এআই সরঞ্জাম তৈরিতে ভূমিকা রেখেছে। পাশাপাশি গাণিতিক প্রমাণ যাচাইয়ের জন্য লিনের মতো প্রযুক্তি উন্নয়নের ক্ষেত্রেও আনুষ্ঠানিক গণিত গবেষণা সম্প্রদায়ের অবদান রয়েছে।
গণিত গবেষণায় এআইয়ের ক্রমবর্ধমান সক্ষমতা নতুন সম্ভাবনা তৈরি করলেও এর ব্যবহার কীভাবে হবে, তা নিয়ে বিতর্ক বাড়ছে। কোহলির বক্তব্যে জোর দেওয়া হয়েছে—এআইয়ের লক্ষ্য গণিতবিদদের সরিয়ে দেওয়া নয়, বরং তাঁদের আরও জটিল প্রশ্ন নিয়ে কাজ করার সুযোগ করে দেওয়া।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন