প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী মন্তব্য করেছেন, শেফ ও কুকের পেশা বর্তমানে বিশ্বব্যাপী একটি মর্যাদাপূর্ণ এবং প্রতিষ্ঠিত পেশা হিসেবে পরিচিত। বাংলাদেশেও শিক্ষিত সমাজের অনেক সদস্য এই পেশায় যুক্ত হয়ে সফলতা অর্জন করেছেন। এ কারণে, কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি করতে প্রয়োজন আরও বেশি মানুষকে এই পেশায় প্রশিক্ষণ প্রদান করা।
আন্তর্জাতিক শেফ দিবস উপলক্ষে সিলেট বিভাগের শেফ ও কুকদের আয়োজনে ‘মিট দ্য শেফ’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। আজ মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দুপুরে সিলেট নগরীর একটি অভিজাত হোটেলে এই অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী উল্লেখ করেন, রন্ধনশিল্প প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যে দীর্ঘকাল ধরে একটি মর্যাদাপূর্ণ শিল্প ও পেশা হিসেবে গৃহীত হয়ে আসছে। বাংলাদেশে শিক্ষিত তরুণ-তরুণীদের মধ্যে এই পেশার প্রতি আগ্রহ ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা একটি ইতিবাচক পরিবর্তন। সমাজের সকল পেশাকে সম্মানের সঙ্গে গ্রহণ করার মানসিকতা গড়ে তোলা জরুরি।
তিনি আরও বলেন, দেশে বিপুল সংখ্যক কর্মক্ষম জনগণ রয়েছে। বিশেষ করে ৩০ থেকে ৫০ বছর বয়সী মানুষের একটি বড় অংশ কর্মক্ষম। তাদের জন্য পর্যাপ্ত কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা রাষ্ট্র, উদ্যোক্তা এবং বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের দায়িত্ব। যদি কর্মক্ষম মানুষকে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ করে বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিত করা যায়, তবে দেশের অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে।
সিসিক প্রশাসক জানান, শেফ ও কুকের পেশায় নারীদের এবং পুরুষদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি পাচ্ছে। তবে এই পেশাকে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে আরও পরিচিত ও মর্যাদাপূর্ণ করে তুলতে হবে। বিভিন্ন দিবস, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী, সেমিনার এবং প্রশিক্ষণ কর্মসূচির মাধ্যমে শিক্ষিত সমাজকে এই পেশার প্রতি আকৃষ্ট করা প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে দেশের হসপিটালিটি সেক্টর ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ফাইভ স্টার, ফোর স্টার এবং থ্রি স্টার মানের হোটেল ও রেস্তোরাঁ গড়ে উঠছে। এসব প্রতিষ্ঠানে প্রশিক্ষিত শেফ ও কুকদের জন্য ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হচ্ছে। একই সঙ্গে, আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ প্রদান করা গেলে দেশে এবং বিদেশে তাদের কর্মসংস্থানের সুযোগ আরও বৃদ্ধি পাবে।
আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ জনশক্তি তৈরি করে দেশে ও বিদেশে তাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা সম্ভব। এ ক্ষেত্রে রাষ্ট্রীয়ভাবে উদ্যোগ গ্রহণ করা প্রয়োজন। সিলেট থেকে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদেরও এ বিষয়ে কার্যকর ভূমিকা রাখার সুযোগ রয়েছে। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তরুণদের দক্ষ করে দেশে ও বিদেশে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।
তিনি উল্লেখ করেন, শেফের কাজ শুধু খাবার প্রস্তুত করা নয়; খাবার পরিবেশন, উপস্থাপন এবং অতিথিদের আকৃষ্ট করার বিষয়টিও এই পেশার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। আধুনিক হসপিটালিটি সেক্টরে দক্ষ শেফদের চাহিদা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাই, এই পেশাকে শিল্প হিসেবে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে তরুণদের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের দ্বার উন্মোচিত হবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিলেট প্রেসক্লাবের সভাপতি মুকতাবিস-উন নূর। এছাড়া শেফ ও কুক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, সংশ্লিষ্ট পেশাজীবী এবং আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে, বিশ্ব শেফ দিবস উপলক্ষে নগরীতে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয়। এই র্যালিতে সিলেট বিভাগের বিভিন্ন হোটেল, রেস্তোরাঁ এবং হসপিটালিটি সেক্টরের শেফ, কুক এবং সংশ্লিষ্ট পেশাজীবীরা অংশগ্রহণ করেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন