প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
সমসাময়িক বিশ্ব পরিস্থিতিতে আলা ইমাম আলা হযরতের সংস্কার ও দর্শন আজকের দিনে অত্যন্ত প্রয়োজনীয় হয়ে উঠেছে। বক্তারা আলা হযরত কনফারেন্সে মতামত প্রকাশ করেন যে, সন্ত্রাস, দুর্নীতি ও মাদকমুক্ত সমাজ গঠন এখন অপরিহার্য হয়ে পড়েছে।
শনিবার (৭ নভেম্বর) সকাল ৯ টা থেকে রাজধানীর বিএমএ অডিটরিয়ামে ইমামে আযম ও আলা হযরত গবেষণা পরিষদের আয়োজনে আলা হযরত ইমাম আহমদ রেযার ১০৮ তম ওফাত বার্ষিকী উপলক্ষে অধ্যক্ষ সৈয়দ মুহাম্মদ অসিয়র রহমান আলকাদেরীর সভাপতিত্বে একুশে পদকপ্রাপ্ত, পিএইচপির চেয়ারম্যান সুফি মুহাম্মদ মিজানুর রহমান স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের চেয়ারম্যান শায়খুল হাদিস কাজী মুহাম্মদ মুঈন উদ্দিন আশরাফী। প্রধান বক্তা ছিলেন আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের নির্বাহী চেয়ারম্যান আল্লামা আবুল কাশেম নুরী এবং স্বাগত বক্তব্য রাখেন পীর মুফতি মোস্তাক আহমদ ওয়েসী।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে শাইখুল হাদীস কাজী মুহাম্মদ মুঈন উদ্দীন আশরাফী বলেন, ইন্টোরিম সরকার এবং বর্তমান সরকারের আমলে যেভাবে তৌহিদী জনতা নাম দিয়ে মাজারে ধারাবাহিক হামলা চলছে, তা দেশের ৮০ পার্সেন্ট সুফিবাদী গোষ্ঠীকে হতাশ করেছে। তিনি প্রশ্ন ছুড়ে দেন, সুফিবাদীরা কি ধ্বংসাত্মক ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে অভ্যস্ত নয়? তিনি আক্ষেপ করে বলেন, দেশে যে অরাজক পরিস্থিতি বিরাজ করছে, তা আল্লাহর অলি, দরগাহ মাজারে হামলার বিচার না করার একটি অশনিসংকেত। হামলাকারীদের যত দ্রুত বিচার করা হবে, ততই দেশের মঙ্গল বয়ে আনবে। নারায়ে তাকবীর স্লোগান দিয়ে মাজারে হামলা ও কবর থেকে লাশ তুলে আগুন দিয়ে পোড়ানো তৌহিদী জনতা এটি কি নতুন ধর্মের নাম কিনা, তা জানতে চান তিনি।
উদ্বোধনী বক্তব্যে সুফি মিজান বলেন, বর্তমানে ইসলাম শিক্ষা অপরিহার্য বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইসলামের সঠিক শিক্ষা না থাকার কারণে মুসলিম পরিবারে জন্ম নেওয়া ছেলে-মেয়েরা মাদকাসক্ত ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে। বিদেশ থেকে আমদানি করা নব্য ফেরকা এসব ধ্বংসের জন্য অনেকাংশে দায়ী। কঠিন এই সময়ে আলা হযরতের মতো মহামনীষীর পথ ও জীবন-কর্ম অনুসরণ জঙ্গিবাদের কবর রচনা করতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। আলা হযরত যেভাবে ইসলামের বাণী পৌঁছে দিয়ে সারা বিশ্বে মানবতার হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছেন, তা আমাদেরকেও অনুসরণ করতে হবে।
সংগঠনের আহ্বায়ক উপাধ্যক্ষ মুফতি আবুল কাশেম মুহাম্মদ ফজলুল হকের উপস্থাপনায় আলোচনা করেন মুফতি মাহমুদুল হাসান কাদেরী, মুফতি হাফেজ মুনিরুজ্জামান কাদেরী, পীর মহিউদ্দিন লতিফী, খাজা আরিফুর রহমান তাহেরী, পীর হাফেজ মাওলানা মুফতি শাহ মুহাম্মদ সাইফুজ্জামান, মাও. আনম মাসউদ হোসাইন আল ক্বাদেরী, অধ্যক্ষ আবু জাফের মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন, মাও. মোশাররফ হোসেন হেলালী, পীর গিয়াস উদ্দীন তাহেরী, ড. মাসুম বাকি বিল্লাহ, অ্যাডভোকেট মাহবুব উল আলম আশরাফী, মাওলানা আব্দুর রহমান আলক্কাদেরী, পীর জিহাদ উদ্দীন নুরী, আবদুল মালেক বুলবুল, ড. মুহাম্মদ নাসির উদ্দীন, অধ্যাপক ড. এমদাদুল ইসলাম, মুহাম্মদ আবদুল হাকিম, মাওলানা ইকরাম হুসাইন, অধ্যাপক আহমদ রেযা, পীরজাদা মাহবুব উল্লাহ হামিদী, অ্যাডভোকেট ইকবাল হাসান, মাওলানা নাজমুস সাদাত ফয়েজী, মাওলানা জালাল উদ্দীন আহমদ আখঞ্জী, পীর আতাউল মোস্তফা, আবুল হোসেন, কাজী মোহাম্মদ জসিম উদ্দীন নুরী প্রমুখ।
সভাপতি তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন, বর্তমান যুব সমাজ যেভাবে ঈমান-আক্বিদা বিসর্জন দিয়ে ব্যক্তি ভক্ত হয়ে পথভ্রষ্ট হচ্ছে, ইমাম আলা হযরতের লিখনীগুলো সামনে রাখলে এবং গভীরভাবে স্টাডি করলে নিজেকে রক্ষা করার সুযোগ তৈরী হতো। প্রথিতযশা আলেমরা যেখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে বক্তব্য দেন, তা পর্যবেক্ষণ ও ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ না করে হুট করে মন্তব্য ছুড়ে দেওয়া মূর্খতার পরিচায়ক। অথচ আলা হযরতের নিকট যখন কোন ফতোয়া তালাশ করা হতো বা জানতে চাওয়া হতো, তিনি গভীরভাবে ব্যাখ্যা করে তা সমাধান বা সঠিক পথ বলে দিতেন। ‘চতুর্দশ শতাব্দীর মুজাদ্দিদ ইমাম আহমদ রেযা খান বেরলভির (রাহ.) দর্শন ও গবেষণা আজ প্রতিটি মানুষের জন্য অপরিহার্য হয়ে পড়েছে। ইমাম আলা হযরত সমাজ ও রাষ্ট্রকে শান্তিময় বিশ্ব গড়ার, মানবতার মুক্তির জন্য আমরণ কাজ করে অনুপম দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। ইসলামের মৌলিক বিষয়ের ওপর যখনই আঘাত এসেছে, তাৎক্ষণিক লেখনি ও বক্তব্যের মাধ্যমে বাতিলের ওপর কুঠারাঘাত করতে সময়ক্ষেপণ করেননি ইমাম আহমদ রেযা খান বেরলভি।’ প্রতিটি মুহূর্তে তিনি বাতিলের বিরুদ্ধে কলম চালিয়েছেন।
কনফারেন্সে উপস্থিত ছিলেন মাওলানা মুহাম্মদ জয়নুল আবেদীন, সৈয়দ মুহাম্মদ হাসান আল আজহারী, অধ্যক্ষ আবদুস সাত্তার, আলহাজ্ব মোহাম্মদ ইকবাল, মাওলানা অধ্যক্ষ মুহাম্মদ আবু হানিফ, মোহাম্মদ হোসেন, অধ্যক্ষ আবু নাসের মুহাম্মদ মুসা, কাজী মোহাম্মদ জসিম উদ্দীন নুরী, মাওলানা সিদ্দিকুর রহমান সরকার, মুহাম্মদ ইমরান হুসাইন তুষার, অধ্যক্ষ হাবিবুর রহমান, কাজী মোবারক হোসাইন ফরায়েজী, মুফতি মাহমুদুর রহমান চিশতী, সৈয়দ মুহাম্মদ মাঈনুদ্দীন হেলাল, মুফতি শহীদুল্লাহ্ জিহাদী, অ্যাডভোকেট নুরুল হুদা আনছারী, মুফতি ইয়াকুব হোসাইন আলকাদেরী, মাওলানা হাফেজ মুঈন উদ্দিন, মোস্তাক আহমদ আশরাফী, মাওলানা ফরহাদুল ইসলাম বুলবুলি, মাওলানা মুঈন উদ্দিন আল কাদেরী, মারুফ বিল্লাহ আশেকী, মুহাম্মদ হারুনুর রশিদ মজুমদার, মুফতি ইদ্রিস হুসাইন, অধ্যক্ষ আহমদ আলী হেলালী, অ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলাম সাইফ, মুফতি শেখ মোহাম্মদ বোরহান উদ্দীন প্রমুখ।
শেষে মিলাদ-কিয়াম এবং দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনা করে বিশেষ মোনাজাতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানটি সমাপ্ত হয়।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন