প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
শাহজাদপুর উপজেলার জালালপুর ইউনিয়নের লোচনাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি চরম অবকাঠামোগত সংকটে রয়েছে। পুরোনো স্কুলঘরটি নিলামে বিক্রি করার পর নতুন পাকা ভবনের আশায় দিন কাটাচ্ছে বিদ্যালয়টি। নতুন ভবন নির্মাণের জন্য বরাদ্দ এলেও নানা জটিলতার কারণে নির্মাণকাজ শুরু হয়নি। ফলে, শিক্ষকরা পাশের কবরস্থান থেকে টিন এনে একটি ছাওনি তৈরি করে পাঠদান চালিয়ে যাচ্ছেন।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, নতুন ভবন নির্মাণের প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে পুরোনো ভবনটি নিলামে বিক্রি করা হয়। নতুন ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। বর্তমানে বিদ্যালয়টি প্রায় সম্পূর্ণ অবকাঠামোহীন অবস্থায় রয়েছে। ২০২৪ সালে নতুন ভবন নির্মাণের জন্য ১ কোটি ১২ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। দরপত্র আহ্বান করা হলে আব্দুস সোবহান ডাবলু নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজটি পায়। তবে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান কার্যাদেশ পাওয়ার পরও নির্মাণকাজ শুরু করেনি। যোগাযোগ ব্যবস্থা খারাপ হওয়ায় মালামাল পরিবহনে ব্যয় বাড়ার আশঙ্কায় ঠিকাদার গড়িমসি করায় কর্তৃপক্ষ কার্যাদেশটি বাতিল করে দেয়।
বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা জানান, বর্তমানে কবরস্থানের টিনের ছাওনি শ্রেণিকক্ষ হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। জরাজীর্ণ ও অনিরাপদ পরিবেশে গাদাগাদি করে পাঠদান করতে হচ্ছে। রোদ-বৃষ্টি ও বৈরী আবহাওয়ার সময় দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়। এতে পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে এবং শিক্ষার্থীদের আগ্রহ ও মানসিক স্বস্তি কমছে। দীর্ঘদিন এভাবে চলতে থাকলে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ও পড়াশোনার প্রতি আগ্রহে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করছেন তারা।
অভিভাবকরা দ্রুত বিদ্যালয়ে নিরাপদ ও উপযোগী শ্রেণিকক্ষ নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, শিশুদের শিক্ষার জন্য বিদ্যালয়ে নূন্যতম নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি। পুরোনো ভবন সরিয়ে নেওয়ার পর নতুন ভবন না হওয়ায় শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ বেড়েছে।
শাহজাদপুর উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) রাহাত ইসলাম জানান, বিদ্যালয়ের যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো না হওয়ায় নির্মাণসামগ্রী পরিবহনে অতিরিক্ত ব্যয় হওয়ার আশঙ্কা ছিল। বিদ্যালয়ের জায়গার স্বল্পতা, পাশে বড় খাল এবং যমুনা নদীর ভাঙনের ঝুঁকিসহ কয়েকটি সমস্যা ছিল। নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করা সম্ভব হবে না এমন পরিস্থিতিতে দরপত্র আহ্বানের প্রায় ছয় মাস পর নির্মাণকাজের টেন্ডারটি বাতিল করা হয়। বরাদ্দের অর্থও ফেরত চলে যায়।
তিনি আরও জানান, যমুনা নদীর তীরবর্তী এলাকায় বিদ্যালয়টি হওয়ায় বহুতল পাকা ভবন নির্মাণের সুযোগ নিয়েও জটিলতা রয়েছে। নতুন করে বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষ নির্মাণে ‘পাইলট ডিজাইন’ অর্থাৎ স্টিলের ফ্রেমের ওপর সেমিপাকা ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মুরাদ হোসেন ছুটিতে থাকায় মুঠোফোনে জানান, বিদ্যালয়টির ভবন নির্মাণের জন্য আগে একটি টেন্ডার হয়েছিল। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মালামাল পরিবহনসহ বিভিন্ন সমস্যার কারণে সেটি বাতিল হয়েছে। বর্তমানে একটি সেমিপাকা ঘর নির্মাণের বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে। নতুন করে ভবন নির্মাণের জন্য আবেদন করার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয়দের দাবি, যমুনার ভাঙন ও যোগাযোগব্যবস্থার বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে বিদ্যালয়টির জন্য উপযোগী ও টেকসই অবকাঠামোর ব্যবস্থা দ্রুত করা হোক। এতে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পাঠদান স্বাভাবিক হওয়ার পাশাপাশি অভিভাবকদের উদ্বেগও কমবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন