প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
চিত্রনায়িকা পূর্ণিমা রুপালি পর্দায় সৌন্দর্য, অভিনয় এবং জনপ্রিয়তার প্রতীক হিসেবে কয়েক দশক ধরে প্রতিষ্ঠিত রয়েছেন। চলচ্চিত্রের ভাষা পরিবর্তিত হয়েছে, নতুন প্রজন্ম এসেছে এবং দর্শকের রুচি বদলেছে। তবে, পূর্ণিমাকে ঘিরে মুগ্ধতা অপরিবর্তিত রয়ে গেছে। বরং সময়ের সাথে তাঁর সৌন্দর্যে পরিণত এক দীপ্তি যুক্ত হয়েছে।
তরুণ-তরুণীদের কাছে পূর্ণিমা এখনও সৌন্দর্যের একটি পরিচিত নাম। যদিও তিনি পর্দায় নিয়মিত নন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর উপস্থিতি মুহূর্তেই নজর কাড়ে। নতুন ছবি প্রকাশ হলে ভক্তদের মন্তব্যের ঘর প্রশংসায় ভরে যায়। যেন বয়স তাঁর সৌন্দর্য কিংবা আকর্ষণে কোনো রেখা টানতে পারেনি।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত একটি ছবিতে ফের সেই চিত্র দেখা গেছে। সাদা পোশাকের সঙ্গে কালো-সাদা চেক নকশার জ্যাকেট, খোলা সোজা চুল, স্বাভাবিক সাজ এবং মুখের মিষ্টি হাসি—সব মিলিয়ে পরিশীলিত এক লুকে ধরা পড়েছেন পূর্ণিমা।
ছবিতে সাদা ডিপ ভি-নেক টপের সঙ্গে সাদা প্যান্টে তাঁকে দেখা গেছে। এর সাথে কালো-সাদা নকশার ব্লেজার আধুনিকতার ছোঁয়া যোগ করেছে। হাতে সোনালি রঙের রিস্টওয়াচ ও সূক্ষ্ম ব্রেসলেট, পায়ে স্ট্র্যাপি স্টিলেটো হিল—সাজে ছিল আভিজাত্য, তবে কোথাও বাড়াবাড়ি ছিল না।
ছবির পাশাপাশি পূর্ণিমার লেখা ক্যাপশনও নজর কেড়েছে। জীবনের ওঠানামাকে আলোর সঙ্গে তুলনা করে অভিনেত্রী লিখেছেন, “জীবনে উত্থান-পতন আসবেই। তবে নিজের ভেতরের ঝড়গুলোকে কখনোই তোমার বয়ে চলা আলোর চেয়ে বেশি উজ্জ্বল হতে দিও না।”
পূর্ণিমার এই বক্তব্যের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করেছেন তাঁর ভক্ত-অনুসারীরা। একজন মন্তব্য করেছেন, “ঝড় আসবেই; কিন্তু নিজের ভেতরের আলোটা যেন কখনো নিভে না যায়, এটাই জীবনের আসল শক্তি।” আরেকজন লিখেছেন, “ঠিক বলেছেন, জীবনে যা কিছু হোক থেমে থাকা যাবে না।”
পূর্ণিমার সাম্প্রতিক ছবির মন্তব্যের ঘর আবারও মনে করিয়ে দেয়—দর্শকের সাথে তাঁর সম্পর্ক কেবল পর্দার চরিত্রে সীমাবদ্ধ নয়। সময়ের সাথে সেই সম্পর্কের ধরন পরিবর্তিত হয়েছে, কিন্তু মুগ্ধতা হারায়নি।
এটি উল্লেখযোগ্য যে, মাত্র ১৭ বছর বয়সে জাকির হোসেন রাজু পরিচালিত “এ জীবন তোমার আমার” সিনেমার মাধ্যমে নায়িকা হিসেবে বড় পর্দায় অভিষেক ঘটে পূর্ণিমার। প্রথম ছবিতে তাঁর সহশিল্পী ছিলেন রিয়াজ। সেই শুরু থেকেই দর্শকের নজর কাড়েন তিনি।
এরপর একের পর এক সিনেমায় অভিনয় করে নিজের জায়গা শক্ত করেন পূর্ণিমা। মান্না, ফেরদৌস, আমিন খান, শাকিল খান এবং শাকিব খানের মতো জনপ্রিয় নায়কদের সাথে জুটি বেঁধে অভিনয় করেছেন তিনি।
তবে রিয়াজ-পূর্ণিমা জুটির জনপ্রিয়তা ছিল আলাদা। “মনের মাঝে তুমি”, “হৃদয়ের কথা”, “আকাশ ছোঁয়া ভালোবাসা”সহ বেশ কিছু সিনেমায় তাঁদের রসায়ন দর্শকের প্রশংসা পায়। বিশেষ করে “মনের মাঝে তুমি” বাণিজ্যিক সাফল্যের পাশাপাশি দর্শকের মনে স্থায়ী জায়গা করে নেয়।
শুধু চলচ্চিত্র নয়, ছোটবেলা থেকেই নাচ ও গানের সাথে যুক্ত ছিলেন পূর্ণিমা। ক্যারিয়ারের ব্যস্ত সময়েও টেলিভিশন নাটক ও টেলিফিল্মে কাজ করেছেন। “লাল নীল বেগুনী” ধারাবাহিকের মাধ্যমে টেলিভিশন দর্শকের কাছেও ব্যাপক পরিচিতি পান তিনি।
“ল্যাবরেটরি”, “নিলিমার প্রান্তে”, “অমানিশা”, “শঙ্খচিল”, “লাভ অ্যান্ড কোং”সহ বেশ কিছু নাটক ও টেলিফিল্মে তাঁর অভিনয় প্রশংসিত হয়েছে। বিজ্ঞাপনেও ছিল তাঁর সরব উপস্থিতি। গ্রামীণফোন, সিটিসেল, মেরিল বেবি লোশন, বার্জার ঝিলিকসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপনের মুখ হয়েছেন তিনি।
দীর্ঘ ক্যারিয়ারে অভিনয়ের স্বীকৃতিও পেয়েছেন পূর্ণিমা। কাজী হায়াৎ পরিচালিত “ওরা আমাকে ভালো হতে দিল না” সিনেমায় অভিনয়ের জন্য ২০১০ সালে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন তিনি।
এ ছাড়া “মনের মাঝে তুমি” (২০০৩) এবং “হৃদয়ের কথা” (২০০৬) সিনেমার জন্য মেরিল পুরস্কারও পেয়েছেন এই অভিনেত্রী।
পর্দায় অনিয়মিত, আলোচনায় নিয়মিত
বর্তমানে চলচ্চিত্রে নিয়মিত নন পূর্ণিমা। তবে তিনি অভিনয় থেকে পুরোপুরি দূরে সরে যাননি। তাঁর অভিনীত “জ্যাম” এবং “গাঙচিল” সিনেমা দুটি মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে। সিনেমা দুটিতে তাঁর সাথে জুটি বেঁধেছেন ফেরদৌস ও আরেফিন শুভ।
বড় পর্দায় দেখা না গেলেও টেলিভিশনে মাঝে মাঝে হাজির হন পূর্ণিমা। কখনো উপস্থাপনায়, কখনো কোনো অনুষ্ঠানের বিচারকের আসনে দেখা যায় তাঁকে। পাশাপাশি বিজ্ঞাপনেও তাঁর উপস্থিতি রয়েছে।
সব মিলিয়ে পূর্ণিমার ক্যারিয়ারের গল্পটা যেন সময়ের সাথে নিজেকে নতুন করে আবিষ্কারের গল্প। ১৭ বছরের তরুণী থেকে আজকের পরিণত অভিনেত্রী—পথটা দীর্ঘ। বয়স, সময় এবং চারপাশের পরিবর্তন ঘটেছে। তবে দর্শকের চোখে তাঁর সেই মুগ্ধতা অপরিবর্তিত রয়ে গেছে।
হয়তো এ কারণেই পূর্ণিমার ক্ষেত্রে বয়স সত্যিই শুধুই একটি সংখ্যা। সময় তাঁর জীবনে বছর যোগ করেছে, কিন্তু দীপ্তি কেড়ে নিতে পারেনি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন