প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
কানাডায় জনসংখ্যা বৃদ্ধির গতিকে নিয়ন্ত্রণে রাখার পর, দেশটির প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি আবারও জনসংখ্যা বাড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন, কানাডার অভিবাসন ব্যবস্থা এখন সঠিকভাবে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং প্রশ্ন উঠেছে—কবে থেকে কানাডার জনসংখ্যা ‘নিয়ন্ত্রিতভাবে’ বৃদ্ধি শুরু হবে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য নিউইয়র্ক টাইমসকে দেয়া সাক্ষাৎকারে কার্নি এসব মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, কানাডার অভিবাসন ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণে আসার পর, জনসংখ্যা বৃদ্ধির পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণের সময় এসেছে। তবে তিনি কোনো নির্দিষ্ট অভিবাসন সংখ্যা বা নতুন লক্ষ্য সম্পর্কে কিছু জানাননি।
কার্নির এই বক্তব্য এমন একটি সময়ে এসেছে যখন কানাডায় জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে। স্ট্যাটিস্টিকস কানাডার সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৬ সালের ১ জুলাই পর্যন্ত কানাডার জনসংখ্যা বেড়েছে মাত্র ১ লাখ ৮৯ হাজার ৪২৫ জন, যা ০.৫ শতাংশ। এটি ১৯৪৪–৪৫ সালের পর জুলাই-থেকে-জুলাই হিসাবে সবচেয়ে কম বার্ষিক জনসংখ্যা বৃদ্ধি।
একই সময়ে কানাডায় অস্থায়ী বাসিন্দার সংখ্যা কমেছে। ২০২৬ সালের ১ জুলাই দেশটিতে অস্থায়ী বাসিন্দার সংখ্যা ছিল প্রায় ২৭ লাখ ৭৯ হাজার ৭৭৪ জন, যা মোট জনসংখ্যার ৬.৭ শতাংশ। ২০২৪ সালের অক্টোবরের ৭.২ শতাংশের সর্বোচ্চ অবস্থান থেকে এই হার কমেছে।
বর্তমান ২০২৬–২০২৮ সালের অভিবাসন পরিকল্পনায় প্রতি বছর ৩ লাখ ৮০ হাজার স্থায়ী বাসিন্দা নেয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি অস্থায়ী বাসিন্দাদের সংখ্যা কমানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। সরকারের লক্ষ্য ২০২৭ সালের শেষ নাগাদ অস্থায়ী বাসিন্দার অনুপাত মোট জনসংখ্যার ৫ শতাংশের নিচে নামিয়ে আনা।
তবে নতুন পরিকল্পনায় এই অবস্থানের পরিবর্তন হতে পারে। আইন অনুযায়ী, ফেডারেল সরকারকে প্রতি বছর পরবর্তী কয়েক বছরের অভিবাসন লক্ষ্যমাত্রা সংসদে উপস্থাপন করতে হয়। সেই হিসেবে আগামী ১ নভেম্বরের মধ্যে ২০২৭–২০২৯ সালের ‘ইমিগ্রেশন লেভেলস প্লান’ উপস্থাপনের কথা রয়েছে। এই পরিকল্পনাতেই স্থায়ী ও অস্থায়ী অভিবাসনের নতুন লক্ষ্যমাত্রা স্পষ্ট হবে।
অভিবাসন বিশেষজ্ঞদের মধ্যে এ বিষয়ে ভিন্নমত রয়েছে। সিডি হাও ইনস্টিটিউটের ইমিগ্রেশন টার্গেট কাউন্সিল আগামী কয়েক বছরে অভিবাসন সংখ্যা আরও কমানোর সুপারিশ করেছে। অন্যদিকে, কার্নির সাম্প্রতিক বক্তব্য ইঙ্গিত দিচ্ছে, সরকার আগের ধারাবাহিক কমানোর পরিবর্তে ভবিষ্যতে জনসংখ্যা বৃদ্ধির একটি নিয়ন্ত্রিত পথ বিবেচনা করছে।
এদিকে, ২০২৫–২০২৬ সময়ে কানাডায় নতুন স্থায়ী অভিবাসীর সংখ্যা কমে প্রায় ৩ লাখ ৬৮ হাজার ২২৪ জনে নেমে এসেছে। একই সময়ে জনসংখ্যার প্রবৃদ্ধিও ব্যাপকভাবে কমেছে। ফলে আগামী নভেম্বরের নতুন অভিবাসন পরিকল্পনা কানাডার অভিবাসন নীতিতে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিতে পারে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন