প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
কৃষি ব্যাংক থেকে ঋণ না পাওয়ার কারণে হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার দেউন্দি টি কোম্পানি কর্তৃপক্ষ শ্রমিকদের বকেয়া মজুরি এবং আসন্ন দুর্গাপূজার বোনাস প্রদান করতে পারছে না। এই অবস্থার প্রতিবাদে এবং বকেয়া পাওনার দাবিতে গত রবিবার সকাল থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতি শুরু করেছেন কোম্পানির আওতাধীন চারটি চা বাগানের প্রায় পাঁচ হাজার শ্রমিক। এর ফলে বাগানগুলোর সব ধরনের কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে।
দেউন্দি টি কোম্পানির অধীনে থাকা চা বাগানগুলোর মধ্যে হবিগঞ্জের দেউন্দি, লাল চান্দ, নোয়াপাড়া এবং মৌলভীবাজার জেলার মিরথিংগা চা বাগান অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
জানা যায়, রবিবার সকাল থেকেই চার বাগানের হাজার হাজার শ্রমিক কাজে যোগ না দিয়ে চুনারুঘাটের দেউন্দি টি কোম্পানি অফিসের মূল ফটকের সামনে জড়ো হন। সেখানে তারা বকেয়া মজুরি, রেশন এবং দুর্গাপূজার বোনাসের দাবিতে বিক্ষোভ করেন। শ্রমিকদের স্পষ্ট বার্তা হলো, পাওনা টাকা পরিশোধ না করা পর্যন্ত তারা কোনো কাজে ফিরবেন না।
বিক্ষোভের বিষয়ে চা শ্রমিক নেতা প্রদীপ বোনার্জী বলেন, "আমরা দিন আনি দিন খাই। দীর্ঘদিন ধরে সাপ্তাহিক মজুরি ও রেশন বকেয়া পড়ে আছে। সামনে দুর্গাপূজা, কিন্তু বোনাস দেওয়ারও কোনো লক্ষণ নেই। বেতন-ভাতা না পেলে আমাদের সংসার চলবে কীভাবে? বাচ্চাদের লেখাপড়াও বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে।" তিনি অভিযোগ করেন, ২০২২ সাল থেকেই প্রতিবার দুর্গাপূজা আসলে কৃষি ব্যাংক দেউন্দি টি কোম্পানিকে ঋণ দিতে নানা টালবাহানা করে।
সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের চা শিল্পের বিকাশ ও সংকট নিরসনে সহায়তার কথা বললেও ব্যাংক ঋণ দিচ্ছে না। বাধ্য হয়ে শ্রমিকরা অনির্দিষ্টকালের জন্য বাগান বন্ধের ডাক দিয়েছেন। এ বিষয়ে দেউন্দি টি কোম্পানির ডেপুটি ম্যানেজার দেবাশীষ দেব রায় জানান, "দেউন্দি টি কোম্পানি বর্তমানে চরম আর্থিক সংকটের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। ব্যাংক ঋণ না পাওয়ায় শ্রমিকদের বকেয়া পাওনা ও পূজার বোনাস মেটানো সম্ভব হচ্ছে না।"
তিনি আরও বলেন, "কৃষি ব্যাংক লোন না দেওয়ায় আমরা মারাত্মক সংকটে পড়েছি। তবে আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি, যাতে দ্রুতই কোনো সুরাহা করে শ্রমিকদের বকেয়া মজুরি ও পূজার বোনাস পরিশোধ করা যায়।" এদিকে, চা মৌসুমের এই সময়ে হঠাৎ বাগান বন্ধ হয়ে যাওয়ায় উৎপাদনে ধস নামার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, পাশাপাশি বকেয়া পাওনা না পেয়ে পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর দিন কাটাচ্ছেন হাজার হাজার চা শ্রমিক।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন