প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
রাজধানীর মহাখালীর ইউনিভার্সেল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভুল চিকিৎসা ও অতিরিক্ত মাত্রার (ওভারডোজ) অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের কারণে ৪ বছর ৬ মাস বয়সী এক শিশুর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। মৃত শিশুটির নাম আভান। তার বাবা মৃদুল ইসলাম পেশায় একজন গণমাধ্যমকর্মী।
স্বজনদের অভিযোগ, শিশুটির মৃত্যু ঘটেছে ভুল চিকিৎসা, দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসকের সরাসরি অনুপস্থিতি এবং চরম অবহেলার কারণে। এ ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছে পরিবার।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত ২৮ সেপ্টেম্বর জ্বর ও পেটে ব্যথা নিয়ে শিশু আভানকে ইউনিভার্সেল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকরা শিশুটিকে ডেঙ্গু রোগী হিসেবে সন্দেহ করে চিকিৎসা শুরু করেন। তবে হাসপাতালের একাধিক মেডিক্যাল পরীক্ষায় বারবারই ডেঙ্গু রিপোর্ট ‘নেগেটিভ’ আসে। নেগেটিভ রিপোর্ট আসার পরও চিকিৎসা অব্যাহত রাখা হয় বলে অভিযোগ পরিবারের।
গত ২ অক্টোবর, কোনো সুস্পষ্ট বা যৌক্তিক কারণ ব্যাখ্যা না করেই শিশুটিকে হঠাৎ নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) স্থানান্তর করা হয়। আইসিইউতে নেওয়ার পরও সেখানে দায়িত্বপ্রাপ্ত মূল বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক সশরীরে উপস্থিত ছিলেন না। তিনি মূলত টেলিফোনের মাধ্যমে দিকনির্দেশনা দিচ্ছিলেন এবং সেভাবেই শিশুটির চিকিৎসা চলছিল। ফলে শিশুটির শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হতে থাকে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বারবার শিশুটির অবস্থার উন্নতির আশ্বাস দিলেও আজ ৩ অক্টোবর বিকেল আনুমানিক ৫টার দিকে শিশুটি মারা যায়।
পরিবারের অভিযোগ, চিকিৎসাধীন শিশুটিকে অতিরিক্ত মাত্রার (ওভারডোজ) অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া হয়েছিল। এর ফলস্বরূপ সে মারাত্মক ‘শক সিন্ড্রোম’-এ আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। নিজেদের ভুলের দায় এড়াতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ প্রথমে চিকিৎসার কেস সামারিসহ প্রয়োজনীয় মেডিক্যাল রিপোর্টগুলো পরিবারের কাছে দিতে অস্বীকৃতি জানায়। পরে স্বজনরা চাপ প্রয়োগ করে রিপোর্টগুলো সংগ্রহ করেন। সেই মেডিক্যাল নথিপত্রে শিশুটির রক্তে ব্যাকটেরিয়াল ইনফেকশন এবং শক সিন্ড্রোমের তথ্য উঠে আসে, যা পরিবারের ভুল চিকিৎসার সন্দেহের ভিত্তিকেই জোরালো করছে।
হাসপাতাল থেকে মরদেহ নিয়ে স্বজনরা ইতোমধ্যে তাদের গ্রামের বাড়ির উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে পরিবারে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। এই অপচিকিৎসা ও অবহেলার সঙ্গে জড়িত চিকিৎসক ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন শোকাহত স্বজনরা।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন