প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভেনেজুয়েলার বিশাল তেলসম্পদের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের অংশীদারিত্ব নিশ্চিত করে একটি বড় চুক্তির ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি এই চুক্তিকে ‘বিশ্বের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় তেল চুক্তি’ হিসেবে অভিহিত করেছেন, তবে এর অনেক গুরুত্বপূর্ণ দিক এখনো অস্পষ্ট রয়ে গেছে। পুরো চুক্তির নথি এখনও প্রকাশ করা হয়নি।
শুক্রবার রাতে ট্রাম্প এই চুক্তির কথা জানান। এতে উল্লেখ করা হয়েছে ভেনেজুয়েলার ১৭টি তেলক্ষেত্রের উন্নয়ন, যেখানে ৬৫ বিলিয়ন ব্যারেল তেল মজুতের সম্ভাবনা রয়েছে। ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজের তথ্য অনুযায়ী, এই চুক্তির মাধ্যমে দেশটির তেলশিল্পে ১০০ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত বিনিয়োগ আসার সম্ভাবনা রয়েছে। সেইসাথে, ভেনেজুয়েলা ২০৯ বিলিয়ন ডলারের বেশি কর রাজস্ব পেতে পারে।
চুক্তির শর্তানুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ও ভেনেজুয়েলার একটি বেসরকারি পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান যৌথভাবে নতুন একটি কোম্পানি গঠন করেছে। এই কোম্পানিকে অনুন্নত তেলক্ষেত্রগুলোর অধিকার ১০০ বছরের জন্য প্রদান করা হয়েছে।
একজন মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, নতুন কোম্পানির কার্যকর উৎপাদনের ৫৫ শতাংশ যুক্তরাষ্ট্র পাবে। এই অংশের মধ্যে মালিকানার অংশীদারিত্ব এবং উৎপাদন খরচে তেল কেনার অধিকার অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তবে এই ৫৫ শতাংশের মধ্যে কতটা মালিকানা এবং কতটা তেল কেনার অধিকার, তা এখনও পরিষ্কার নয়।
চুক্তির আরেকটি বড় প্রশ্ন হলো বিনিয়োগের অর্থের উৎস কী হবে। ভেনেজুয়েলার তেল অবকাঠামো দীর্ঘদিন ধরে জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে। ফলে উৎপাদন বাড়াতে কয়েক বছর এবং বিপুল অর্থের প্রয়োজন হতে পারে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট তেলের উৎপাদন বাড়িয়ে যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দাম কমানোর কথা বললেও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অল্প সময়ে এর প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা কম।
নিউইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের এনার্জি, ক্লাইমেট জাস্টিস অ্যান্ড সাসটেইনেবিলিটি ল্যাবের পরিচালক অ্যামি মায়ার্স জ্যাফে মন্তব্য করেছেন, দীর্ঘমেয়াদে এই চুক্তি সহায়ক হতে পারে। তবে দ্রুত উৎপাদন বাড়িয়ে যুক্তরাষ্ট্রের খুচরা জ্বালানির দামে তাৎক্ষণিক পরিবর্তন আনা সম্ভব হবে না।
ভেনেজুয়েলায়ও এই চুক্তির বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়েছে। দেশটির অনেকের মতে, সরকারের পক্ষ থেকে এতদিন বলা হয়েছে যে দেশের প্রাকৃতিক সম্পদ দেশের মানুষের জন্য। তাই যুক্তরাষ্ট্রকে তেলসম্পদে প্রবেশাধিকার দেওয়ার বিষয়টি তাদের কাছে বিশ্বাসঘাতকতার মতো মনে হচ্ছে।
হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এবং ভেনেজুয়েলার সাবেক পরিকল্পনামন্ত্রী রিকার্ডো হাউসমান চুক্তিটিকে ‘লজ্জাজনক চুক্তি’ বলে অভিহিত করেছেন। তার দাবি, ভেনেজুয়েলার বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের এমন চুক্তি করার বৈধতা নেই।
যুক্তরাষ্ট্রেও এই চুক্তি নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। ট্রাম্পের সমর্থকেরা এটিকে ঐতিহাসিক চুক্তি হিসেবে দেখছেন। অন্যদিকে, ডেমোক্র্যাটরা অভিযোগ করেছেন, ভেনেজুয়েলায় মার্কিন সামরিক পদক্ষেপের পেছনে দেশটির তেলসম্পদ দখলের উদ্দেশ্য ছিল।
চুক্তির আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এখনও অজানা রয়ে গেছে। বেসরকারি পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানের পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়নে কত অর্থ লাগবে এবং সেই অর্থ কে দেবে, সেটিও স্পষ্ট নয়। যুক্তরাষ্ট্রের অংশীদারিত্বের সঠিক কাঠামোও পরিষ্কার করা হয়নি।
ভেনেজুয়েলায় সক্রিয় একমাত্র মার্কিন তেল কোম্পানি শেভরন এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। এক্সনমোবিলও কোনো মন্তব্য করেনি।
বিশ্লেষকদের মতে, ভেনেজুয়েলার তেল উৎপাদন বাড়ানোর সুযোগ থাকলেও এত বড় বিনিয়োগ দ্রুত বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়। রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা, ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো এবং বিনিয়োগের ঝুঁকির কারণে বড় মার্কিন তেল কোম্পানিগুলো এই খাতে কতটা আগ্রহী হবে, সেটিও এখন বড় প্রশ্ন।
সূত্র:
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন