প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ইসরাইলি বিজ্ঞাপনপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ডিসকভার-টেকের সহযোগিতায় আল-জাজিরা এবং অন্যান্য বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ব্যবহৃত অসংখ্য ডিভাইসে গোপনে নজরদারি চালানোর জন্য ক্ষতিকর সফটওয়্যার ইনস্টল করা হয়েছে। এই সফটওয়্যারটি ডিভাইসে থাকা ব্যক্তিগত নথি, ই-মেইল, বার্তা এবং ব্রাউজারের তথ্য সংগ্রহ করতে সক্ষম। ব্যবহারকারীর অজান্তে মাইক্রোফোন ও ওয়েবক্যামের মাধ্যমেও তথ্য নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে এসব ডিভাইসে এই সফটওয়্যারটি প্রবেশ করানো হয়েছে, যেখানে ব্যবহারকারীদের কোনো লিংকে ক্লিক করার প্রয়োজন হয়নি।
বৃহস্পতিবার প্রকাশিত একটি তদন্ত প্রতিবেদনে এই তথ্যগুলো জানানো হয়েছে, যা টরন্টো বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণাপ্রতিষ্ঠান সিটিজেন ল্যাব দ্বারা তৈরি করা হয়েছে।
আল-জাজিরার নিজস্ব তদন্তের ভিত্তিতে এই অনুসন্ধান পরিচালিত হয়েছে। এতে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, ইসরাইলি নজরদারি সফটওয়্যার নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ক্যান্ডিরুর তৈরি ক্ষতিকর সফটওয়্যার আক্রান্ত ডিভাইসগুলোতে ইনস্টল করা হয়েছিল। ২০২১ সালে যুক্তরাষ্ট্র সরকার ক্যান্ডিরুকে ক্ষতিকর সাইবার কার্যক্রমের অভিযোগে কালো তালিকাভুক্ত করে।
আল-জাজিরা মিডিয়া নেটওয়ার্ক বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে তাদের কয়েকজন কর্মীর ওপর এই ধরনের নজরদারি হামলার নিন্দা জানিয়েছে। একই সঙ্গে কর্মী ও প্রযুক্তিব্যবস্থার সুরক্ষা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, সাংবাদিকদের লক্ষ্যবস্তু করা সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর আঘাত। এ ঘটনার জন্য দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনার আহ্বানও জানানো হয়েছে।
সিটিজেন ল্যাবের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ডিসকভার-টেক নজরদারির সফটওয়্যারযুক্ত বিজ্ঞাপন কিনেছিল। পরে সেই বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে ক্যান্ডিরুর তৈরি ক্ষতিকর সফটওয়্যার ডিভাইসগুলোতে প্রবেশ করানো হয়। বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে লক্ষ্যভিত্তিক হামলার এটি প্রথম শনাক্ত হওয়া ঘটনা বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এই পদ্ধতিকে ‘জিরো-ক্লিক’ হামলা বলা হয়, যেখানে ব্যবহারকারীকে কোনো লিংকে ক্লিক করতে বা ফাইল ডাউনলোড করতে হয় না। আক্রান্ত বিজ্ঞাপনটি ডিভাইসে প্রদর্শিত হলেই সেটিতে ক্ষতিকর সফটওয়্যার প্রবেশ করতে পারে।
এই সফটওয়্যারটি ডিভাইসে থাকা বিভিন্ন ধরনের সংবেদনশীল তথ্য সংগ্রহ করতে সক্ষম। এর মধ্যে রয়েছে ফাইল, নথিপত্র, ব্রাউজারের কুকি, বুকমার্ক এবং সংরক্ষিত প্রবেশসংক্রান্ত তথ্য। ব্যবহারকারী কিবোর্ডে কী লিখছেন, তা রেকর্ড করা, পর্দার ছবি তোলা এবং মাইক্রোফোন ও ওয়েবক্যামের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করাও সম্ভব। জনপ্রিয় যোগাযোগমাধ্যমে থাকা ই-মেইল ও বার্তাও হাতিয়ে নিতে পারে সফটওয়্যারটি।
নজরদারির বিষয়টি যাতে সহজে ধরা না পড়ে, সেজন্য সফটওয়্যারটি এনক্রিপ্ট করা যোগাযোগব্যবস্থা ব্যবহার করে। সংগৃহীত তথ্য ছোট ছোট অংশে ভাগ করে বিভিন্ন সময়ে পাঠানো হয়, যা নিরাপত্তাব্যবস্থার নজর এড়িয়ে তথ্য পাচার করা সহজ করে। ব্যবহৃত নির্দিষ্ট নজরদারি প্রযুক্তিটির দাম কয়েক মিলিয়ন ডলার বলে ধারণা করা হচ্ছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ক্যান্ডিরুর মতো প্রতিষ্ঠানের তৈরি প্রযুক্তি এবং সেগুলোর গ্রাহকেরা আধুনিক সাইবার নিরাপত্তাব্যবস্থা এড়িয়ে যাওয়ার জটিল কৌশল ব্যবহার করছে। আল-জাজিরার সাংবাদিকদের পাশাপাশি আরও বহু মানুষের ডিভাইস এই হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছিল। তাদের মধ্যে স্পর্শকাতর বিষয়ে প্রতিবেদন করা কয়েকজন সাংবাদিকও রয়েছেন।
আল-জাজিরার নিজস্ব প্রযুক্তি দল ২০২৪ সালে প্রথম কয়েকজন সাংবাদিকের ব্যবহৃত ডিভাইসে অস্বাভাবিক কার্যক্রম শনাক্ত করে। ২০২৫ সালেও এ ধরনের কার্যক্রম চলতে থাকে। এসব ঘটনার পেছনে নজরদারির সফটওয়্যার থাকার সন্দেহ থেকে বিস্তারিত তদন্তের জন্য সিটিজেন ল্যাবের সঙ্গে যোগাযোগ করে আল-জাজিরা।
বৃহস্পতিবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে সিটিজেন ল্যাব জানায়, হামলার সময় আল-জাজিরার সংগ্রহ করা নেটওয়ার্কের তথ্য বিশ্লেষণ করে হামলাটি কীভাবে চালানো হয়েছিল, তার একটি স্পষ্ট সময়ভিত্তিক চিত্র পাওয়া গেছে।
আল-জাজিরা বলেছে, সিটিজেন ল্যাবের সঙ্গে সহযোগিতার ফলে হামলাগুলো যাচাই করা এবং সেগুলো সম্পর্কে জনসমক্ষে তথ্য প্রকাশ করা সম্ভব হয়েছে।
এদিকে নিউইয়র্কভিত্তিক বিজ্ঞাপন নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান কনফিয়্যান্টের পৃথক এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ডিসকভার-টেকের কিছু বিজ্ঞাপন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা সদর দপ্তর পেন্টাগন, জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থা (আইএইএ) এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের ব্যবহৃত গুরুত্বপূর্ণ নেটওয়ার্কেও দেখা গেছে।
ক্যান্ডিরুর তৈরি নজরদারির সফটওয়্যার এর আগেও বিভিন্ন দেশে সাংবাদিক, ভিন্নমতাবলম্বী এবং অন্যান্য ব্যক্তিদের ওপর নজরদারিতে ব্যবহার করা হয়েছে। এ ধরনের নজরদারির শিকার হয়েছেন অন্তত ১০০ জন।
এএম
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন