প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ভারতের কিংবদন্তি সানাইবাদক ও ভারতরত্নপ্রাপ্ত ওস্তাদ বিসমিল্লাহ খানের বাড়ির একটি অংশ গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনা উত্তর প্রদেশের বারানসিতে ঘটেছে। সমাজবাদী পার্টির (এসপি) প্রধান ও বিরোধী নেতা অখিলেশ যাদব বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তবে স্থানীয় পৌর কর্তৃপক্ষের দাবি, সরকারি উদ্যোগে নয়, বরং পরিবারের সদস্যরাই নিজেদের সিদ্ধান্তে বাড়িটির একাংশ ভেঙেছেন।
শনিবার সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে একটি পোস্টে অখিলেশ যাদব বাড়ি ভাঙার ঘটনাকে ‘চরম নিন্দনীয়’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি লেখেন, ‘যাদের জন্য সানাই বাজেনি, তাদের কাছ থেকে আর কী-ই বা আশা করা যায়!’
অখিলেশ যাদব অভিযোগ করেছেন যে, বিজেপি এবং তাদের সংকীর্ণমনা সহযোগীরা সব সময় শিল্প ও শিল্পীদের বিরোধিতা করে। কারণ, সৃজনশীল মানুষেরাই সামাজিক পরিবর্তনের ভিত্তি তৈরি করেন। ইতিবাচক শিল্প মানুষের মধ্যে সহমর্মিতা ও সহনশীলতা বাড়ায়। তাই তারা শিল্পকে নিজেদের রাজনৈতিক এজেন্ডার বাধা মনে করে অথবা নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করতে চায়।
তিনি আরও বলেন, ভারতরত্নপ্রাপ্ত একজন ব্যক্তির অভিন্ন ঐতিহ্য ধ্বংস করা মানে শুধুমাত্র তার মর্যাদা ও সম্মান নষ্ট করা নয়, বরং ভারতের সম্মানও ক্ষুণ্ন করা। ঘৃণার রাজনীতিতে জড়িয়ে বিজেপি দেশের ক্ষতি করছে। ক্ষমতায় গেলে ওস্তাদ বিসমিল্লাহ খানের সংগীত ঐতিহ্য সংরক্ষণের জন্য একটি ‘শ্রবণ জাদুঘর’ নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দেন অখিলেশ।
বারানসি পৌর করপোরেশনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বাড়িটিতে জাদুঘর প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু পরিবার তাতে সম্মতি দেয়নি। বরং ভবনটির জরাজীর্ণ অবস্থার কথা জানিয়ে তারা নিজেরাই সেটি ভেঙে নতুন করে নির্মাণের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
পৌর করপোরেশনের জনসংযোগ কর্মকর্তা সন্দীপ শ্রীবাস্তব জানান, শহরের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের স্মৃতি ও অবদান সংরক্ষণে একটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। এই প্রকল্পের আওতায় তাদের বাড়িতে যাওয়ার সড়কগুলো সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জীবন ও অবদানের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সাজানো হবে এবং প্রতিটি বাড়ির একটি কক্ষ জাদুঘরে রূপান্তরের পরিকল্পনা রয়েছে।
এ প্রকল্পের অংশ হিসেবে ভারতরত্ন ওস্তাদ বিসমিল্লাহ খানের বাড়িতে জাদুঘর প্রতিষ্ঠার বিষয়ে তার পরিবারের সঙ্গে আলোচনা হয়েছিল। কিন্তু পরিবার প্রস্তাবে সম্মতি দেয়নি। ভবনটি জরাজীর্ণ হওয়ায় তারা নিজেরাই সেটি ভেঙে পুনর্নির্মাণ করতে চেয়েছেন।
সূত্র: টেলিগ্রাফ ইন্ডিয়া
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন