প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এমপি বলেছেন, সরকার চা বাগান এলাকার দীর্ঘদিনের স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা এবং ভেঙে পড়া যোগাযোগ ব্যবস্থার সংকট দ্রুত সমাধানের জন্য সুনির্দিষ্ট ও টেকসই পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। একই সঙ্গে, আন্তর্জাতিক বাজারের অভিঘাত মোকাবেলা করে দেশে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ শৃঙ্খলা অব্যাহত রাখতে এবং বাজার নিয়ন্ত্রণে কঠোর মনিটরিং চালানো হচ্ছে।
মন্ত্রী আরও জানান, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির ফলে নিত্যপণ্যের দামে তেমন কোনো প্রভাব পড়বে না। অসাধু ব্যবসায়ীরা যাতে এই দাম বাড়ানোর সুযোগ নিতে না পারে, সেজন্য বাজার তদারকি আরও জোরদার করা হবে। সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়লেও পার্শ্ববর্তী দেশে পাচারের কোনো সম্ভাবনা নেই। বিরোধী দল শাসনব্যবস্থার একটি অংশ উল্লেখ করে তিনি তাদেরকে মুখরোচক বক্তব্য না দিয়ে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের পরামর্শ দেন।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সিলেট সদর উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এবং সিএসআর তহবিলের সহযোগিতায় প্রতিকূল আবহাওয়ায় কর্মরত চা-শ্রমিকদের মাঝে প্রধানমন্ত্রীর উপহার হিসেবে সুরক্ষা সামগ্রী হিসেবে রেইনকোট বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন মন্ত্রী।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, “আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশে ফেরার পর সিলেট সফরকালে সরজমিনে চা বাগান ঘুরে দেখেন। প্রচণ্ড বৃষ্টি ও কাদার মধ্যে চা শ্রমিক মা-বোন এবং ভাইদের কষ্ট করে কাজ করতে দেখে তিনি ব্যথিত হন।
সেখান থেকেই তাঁদের সুরক্ষায় এই রেইনকোট বিতরণের চিন্তাভাবনা শুরু হয়।”
চা-শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নে সরকারের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, বাগানে আকস্মিক জটিল রোগীদের দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছাতে ২-৩টি বাগান নিয়ে একটি করে জরুরি অ্যাম্বুলেন্স সেবার ব্যবস্থা করা হচ্ছে, যাতে মুমূর্ষু রোগীদের দ্রুত সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা যায়। বাগানে প্রয়োজনীয় প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অভাব দূর করতে জাতীয় ভিত্তিতে বিশেষ প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাগণ (ইউএনও) স্থান নির্ধারণসহ প্রক্রিয়া শুরু করেছেন।
পর্যায়ক্রমে চাহিদা অনুযায়ী স্কুল নির্মাণ করা হবে, যাতে নতুন প্রজন্ম উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করে বিভিন্ন বৃত্তিমূলক পেশায় যুক্ত হতে পারে। প্রাথমিক চিকিৎসা ও প্রসূতি মায়েদের দ্রুত চিকিৎসার সুবিধার্থে বাগানগুলোতে কমিউনিটি ক্লিনিক বা হেলথ সেন্টার গড়ে তোলা হবে। চা বাগান এলাকার কাঁচা ও জীর্ণ রাস্তা সংস্কার করে টেকসই সড়ক নির্মাণে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সঙ্গে আলোচনা সম্পন্ন হয়েছে।
আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি প্রসঙ্গে মন্ত্রী জানান, গত ২০ দিনের ব্যবধানে বিশ্ববাজারে ব্রেন্ট ক্রুড ও লাইট সুইট ক্রুড অয়েলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৮০-৮৫ ডলার থেকে বেড়ে ১০৬ ডলারে পৌঁছেছে। তবে এই মূল্যের সম্ভাব্য ধাক্কা সামলাতে আমদানিকারক ও ব্যবসায়ী সমিতিগুলোর সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং পণ্যের সরবরাহ শৃঙ্খলা নিরবচ্ছিন্ন রাখার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, এফএসআরইউ’র যান্ত্রিক ত্রুটি কেটে যাওয়ায় সয়াবিন তেল রিফাইনারি ও চিনি প্রসেসিং কারখানাগুলো এখন পূর্ণ উদ্যমে উৎপাদনে ফিরেছে। ফলে বাজারে নিত্যপণ্যের কোনো সংকট হবে না। কোনো অসাধু চক্র যাতে দাম বাড়াতে না পারে, সে জন্য ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, জেলা প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের যৌথ উদ্যোগে বাজার তদারকি আরও নিবিড় ও কঠোর করা হচ্ছে।
এ ছাড়া সীমান্ত দিয়ে পণ্য পাচার প্রতিরোধে বিজিবি ও স্থানীয় প্রশাসন সজাগ রয়েছে। ধুঁকতে থাকা চা শিল্পকে পুনরায় স্বমহিমায় ফেরাতে এবং অর্থনৈতিকভাবে টেকসই ও লাভজনক করতে নানা উদ্যোগের কথা জানান মন্ত্রী। যেসব বাগানের কাছাকাছি বিদ্যুৎ সঞ্চালন বা ইভাকুয়েশন লাইন রয়েছে, সেগুলোতে সোলার পাওয়ার প্ল্যান্ট (সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্র) স্থাপনে সরকার সহায়তা ও উৎসাহ দেবে। এ ছাড়া মূল চা গাছের ক্ষতি না করে বাগানের অব্যবহৃত উপযোগী জায়গায় মসলাজাতীয় ফসল ও টিম্বার (কাষ্ঠল গাছ) চাষের মাধ্যমে বিকল্প আয়ের পথ তৈরি করা হচ্ছে।
২০১৫ সালের পর দীর্ঘ ১১ বছরে মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে সরকারি কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধির সিদ্ধান্তকে সংগত উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, অর্থনীতিতে হঠাৎ কোনো আকস্মিক চাপ যাতে না পড়ে এবং নতুন করে মূল্যস্ফীতি না বাড়ে, সে জন্য একবারে না দিয়ে ধাপে ধাপে এটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। পাশাপাশি মুক্ত বাজার অর্থনীতির নিয়মে বেসরকারি খাতও বেতন সমন্বয় করছে। শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকা বন্ধ ও অলাভজনক রাষ্ট্রায়ত্ত কারখানাগুলোকে নতুন বেসরকারি বিনিয়োগের আওতায় এনে সচল করার পরিকল্পনা রয়েছে। গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় বিরোধী দলগুলোর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে মন্ত্রী কেবল মুখরোচক কথা না বলে দেশের গণতান্ত্রিক চর্চা ও জনগণের কল্যাণে কার্যকর ও গঠনমূলক পরামর্শ দেওয়ার আহ্বান জানান।
সিলেট জেলা প্রশাসক আবদুল্লাহ আল মামুনের সভাপতিত্বে ও সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) খোশনূর রুবাইয়াৎ-এর পরিচালনায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, জেলা পরিষদের প্রশাসক আবুল কাহের চৌধুরী শামীম, মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইন, সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরী, ফয়সল আহমদ চৌধুরী, মাহবুব কাদির শাহী, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবুল কাশেম, যুগ্ম সম্পাদক জাহেদ আহমদ, টুকেরবাজার ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শফিকুর রহমানসহ স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, চা বাগান ব্যবস্থাপক, শ্রমিক প্রতিনিধি এবং এলাকাভিত্তিক বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন