প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
জাতিসংঘ এবং মানবাধিকার সংগঠনগুলোর আপত্তি সত্ত্বেও মালয়েশিয়া প্রায় ১ হাজার ৫০০ জন মিয়ানমার নাগরিককে দেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে। মঙ্গলবার, তাদের মধ্যে শিশু এবং নারীসহ বিভিন্ন বয়সের মানুষ অন্তর্ভুক্ত ছিল।
এই প্রত্যাবাসন কার্যক্রম মিয়ানমারের সঙ্গে স্বাক্ষরিত চুক্তির আওতায় শুরু হয়েছে। তবে দেশটিতে চলমান গৃহযুদ্ধের কারণে ফেরত পাঠানো ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো।
মালয়েশিয়ার সরকার জানিয়েছে, এই প্রত্যাবাসন কর্মসূচির প্রথম ধাপ হিসেবে প্রায় ৫ হাজার মিয়ানমার নাগরিককে দেশে ফেরত পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে। তারা দাবি করেছে, প্রত্যাবাসন সম্পূর্ণরূপে স্বেচ্ছায় হচ্ছে। কিন্তু মিয়ানমারে চলমান গৃহযুদ্ধের কারণে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা এবং বিভিন্ন নাগরিক সংগঠন। তাদের আশঙ্কা, দেশে ফিরে গেলে এসব মানুষের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়তে পারে।
মঙ্গলবার সকালে মালয়েশিয়ার পেরাক রাজ্যের লুমুত নৌঘাঁটির কাছে একটি স্টেডিয়ামে নিরাপত্তা বাহিনীর গাড়িসহ বেশ কয়েকটি বাস এসে পৌঁছায়। পরে বাসগুলো বন্দরের দিকে চলে যায়। রয়টার্সের প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, বন্দরে মিয়ানমারের দুটি নৌবাহিনীর জাহাজ এবং একটি হাসপাতাল জাহাজ নোঙর করা ছিল।
মালয়েশিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা বারনামা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তার উদ্ধৃতি দিয়ে জানিয়েছে, ফেরত পাঠানো ব্যক্তিদের মধ্যে ১ হাজার ৩৭০ জন পুরুষ, ৭৯ জন নারী, ২০ জন ছেলে এবং ৭ জন মেয়ে রয়েছেন। তাদের বয়স ৮ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে।
মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মিয়ানমার সরকারই দেশে ফেরত পাঠানোর জন্য এসব ব্যক্তিকে শনাক্ত করেছে। মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, পরিচয় শনাক্তকরণ, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র তৈরি এবং যাচাইয়ের কাজ সম্পন্ন হওয়ার পর প্রত্যাবাসনের পরবর্তী ধাপগুলোও সম্পন্ন হবে।
মিয়ানমার সরকারের একজন মুখপাত্র এবং কুয়ালালামপুরে দেশটির দূতাবাসের কাছে মন্তব্য চাওয়া হলেও তারা তাৎক্ষণিকভাবে কোনো জবাব দেয়নি। তবে মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় চলতি মাসে জানিয়েছে, যাচাই করা বাস্তুচ্যুত নাগরিকদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণভাবে স্বেচ্ছায় দেশে ফেরানোর জন্য তারা বিভিন্ন দেশের সঙ্গে কাজ করছে।
ফেরত পাঠানো নিয়ে উদ্বেগ
মালয়েশিয়া জানিয়েছে, দেশটিতে থাকা মিয়ানমারের নাগরিকদের কারণে সরকারের ওপর বড় ধরনের আর্থিক চাপ সৃষ্টি হয়েছে। একই সঙ্গে তাদের উপস্থিতিকে নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি হিসেবেও দেখছে দেশটি।
২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকে মিয়ানমারে গৃহযুদ্ধ চলছে। দেশটির সেনাবাহিনী বিভিন্ন এলাকায় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে লড়াই করছে। এর ফলে দেশটিতে এখনো অস্থির পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআর বলেছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে মিয়ানমারের শরণার্থীদের নিরাপদ এবং স্থায়ীভাবে দেশে ফেরানো সম্ভব নয়। সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, যাদের ফেরত পাঠানো হচ্ছে, তাদের পরিচয় যাচাইয়ের প্রক্রিয়ায় ইউএনএইচসিআরকে যুক্ত করা হয়নি।
এদিকে মালয়েশিয়ায় শরণার্থীদের, বিশেষ করে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে স্থানীয়দের বিরোধিতা বাড়ছে। এ কারণে দেশটি সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অভিবাসন আইন আরও কঠোরভাবে প্রয়োগ করছে। ২০১৭ সালে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর দমন-পীড়নের পর অনেক রোহিঙ্গা দেশ ছেড়ে মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে আশ্রয় নেন। ওই ঘটনায় মিয়ানমারের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে গণহত্যার মামলা চলছে।
ইউএনএইচসিআরের তথ্য অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারির শেষে মালয়েশিয়ায় মিয়ানমার থেকে আসা প্রায় ১ লাখ ৯৩ হাজার নিবন্ধিত শরণার্থী ছিলেন। তাদের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ রোহিঙ্গা। চলতি বছর অনলাইনে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে ঘৃণামূলক বক্তব্য এবং মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে পড়েছে। এর ফলে রোহিঙ্গাদের হয়রানি বেড়েছে। পরিস্থিতির কারণে অনেক রোহিঙ্গা স্কুল বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছেন।
মঙ্গলবার যাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো হয়েছে, তাদের জাতিগত পরিচয় বা শরণার্থী হিসেবে তাদের অবস্থান সম্পর্কে মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিস্তারিত কিছু জানায়নি। তাদের মধ্যে রোহিঙ্গা আছেন কি না, সেটিও স্পষ্ট করা হয়নি।
মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মালয়েশিয়ায় আশ্রয়প্রার্থীর সংখ্যা কমানোর সরকারি উদ্যোগের অংশ হিসেবে এই প্রত্যাবাসন করা হচ্ছে। বিশেষ করে মিয়ানমার থেকে আসা আশ্রয়প্রার্থীদের সংখ্যা কমানোর দিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। দেশটিতে নিবন্ধিত মোট শরণার্থীর ৯৫ শতাংশের বেশি মিয়ানমার থেকে এসেছেন বলে মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।
মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, ‘কয়েক দশক ধরে এই সমস্যার কোনো কার্যকর সমাধান হয়নি। এর ফলে দেশের ওপর বড় আর্থিক চাপ তৈরি হয়েছে, গুরুতর সামাজিক সংকট দেখা দিয়েছে এবং মালয়েশিয়ার জন্য নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।’
এ বিষয়ে মিয়ানমার সরকারের একজন মুখপাত্র এবং কুয়ালালামপুরে দেশটির দূতাবাসের কাছে মন্তব্য চাওয়া হলেও তারা তাৎক্ষণিক কোনো জবাব দেয়নি। তবে মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় চলতি মাসে জানিয়েছে, যাচাই করা বাস্তুচ্যুত নাগরিকদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণভাবে স্বেচ্ছায় দেশে ফেরানোর জন্য তারা বিভিন্ন দেশের সঙ্গে কাজ করছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন