প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ফিলিস্তিনের অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরাইলের বিতর্কিত ই-১ বসতি প্রকল্পের সম্প্রসারণ বন্ধের দাবি জুনথ করেছে যুক্তরাজ্য। যুক্তরাজ্যের মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক মন্ত্রী স্টিফেন ডাউটি ইসরাইলি সরকারের নতুন নির্মাণ দরপত্রের তীব্র নিন্দা জানিয়ে প্রকল্পটি বাতিল করার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন।
ডাউটি বলেন, ই-১ প্রকল্পটি ‘দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানকে দুর্বল করার লক্ষ্যে পরিকল্পিত ও ধ্বংসাত্মক পদক্ষেপ’। তিনি ইসরাইলি সরকারকে জরুরি ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের আহ্বান জানান।
জেরুজালেমের কাছে প্রায় ১২ বর্গকিলোমিটার এলাকাজুড়ে ই-১ বসতি প্রকল্প নেয়া হয়েছে। যদি এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়, তখন সেখানে কয়েক হাজার নতুন বসতি ইউনিট নির্মাণ করা হবে। এর ফলে অধিকৃত পশ্চিম তীর কার্যত দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়বে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করা হচ্ছে।
এর আগে যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ডও ওই প্রকল্পের কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি ইসরাইলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদিয়ন সারের প্রতি প্রকল্পটি অবিলম্বে বন্ধ করার আহ্বান করেছেন। একই সঙ্গে পশ্চিম তীরে ইসরাইলের সব বসতিকে আন্তর্জাতিক আইনের ‘স্পষ্ট লঙ্ঘন’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন তিনি।
যুক্তরাজ্য ইসরাইল সরকারের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানাতে দেশটির ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে। মিলিব্যান্ড জানিয়েছেন, অবৈধ বসতি সম্প্রসারণ ঠেকাতে আগামী কিছু সপ্তাহের মধ্যে নতুন পদক্ষেপ গ্রহণ করবে লন্ডন।
ইসরাইল সরকারের গত বছর অনুমোদিত ই-১ পরিকল্পনার আওতায় অধিকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের প্রায় ১২ বর্গকিলোমিটার (৪.৬ বর্গমাইল) জমিতে ৩ হাজার ৪০০টির বেশি আবাসন ইউনিট নির্মাণের লক্ষ্যে কাজ করা হবে।
এই প্রকল্পের জন্য দরপত্র জমা দেওয়ার সময়সীমা ১৯ অক্টোবর শেষ হওয়ার কথা। বাংলাদেশে ২৭ অক্টোবর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার প্রস্তুতি চলছে। নির্বাচনের আগেই দরপত্র প্রক্রিয়া শেষ হবে বলে আশা করা হচ্ছে। ওই নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও তার সরকারের প্রতি জনসমর্থন কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
অধিকৃত পশ্চিম তীরের হিজমা থেকে আল জাজিরার প্রতিবেদক নিদা ইব্রাহিম বলেন, ই-১ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে ইসরাইল-ফিলিস্তিন সংঘাতের দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের ‘শেষ পেরেক’ হবে এটি।
তিনি বলেন, ‘ইসরাইলি সরকার এরই মধ্যে কয়েকবার ই-১ প্রকল্পের কাজ পিছিয়েছে। কিন্তু এখন আমরা এটি বাস্তবে মাটিতে কার্যকর হতে দেখছি।’ তিনি আরো বলেন, ‘ইসরাইলিদের চূড়ান্ত লক্ষ্য হলো ফিলিস্তিনিদের চলে যেতে বাধ্য করা।’
গত মঙ্গলবার, ইসরাইলের নির্মাণ ও আবাসন মন্ত্রণালয় ১ হাজার ২৩৪টি আবাসন ইউনিট নির্মাণের জন্য দরপত্র প্রক্রিয়া শুরুর অনুমোদন দিয়েছে। ইসরাইলি মানবাধিকার সংগঠন ইর আমিম এবং শান্তির পক্ষে কাজ করা সংগঠন পিস নাউ জানিয়েছে, ই-১ এলাকার জন্য অনুমোদিত দুটি নির্মাণ পরিকল্পনার মধ্যে একটি পরিকল্পনার আওতায় এই দরপত্র দেওয়া হয়েছে।
এক বিবৃতিতে ইর আমিম বলেছে, প্রকল্পটির আংশিক বাস্তবায়নও ‘মাটিতে অপরিবর্তনীয় বাস্তবতা তৈরি করবে’ এবং ওই এলাকার ভৌগোলিক ও কৌশলগত চরিত্রে মৌলিক পরিবর্তন আনবে। এর ফলে পশ্চিম তীরের উত্তরাঞ্চল থেকে দক্ষিণাঞ্চল বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে এবং পূর্ব জেরুজালেম বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে।
ইসরাইলের অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোত্রিচকে উল্লেখ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে পিস নাউ অভিযোগ করেছে, এই বসতি প্রকল্পের মাধ্যমে ‘নেতানিয়াহু-স্মোত্রিচ সরকার’ দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানকে ‘কবর দেওয়ার চেষ্টা করছে’।
পিস নাউ বলেছে, ‘নির্বাচনী প্রচারণার মাঝেই সরকার বসতি সম্প্রসারণপন্থী ডানপন্থীদের সংযুক্তিকরণের পরিকল্পনাকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার চেষ্টা করছে এবং পরবর্তী সরকারের হাতও বেঁধে দিতে চাইছে। রাষ্ট্রের দেওয়া স্পষ্ট প্রতিশ্রুতি লঙ্ঘন করেও এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।’
সংগঠনটি আরও বলেছে, ‘এর মূল্য শুধু কূটনৈতিক নয়। ই-১ প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং ফিলিস্তিনিদের জন্য ওই এলাকা বন্ধ করে দেওয়া খান আল-আহমারসহ কয়েক ডজন বেদুইন সম্প্রদায়কে বিচ্ছিন্ন করার হুমকি তৈরি করবে এবং তাদের নিজ জমি থেকে উচ্ছেদ হতে বাধ্য করতে পারে।’
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন