প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ময়মনসিংহে বসুন্ধরা হাউজ বিল্ডার্সের সাইট ম্যানেজারের তিন লাখ টাকা আত্মসাৎ এবং কাজের অনিয়মের প্রতিবাদ করায় প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে গতকাল রোববার কোতোয়ালি থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী সাইট ম্যানেজার শেখ মুজাহিদুল ইসলাম।
অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন– শিক্ষা প্রকৌশলী অধিদপ্তর ময়মনসিংহের সহকারী প্রকৌশলী-৩ (সিভিল) জামী আন-নাবেদ ইসলাম এবং উপসহকারী প্রকৌশলী নাজমুল শোসান।
অভিযোগের সূত্রে জানা যায়, বাদী শেখ মুজাহিদুল ইসলাম বর্তমানে বসুন্ধরা হাউজ বিল্ডার্সের অধীনে দুটি সাইটের সাইট ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত আছেন। মুক্তাগাছায় বসুন্ধরা হাউজ বিল্ডার্সের চলমান দুটি প্রকল্পের সাইট ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্ব পালন করার সময় এক মাস আগে ২ নম্বর বিবাদী নাজমুল শোসান বাদীর কাছ থেকে তিন লাখ টাকা গ্রহণ করেন এবং দুটি কাজের সম্পূর্ণ বিল পরিশোধের প্রতিশ্রুতি দেন।
ময়মনসিংহ শিক্ষা প্রকৌশল অফিসের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ তুলে বলা হয়েছে, সহকারী প্রকৌশলী জামী আন-নাবেদ ইসলাম সরকারি আনন্দ মোহন কলেজের ১০ তলা ভবন এবং ময়মনসিংহ গভর্মেন্ট ল্যাবরেটরি স্কুলের ৬ তলা ভবনের কাজে মাটির নিচে সিসি ঢালাই করার সময় নির্ধারিত বালু ব্যবহার করেননি। লাল বালুর পরিবর্তে ২ ভাগ চিকন পলেস্তারার বালু এবং ওপরে আধা ইঞ্চি মোটা বালুর প্রলেপ দিয়ে ঢালাই করান। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ওই বালুর টাকা ৬০ ও ৪০ শতাংশ অনুপাতে ভাগ করে নেন এই দুই প্রকৌশলী। এছাড়াও, ময়মনসিংহে সহকারী প্রকৌশলী জামী আন-নাবেদ ইসলামের তত্ত্বাবধানে নির্মিত অন্যান্য ভবনেও একই ধরনের অনিয়ম ঘটানো হয়েছে।
ভুক্তভোগী সাইট ম্যানেজার শেখ মুজাহিদুল ইসলাম জানান, উপসহকারী প্রকৌশলী নাজমুল শোসান বিল তুলে দেওয়ার কথা বলে যে তিন লাখ টাকা গ্রহণ করেছেন, তা ফেরত দিচ্ছেন না। টাকা চাইতে গেলে তিনি টালবাহানা করেন এবং বিভিন্ন ধরনের হুমকি প্রদান করেন।
গতকাল রোববার বেলা ১১টার দিকে ময়মনসিংহ নগরীর হরিকিশোর রায় সড়কে অভিযোগকারী মুজাহিদুল ইসলামের সঙ্গে প্রকৌশলী নাজমুল শোসানের দেখা হলে তিনি পাওনা টাকা ফেরত চান। এতে বাদীর ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন তিনি।
বক্তব্য জানতে সহকারী প্রকৌশলী জামী আন-নাবেদ ইসলামের ফোন ও হোয়াটসঅ্যাপে একাধিকবার কল ও ক্ষুদেবার্তা দেওয়া হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
প্রকৌশলী নাজমুল শোসান বলেন, ‘আমার সাইটে তাদের কোনো বিল পাওনা আছে কিনা সেটি খুঁজে দেখা লাগবে। আর আমি যদি কারও কাছে টাকা দাবি করে থাকি তাহলে সেটি আমার অফিসের ঊর্ধ্বতন ও প্রকৌশলীরা খতিয়ে দেখবেন।’
গতকাল রোববার শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর ময়মনসিংহের নির্বাহী প্রকৌশলী রাসেল মিয়া সমকালকে জানান, ঢাকায় একটি মিটিংয়ে আছেন তিনি। বিষয়টি শুনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান শাকিল বলেন, একটি অভিযোগ পেয়েছেন। তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন