প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
পটুয়াখালীর দশমিনায় উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. মাসুদ হাওলাদারের কাছে ঘুসের ৩ লাখ টাকা ফেরত চাওয়ার ঘটনা ঘটেছে গণঅধিকার পরিষদের এক নেতার মাধ্যমে।
বুধবার দুপুরে উপজেলা নির্বাচন অফিসে এই ঘটনা ঘটে। ওই দিন বিকালে এ সংক্রান্ত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়। এই ঘটনার ফলে উপজেলাজুড়ে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়েছে।
অন্যদিকে, অভিযুক্ত নির্বাচন কর্মকর্তাকে রক্ষা করার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ এবং স্থানীয় বিভিন্ন মহল তদবির চালাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বেতাগী-সানকিপুর ইউনিয়নের ৫৫নং দক্ষিণ খারিজা বেতাগী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভোটকেন্দ্র স্থান পরিবর্তন করে একই ওয়ার্ডের খারিজা বেতাগী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পুনঃস্থাপনের জন্য এমএ সজীব আহমেদ নামে একজন ব্যক্তি আবেদন করেন।
একটি ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যায়, বেতাগী-সানকিপুর ইউনিয়ন গণঅধিকার পরিষদের আহ্বায়ক মো. হারুন ব্যাপারী বুধবার দুপুরে উপজেলা নির্বাচন অফিসে প্রবেশ করেন। তিনি উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. মাসুদ হাওলাদারের সামনে দাবি করেন যে, ভোটকেন্দ্র পরিবর্তনের আবেদনের পর তিনি নির্বাচন কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং পূর্বের জায়গায় ভোটকেন্দ্র বহাল রাখার দাবি জানান।
দাবি জানানোর পর নির্বাচন কর্মকর্তা পূর্বের জায়গায় ভোটকেন্দ্র বহাল রাখার আশ্বাস দেন এবং একদিন ফোন করে তার কাছে ভোটকেন্দ্র বহালের জন্য তিন লাখ টাকা দাবি করেন।
ভাইরাল ভিডিওতে ওই গণঅধিকার পরিষদ নেতার দাবি, তিনি কালাম পাঞ্চায়েত নামে অন্য এক গণঅধিকার পরিষদ নেতার মাধ্যমে নির্বাচন কর্মকর্তাকে কিছু টাকা ঘুস দেন এবং বাকি টাকা তিনি নিজেই অফিসে গিয়ে দিয়ে আসেন। পরে ৮ অক্টোবরের খসড়া ও ২৭ অক্টোবরের চূড়ান্ত তালিকায় ভোটকেন্দ্র বহাল রাখা হয়; কিন্তু এমএ সজীব আহমেদ নির্বাচন কমিশনে আপিল করলে ২ নভেম্বর ভোটকেন্দ্র বাতিল করে সজীবের পছন্দের স্থানে পুনঃস্থাপন করা হয়।
এতে গণঅধিকার পরিষদ নেতা মো. হারুন ব্যাপারী ক্ষুব্ধ হয়ে নেতাদের নিয়ে নির্বাচন কর্মকর্তার কাছে গিয়ে টাকা ফেরত চান এবং সেই সময় ভিডিওতে নির্বাচন কর্মকর্তাকে চুপ থাকতে দেখা যায়।
ভাইরাল ভিডিওতে আরও দেখা যায়, কালাম পঞ্চায়েত নামে এক গণঅধিকার পরিষদ নেতা নির্বাচন কর্মকর্তার সামনে বলছেন, তিনি নির্বাচন কর্মকর্তাকে তার হাত দিয়ে যে ঘুস দিয়েছেন তা তিনি আগেই ফেরত নিয়েছেন।
অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. মাসুদ হাওলাদার বলেন, ভোটকেন্দ্র বহাল রাখা বা না রাখা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাজ, আমার নয়। যারা অভিযোগ করেছেন তাদের দাবি অসত্য। তিনি কারও থেকে কোনো টাকা নেননি এবং তার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করা হচ্ছে।
এদিকে বিষয়টি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে পটুয়াখালী জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ওহিদুজ্জামান মুন্সী বৃহস্পতিবার সকালে দশমিনা উপজেলা নির্বাচন কার্যালয়ে যান।
জানতে চাইলে তিনি যুগান্তরকে বলেন, অভিযোগের বিষয়টি সত্য হলে তিনি নির্বাচন কমিশনকে জানাবেন। নির্বাচন কমিশন তার বিরুদ্ধে সিদ্ধান্ত নেবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন