প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন জানিয়েছেন, দেশে বন্ধ্যাত্বের চিকিৎসায় অত্যাধুনিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ঢাকা মেডিকেল কলেজের ইনফার্টিলিটি সেন্টারে প্রয়োজনীয় আধুনিক যন্ত্রপাতি স্থাপনের জন্য দ্রুত উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। তিনি বলেন, "আগামী জাতীয় বাজেটে এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে আমি সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাবো।" একইসঙ্গে তিনি বন্ধ্যাত্ব চিকিৎসায় বিশ্বমানের দক্ষ চিকিৎসক তৈরির জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
আজ ঢামেক হাসপাতালে রিপ্রোডাক্টিভ অ্যান্ডোক্রাইনোলজি অ্যান্ড ইনফার্টিলিটি ইউনিটে ‘পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম’ (PCOS) সচেতনতা মাস উপলক্ষে আয়োজিত এক বৈজ্ঞানিক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এসব মন্তব্য করেন।
সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন উল্লেখ করেন, সবার জন্য মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। তিনি বলেন, "বন্ধ্যাত্বের চিকিৎসাও গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্যসেবারই একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ।" তিনি আরও বলেন, "যদি কোনো দম্পতি সন্তান জন্ম দিতে না পারে, তবে তারা সমাজে নানা ধরনের কটূক্তি ও মানসিক হয়রানির শিকার হন।" আধুনিক চিকিৎসার মাধ্যমে এ সমস্যার কার্যকর সমাধান সম্ভব বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
মন্ত্রী বলেন, দেশে বন্ধ্যাত্বের চিকিৎসা নিতে রোগীদের বিদেশমুখী প্রবণতা কমানোর ওপর গুরুত্বারোপ করা হচ্ছে। তিনি বলেন, "আমাদের দেশের চিকিৎসকেরা অত্যন্ত মেধাবী ও সক্ষম, তবুও অনেক রোগী ভারত ও থাইল্যান্ডে চিকিৎসা নিতে যাচ্ছেন, যার ফলে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা দেশের বাইরে চলে যাচ্ছে।" তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, বিদেশের সমমানের চিকিৎসা এখন দেশেই সম্ভব। রোগীদের মাঝে এই আস্থা তৈরি করতে বন্ধ্যাত্ব চিকিৎসা বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি জেলা ও গ্রাম পর্যায়ে ব্যাপক প্রচার অভিযান জোরদার করা হবে।
সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, বন্ধ্যাত্বজনিত সমস্যায় ভুগতে থাকা দম্পতিদের দেশেই আধুনিক সেবা নিতে উৎসাহিত করা হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, "যদি আমরা ৮০ শতাংশ ক্ষেত্রেও সফল হতে পারি, সেটিই দেশের স্বাস্থ্যখাতের জন্য বড় সাফল্য হবে।" এ সময় তিনি বন্ধ্যাত্ব চিকিৎসায় নিয়োজিত চিকিৎসকদের দক্ষতার প্রশংসা করেন এবং জানান, সবার সহযোগিতা পেলে তাঁর দেওয়া এসব প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে তিনি সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন।
অধ্যাপক ডা. মুসারাত সুলতানার সভাপতিত্বে উক্ত সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব ড. আ ন ম বজলুর রশীদ, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস, ঢাকা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. মো. মাজহারুল শাহীন এবং ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম ফরহাদ হোসেন। সেমিনারে মুখবন্ধ পাঠ করেন সহকারী অধ্যাপক ডা. উমা নাগ শম্পা।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন