প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি হামলায় নিহত ১২ জন ফিলিস্তিনি ফুটবলার, কোচ এবং রেফারির বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছে ইসরায়েল, যে তারা হামাস এবং ইসলামিক জিহাদের (আইজে) সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
বুধবার (২২ জুলাই) ইসরায়েলি সেনাবাহিনী নিহত ওই ১২ ব্যক্তিদের পরিচয়ের একটি তালিকা এবং ছবি প্রকাশ করে।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর দাবি, নিহতদের মধ্যে অন্তত দুইজন ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের ইসরায়েল সীমান্তে হামলায় সরাসরি জড়িত ছিলেন। তবে এই অভিযোগটিকে কঠোরভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে ফিলিস্তিন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর বিবৃতিতে বলা হয়েছে, যে ফিলিস্তিনি ফুটবলার, রেফারি এবং কোচদের এতদিন নির্দোষ বেসামরিক নাগরিক বা অ্যাথলেট হিসেবে চিত্রিত করা হচ্ছিল, তারা আসলে হামাস ও ইসলামিক জিহাদের সামরিক শাখার সন্ত্রাসী ছিলেন। প্রকাশিত তালিকায় তাদের সঠিক পরিচয় উন্মোচন করা হয়েছে।
এদিকে, ইসরায়েলি ডিফেন্স ফোর্সের (আইডিএফ) দাবির মতে, তালিকার কয়েকজন বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর শীর্ষ কমান্ড পদে ছিলেন এবং বাকিরা সশস্ত্র যোদ্ধা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
বিবৃতির সূত্রে জানা গেছে, এই তথ্যের একটি অংশ উন্মুক্ত তথ্যসূত্র (ওপেন-সোর্স) থেকে সংগৃহীত হয়েছে এবং তাদের সবাইকে ‘সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠীর সঙ্গে সম্পৃক্ত সন্ত্রাসী’ হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে।
আইডিএফের দেওয়া তালিকায় অন্যতম নাম ছিল মোহাম্মদ সামি মোহাম্মদ খাত্তাব, যিনি ফিফার একজন আন্তর্জাতিক সহকারী রেফারি হিসেবে তালিকাভুক্ত ছিলেন।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর দাবি, খাত্তাবকে একজন সাধারণ ফুটবলার হিসেবে তুলে ধরা হলেও তিনি প্রকৃতপক্ষে ইসলামিক জিহাদের ‘সেন্ট্রাল ক্যাম্পস ব্রিগেডের’ একজন সন্ত্রাসী ছিলেন।
এটির প্রমাণস্বরূপ, খাত্তাবের তিনটি ছবি প্রকাশ করেছে ইসরায়েল। ছবিগুলোর মধ্যে একটি ছবিতে তাকে ফিফা ও এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের (এএফসি) লোগো সম্বলিত জার্সিতে দেখা যায়, অন্যটিতে কালো পোশাক ও টুপি পরিধান করে এবং তৃতীয় ছবিতে তার হাতে একটি অস্ত্র দেখা যায়।
তবে এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছে ফিলিস্তিন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কর্মকর্তা বলেছেন, ফুটবল খেলোয়াড়, কোচ, রেফারি এবং ক্লাব কর্মকর্তাদের নির্বিচারে হত্যা করার মতো অপরাধ ঢাকতেই ইসরায়েল এই মিথ্যা অভিযোগের আশ্রয় নিচ্ছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদসংস্থা এএফপি জানিয়েছে, ইসরায়েলি বাহিনীর উত্থাপিত এসব অভিযোগের সত্যতা তাদের পক্ষ থেকে স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি। অন্যদিকে, এ বিষয়ে হামাস বা ইসলামিক জিহাদের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে উল্লেখ্য যে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের নজিরবিহীন হামলায় ইসরায়েলে ১,২২১ জন নিহত হন এবং ২৫১ জনকে জিম্মি করে গাজায় নিয়ে যাওয়া হয়। এর পর ইসরায়েল গাজায় সামরিক অভিযান শুরু করে। দীর্ঘ লড়াই ও সামরিক অভিযানে, হামাসের নিয়ন্ত্রিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ৭০ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে।
যুদ্ধের সময়, ফিলিস্তিনি ফুটবল কর্তৃপক্ষ ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ক্রীড়াবিদদের হত্যা এবং গাজার ক্রীড়া অবকাঠামো ধ্বংসের অভিযোগ তুলেছে। প্রতিটি ইসরায়েলি দাবি করে এসেছে যে, তারা বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্যবস্তু করে না, বরং সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো বেসামরিক অবকাঠামোকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন