প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
নড়াইলে টিকটকে করা মন্তব্যকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে তুমুল মারামারি ও রক্তপাতের একটি ঘটনা ঘটেছে। এই সংঘর্ষের ফলে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন গুরুতর আহত হয়েছেন।
শুক্রবার (৩ জুলাই) দুপুরে নড়াইল সদর উপজেলার রতডাঙ্গা গ্রামে এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনার সূচনা ঘটে। আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে নড়াইল সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নড়াইল সদর উপজেলার রতডাঙ্গা গ্রামের মল্লিক পাড়ার মন্নু মোল্লার ছেলে আশরাফুলের এবং উত্তর পাড়ার কবির ফকিরের ছেলে মিজানের মধ্যে বেশ কিছুদিন ধরে টিকটকে মন্তব্য (কমেন্ট) করার কারণে বিরোধ চলছিল। এই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ভার্চুয়াল বিরোধ এক সময় বাস্তবে রূপ নেয়। ঘটনার দিন কথাকাটাকাটি ও বাগ্বিতণ্ডার এক পর্যায়ে দুই যুবকের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হয়।
সামান্য এই হাতাহাতির ঘটনা দ্রুতই দুই পরিবারের গণ্ডি পেরিয়ে গ্রামে একটি বৃহৎ কোন্দলে রূপ নেয়। আশরাফুল এবং মিজানের পক্ষ নিয়ে মল্লিক পাড়া এবং উত্তর পাড়ার স্থানীয়রা দেশীয় অস্ত্রসজ্জিত হয়ে দুটি শিবিরে বিভক্ত হয়ে যায়। উভয় পক্ষই নিজেদের শক্তি প্রদর্শনের জন্য সংঘর্ষের জন্য প্রস্তুতি নিতে থাকে।
ইতোমধ্যে শুক্রবার বিকেলে দুই পক্ষের লোকজন রামদা, লাঠিসোঁটা ও ধারালো দেশীয় অস্ত্র নিয়ে একে অপরের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার মধ্যে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন গুরুতর আহত হন।
ঘটনার খবর পেয়ে নড়াইল সদর থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পুলিশ এবং স্থানীয়দের সহযোগিতায় আহতদের উদ্ধার করে নড়াইল জেলা হাসপাতালে পাঠানো হয়। বর্তমানে সেখানে তাদের চিকিৎসা চলছে। সংঘর্ষের পর থেকেই রতডাঙ্গা গ্রামে চরম উত্তেজনা ও থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। পুনরায় সংঘর্ষ এড়াতে ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
নড়াইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অজয় কুমার কুণ্ডু এ বিষয়ে জানিয়েছেন, "টিকটকের কমেন্ট নিয়ে দুই যুবকের মধ্যে ব্যক্তিগত বিরোধ থেকেই এই সংঘর্ষের সূচনা হয়েছে।" খবর পাওয়ার সাথে সাথে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে। আহতদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ চলমান রয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন