প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
রংপুরে শিক্ষক পরিবার হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি উত্থাপন করেছে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ। সংগঠনটি সরকারের কাছে সংসদে বিবৃতি দেওয়ার অনুরোধ জানায়।
রংপুর নগরের মাছুয়াপাড়ায় অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী এবং তার পরিবারের হত্যার ঘটনায় এই দাবি জানানো হয়েছে। শনিবার (২৯ আগস্ট) জাতীয় প্রেস ক্লাবের চত্বরে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিলের পর আয়োজিত সমাবেশে সংগঠনের নেতারা তাদের দাবি তুলে ধরেন।
নেতৃবৃন্দ মন্তব্য করেন, "একটি বিশেষ চক্র নিজেদের স্বার্থ চরিতার্থ করতে রংপুরের শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী ও তার পরিবারের হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে।" তারা বলেন, "পুলিশি তৎপরতা প্রকৃত ঘটনাকে আড়াল করার চেষ্টা করছে এবং পুলিশের দেওয়া বয়ান বিশ্বাসযোগ্য নয়।"
তারা আরও বলেন, "আমরা এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। অবিলম্বে সরকারের পক্ষ থেকে সংসদে বিবৃতি দেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।" তারা বিচার বিভাগীয় তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করে তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
নেতারা উল্লেখ করেন, "রংপুরের এই হত্যাকাণ্ড শুধু স্থানীয় সংখ্যালঘুদের মধ্যেই নয়, বরং দেশব্যাপী সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।"
এছাড়া, তারা সতর্ক করেন যে, এ ধরনের ঘটনা সংখ্যালঘুদের দেশত্যাগে প্ররোচিত করতে পারে। তারা বলেন, "এ ঘটনায় আন্তর্জাতিক পরিসরেও বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।" দেশে সাম্প্রদায়িক সহিংসতার ঘটনা এখনও চলমান রয়েছে। জুলাই মাসে পত্র-পত্রিকা থেকে পাওয়া তথ্যানুযায়ী, সারা দেশে অন্তত ৪১টি আংশিক সাম্প্রদায়িক সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে।
এর আগে, "রংপুরের হত্যাকাণ্ড রহস্যজনক : চলমান সাম্প্রদায়িক সহিংসতা থেকে সংখ্যালঘুদের মুক্তি মিলবে কোন পথে" স্লোগানের ব্যানার নিয়ে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে সংগঠনটি।
পরে প্রায় অর্ধশতাধিক সংখ্যালঘু জনতার অংশগ্রহণে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে গিয়ে শেষ হয়।
সংগঠনের অন্যতম সভাপতি নির্মল রোজারিও বিক্ষোভ মিছিলপূর্ব সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন। যুব ঐক্য পরিষদের সভাপতি শিমুল সাহা সমাবেশ পরিচালনা করেন। সমাবেশে বক্তব্য দেন কাজল দেবনাথ, ভিক্ষু সুনন্দপ্রিয়, মিলন কান্তি দত্ত, ডিএন চ্যাটার্জী, সাংবাদিক বাসুদেব ধর, মনীন্দ্র কুমার নাথ, জয়ন্তী রায়, পদ্মাবতী দেবী, অ্যাডভোকেট অপূর্ব ভট্টাচার্য, সাংবাদিক পুলক ঘটক, অতুল মণ্ডল, দিপালী চক্রবর্তী, তাপস দাস ও দিপংকর চন্দ্র শীলসহ অন্যান্য নেতারা।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন