প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বাংলাদেশ টোব্যাকো কন্ট্রোল এডভোকেটস (বিটিসিএ) সরকারি প্রতিষ্ঠানসহ দেশের সামাজিক, স্বেচ্ছাসেবী ও পরিবেশবাদী সংগঠনগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, সিগারেট ও অন্যান্য তামাক কোম্পানির কাছ থেকে বৃক্ষ, আর্থিক সহায়তা, উপহার, পৃষ্ঠপোষকতা কিংবা অন্য কোনো ধরনের সহযোগিতা গ্রহণ না করার জন্য।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে বিটিসিএ জানায়, বাংলাদেশে বিদ্যমান তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন অনুযায়ী, তামাক কোম্পানির সামাজিক দায়বদ্ধতা কর্মসূচি (সিএসআর) পরিচালনা বা এ ধরনের কর্মসূচিতে সহযোগিতার সুযোগ নেই। ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) আইন, ২০২৬-এর ধারা ৫(৩) অনুসারে, সামাজিক দায়বদ্ধতা কর্মসূচির নামে তামাক বা তামাকজাত দ্রব্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের নাম, সাইন, ট্রেডমার্ক বা প্রতীক ব্যবহার করা যাবে না। একই সঙ্গে কোনো বাণিজ্যিক গোষ্ঠী বা প্রতিষ্ঠান, অনুষ্ঠান বা কর্মসূচির নামে তামাক কোম্পানির সহায়তাও নিষিদ্ধ।
বিবৃতিতে বিটিসিএ উল্লেখ করে, সরকারের ‘৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ’ কর্মসূচিতে স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠানগুলোর অংশগ্রহণের সুযোগ নিয়ে ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো (বিএটি) বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনকে বিনামূল্যে বৃক্ষ দেওয়ার প্রস্তাব দিচ্ছে বলে তারা জানতে পেরেছে। সংগঠনটি দাবি করে যে, এসব কার্যক্রমকে সামাজিক দায়বদ্ধতা কর্মসূচি হিসেবে প্রচার করে তামাক কোম্পানিগুলো নিজেদের পরিচিতি ও সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা বাড়ানোর চেষ্টা করছে।
বিটিসিএর মতে, পরিবেশ সুরক্ষা, বৃক্ষরোপণ ও জলবায়ু মোকাবিলার মতো জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম তামাক কোম্পানির প্রচার, ব্র্যান্ড ইমেজ তৈরি বা সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা অর্জনের মাধ্যম হওয়া উচিত নয়। সরকারি কর্মকর্তা বা প্রতিষ্ঠানের সম্পৃক্ততার মাধ্যমে তামাক কোম্পানির সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা তৈরির সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, সরকারের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য ও জলবায়ু সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় উদ্যোগ। এ কর্মসূচির সঙ্গে তামাক কোম্পানির সহযোগিতা বা অংশীদারিত্ব যুক্ত হলে জনকল্যাণমূলক উদ্যোগটি তামাক কোম্পানির প্রচারণার অংশ হিসেবে ব্যবহৃত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। এ ক্ষেত্রে ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশন অন টোব্যাকো কন্ট্রোল (এফসিটিসি)-এর আর্টিকেল ৫.৩-এর নীতিমালা অনুসরণের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে সংগঠনটি।
বিটিসিএ সরকারি কর্মকর্তা ও প্রতিষ্ঠানগুলোকে তামাক কোম্পানির বাণিজ্যিক ও অন্যান্য স্বার্থ থেকে জনস্বাস্থ্য নীতি ও কর্মসূচিকে সুরক্ষিত রাখতে তামাক কোম্পানির কাছ থেকে যেকোনো ধরনের সহযোগিতা গ্রহণ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে সামাজিক, স্বেচ্ছাসেবী, পরিবেশবাদী ও অন্যান্য সংগঠনকেও তামাক কোম্পানির তথাকথিত সিএসআর কার্যক্রম সম্পর্কে সতর্ক থাকার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
বাংলাদেশ টোব্যাকো কন্ট্রোল এডভোকেটসের পক্ষে বিবৃতিদাতাদের মধ্যে রয়েছেন ইকবাল মাসুদ, সৈয়দ মাহবুবুল আলম, সুশান্ত সিনহা, আমিনুল ইসলাম সুজন, ফারহানা জামান লিজা, সৈয়দা অনন্যা রহমান, আবু রায়হান, সামিউল হাসান সজীব ও ইব্রাহিম খলিল।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন