প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও নগর উন্নয়নের অংশীদারিত্ব বাড়াতে বাংলাদেশ ও পাকিস্তান একটি ঐতিহাসিক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এই উদ্যোগের আওতায় ঢাকা ও ইসলামাবাদ দুই দেশের রাজধানী ‘সিস্টার-সিটি’ সম্পর্ক স্থাপনের একটি প্রস্তাব চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য অপেক্ষা করছে। পাশাপাশি পৌর পর্যায়ে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা আরও জোরদার করতে উভয় দেশ একমত হয়েছে।
এই বিষয়ে শনিবার (২০ জুন) ইসলামাবাদের ক্যাপিটাল ডেভেলপমেন্ট অথরিটি (সিডিএ) সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত হয়েছে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক। বৈঠকে সিডিএ চেয়ারম্যান ও ইসলামাবাদের চিফ কমিশনার সোহেল আশরাফ এবং পাকিস্তানে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মুহাম্মদ ইকবাল হোসেন অংশগ্রহণ করেন।
বৈঠক শেষে সিডিএ-র পক্ষ থেকে প্রকাশিত একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ঢাকা ও ইসলামাবাদকে সিস্টার-সিটি হিসেবে ঘোষণার বিষয়ে আলোচনা হওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।
বাংলাদেশের হাইকমিশনার মুহাম্মদ ইকবাল হোসেন জানান, এই উদ্যোগের জন্য একটি সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) খসড়া ইতিমধ্যেই তৈরি করা হয়েছে এবং এটি চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। তিনি আশা করেন, খুব শিগগিরই এই চুক্তিটি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরিত হবে।
মুহাম্মদ ইকবাল হোসেন আরও উল্লেখ করেন, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক একটি ইতিবাচক মোড় নিয়েছে। বাণিজ্য বৃদ্ধির পাশাপাশি দুই দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বাড়াতে উভয় দেশ কার্যকরীভাবে কাজ করছে।
বৈঠকে বাংলাদেশের দূত ইসলামাবাদের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও সবুজের ভূয়সী প্রশংসা করেন। পাশাপাশি ইসলামাবাদের ‘ডিপ্লোমেটিক এনক্লেভ’-এ বাংলাদেশ হাইকমিশনের নতুন কমপ্লেক্স নির্মাণে সিডিএ কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানান। তিনি জানান, নতুন এই কমপ্লেক্সের নির্মাণকাজ এখন সমাপ্তির পথে রয়েছে।
সিডিএ চেয়ারম্যান সোহেল আশরাফ তাঁর বক্তব্যে আশ্বাস দেন যে, বাংলাদেশ হাইকমিশন কমপ্লেক্সের বাকি কাজ যথাসময়ে শেষ হবে এবং ডিপ্লোমেটিক এনক্লেভের অন্যান্য উন্নয়ন প্রকল্পে সিডিএ সম্ভাব্য সমস্ত ধরনের সহযোগিতা প্রদান করবে।
সোহেল আশরাফ আরও জানান, ডিপ্লোমেটিক এনক্লেভের অবকাঠামো ও নাগরিক সুবিধা আধুনিকায়নের জন্য বড় ধরনের পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে এনক্লেভের সৌন্দর্যবর্ধন, উন্নত ক্রীড়া সুবিধা তৈরি এবং একটি আধুনিক ক্লাবহাউস উন্নয়ন।
সাম্প্রতিক দ্বিপাক্ষিক বিনিময় প্রসঙ্গে বাংলাদেশের হাইকমিশনার জানান, সম্প্রতি পাকিস্তানের মাটিতে বাংলাদেশের একদল সরকারি কর্মকর্তার প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সফরের সময় তারা পাকিস্তানের বিভিন্ন শহর পরিদর্শন করেন এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে মতবিনিময় করে আসেন।
সিডিএ চেয়ারম্যান এই ধরনের সফর ও বিনিময় কর্মসূচীকে স্বাগত জানান এবং বলেন, এর ফলে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে সাংস্কৃতিক, শিক্ষাগত এবং নগর প্রশাসন পর্যায়ে পারস্পরিক সহযোগিতা ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের পথ আরও সুগম হবে। উভয় পক্ষই দুই রাজধানীর সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নেওয়ার বিষয়ে তাদের দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন