প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
‘পরিচ্ছন্ন ঢাকা, পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশ’ কর্মসূচি ফিটসোমনিয়া বাংলাদেশের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয়েছে, যার উদ্দেশ্য হলো পরিচ্ছন্নতা ও নাগরিক সচেতনতা বৃদ্ধি করা। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দিনব্যাপী এই কর্মসূচিতে শুধু এলাকা পরিষ্কার করা নয়, বরং যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা ফেলার ক্ষতিকর দিক নিয়েও নগরবাসীকে সচেতন করা হয়েছে।
ফিটসোমনিয়া বাংলাদেশের পরিচালন কর্মকর্তা সালমান রহমানের নেতৃত্বে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন, যার মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, ক্যাম্পাস প্রতিনিধি, চিকিৎসক, ক্রীড়াবিদ এবং অফিসকর্মী অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।
সালমান রহমান জানান, "আমাদের লক্ষ্য শুধু একটি জায়গা পরিষ্কার করা নয়। যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা ফেলার কারণে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ে। এ বিষয়ে মানুষকে সচেতন করাই আমাদের মূল উদ্দেশ্য। পরিচ্ছন্ন শহর গড়তে শুধু পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের ওপর নির্ভর করলে হবে না। প্রত্যেক নাগরিককে নিজের দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন হতে হবে।"
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস থেকে কর্মসূচির কার্যক্রম শুরু হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের প্রায় ২৫ জন শিক্ষার্থী এতে অংশ নেন। তাঁদের সঙ্গে ফিটসোমনিয়া বাংলাদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস প্রতিনিধিরাও যুক্ত হন। নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব গ্লাস অ্যান্ড সিরামিকস, বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব ফ্যাশন অ্যান্ড টেকনোলজি, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল বিশ্ববিদ্যালয়, আহসানউল্লাহ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং আর্মি ইনস্টিটিউট অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন, সিলেটের শিক্ষার্থী ও ক্যাম্পাস প্রতিনিধিরা কর্মসূচিতে অংশ নেন।
কর্মসূচির শুরুতে যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা ফেলার কারণে সামান্য বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা, মশার উপদ্রব ও ডেঙ্গুর ঝুঁকি বৃদ্ধি এবং পরিবেশ দূষণের মতো সমস্যার কথা তুলে ধরা হয়। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ও আশপাশের অপরিচ্ছন্ন এলাকায় পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চালানো হয়।
এ সময় স্থানীয় দোকানদার ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলে নির্দিষ্ট স্থানে ময়লা ফেলা এবং পরিচ্ছন্ন পরিবেশ বজায় রাখার বিষয়ে সচেতন করা হয়। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সচেতনতামূলক পদযাত্রা বের করা হয়। রিকশা র্যালির মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীরা সংসদ ভবন এলাকায় পৌঁছান।
সংসদ ভবন এলাকাতেও সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। সেখানে সাধারণ মানুষ ও স্থানীয় দোকানদারদের সঙ্গে কথা বলে যত্রতত্র ময়লা ফেলার ক্ষতিকর প্রভাব এবং নাগরিক দায়িত্বের বিষয়টি তুলে ধরেন অংশগ্রহণকারীরা।
কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষ, অফিসকর্মী, চিকিৎসক, ক্রীড়াবিদ ও ফিটনেসকর্মীরাও অংশ নেন। ফিটনেস অঙ্গনের পরিচিত ব্যক্তি এ এস তাজও এতে অংশ নেন।
কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীদের প্রধান স্লোগান ছিল, ‘নিজে বদলাই, বদলে যাবে দেশ। পরিবর্তনের শুরুটা হোক আমার থেকে।’
দিনব্যাপী কর্মসূচির শেষ পর্যায়ে পরিচ্ছন্নতা, পরিবেশ সুরক্ষা ও নাগরিক সচেতনতা বজায় রাখার অঙ্গীকার করেন অংশগ্রহণকারীরা। শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটে।
আয়োজকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, কর্মসূচিতে আনুমানিক ৭৫ থেকে ৮০ জন শিক্ষার্থী এবং আরও ৪০ থেকে ৫০ জন অতিথি ও সাধারণ মানুষ অংশ নেন। বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণে কর্মসূচিটি বৃহত্তর সামাজিক সচেতনতা কার্যক্রমে রূপ নেয়।
ফিটসোমনিয়া বাংলাদেশ জানিয়েছে, ভবিষ্যতে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ও অন্যান্য এলাকায় এ ধরনের কর্মসূচি আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। তরুণদের সম্পৃক্ত করে পরিচ্ছন্নতা, পরিবেশ সচেতনতা ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের গুরুত্ব তুলে ধরতে ধারাবাহিকভাবে কাজ করবে সংগঠনটি।
আয়োজকদের মতে, এক দিনের কর্মসূচিতে পুরো শহরের চিত্র বদলে দেওয়া সম্ভব নয়। তবে মানুষের চিন্তা ও আচরণে পরিবর্তন আনা গেলে দীর্ঘমেয়াদে এর প্রভাব পড়তে পারে। পরিচ্ছন্নতা কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের একার দায়িত্ব নয়, এটি প্রত্যেক নাগরিকের দায়িত্ব—এই বার্তাই মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন