প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
মাদারীপুর শহরের লেকপাড় (চৌরাস্তা) এলাকায় বিবাহবিচ্ছেদ-পরবর্তী পারিবারিক বিরোধের ফলস্বরূপ তিন বছরের একটি কন্যাশিশুকে সড়কের পাশে ফেলে রেখে চলে যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বাবা ও মায়ের বিরুদ্ধে। হৃদয়বিদারক এ ঘটনাটি স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিবাহবিচ্ছেদের ঘটনার পর শিশুটিকে নিয়ে তার মা মাদারীপুর লেকপাড় এলাকায় সন্তানের বাবার সঙ্গে দেখা করতে আসেন। একপর্যায়ে শিশুটিকে বাবার কাছে রেখে যাওয়ার বিষয়টি কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। অভিযোগ উঠেছে যে, প্রথমে মা শিশুটিকে জোরপূর্বক বাবার কাছে রেখে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। তারপর শিশুটির বাবা মোটরসাইকেলে করে ঘটনাস্থল থেকে চলে যান। এর ফলে অবুঝ শিশুটি দীর্ঘ সময়ের জন্য সড়কের পাশে একা পড়ে থাকে।
রোববার (২৮ জুন) রাতে ঘটে যাওয়া এ ঘটনায় শিশুটির কান্না শুনে স্থানীয় পথচারী ও আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করেন। পরে উদ্ধারকারীরা শিশুটিকে নিজেদের তত্ত্বাবধানে রাখেন।
স্থানীয়রা জানাচ্ছেন, শিশুটির নাম জানতে চাইলে সে ভয় ও আতঙ্কের কারণে নিজের নাম স্পষ্টভাবে বলতে পারেনি।
এ বিষয়ে মাদারীপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ জানিয়েছেন, "এখন পর্যন্ত শিশুটিকে আমাদের কাছে আনা হয়নি। বিষয়টি আমাদের কাছে এলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"
ঘটনাটি এলাকার মধ্যে তীব্র আলোচনার সৃষ্টি করেছে। স্থানীয় সচেতন নাগরিকদের মতে, কোনো অবস্থাতেই একটি নিরীহ শিশু বাবা-মায়ের বিরোধের বলি হতে পারে না। সন্তানের নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করা বাবামায়ের উভয়ের আইনগত ও নৈতিক দায়িত্ব।
আইনজ্ঞদের অভিমত অনুসারে, বাংলাদেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী বিবাহবিচ্ছেদ হলেও সন্তানের ভরণপোষণ, নিরাপত্তা এবং যথাযথ লালন-পালনের দায়িত্ব বাবা-মা উভয়ের ওপর বর্তায়। কোনও শিশুকে পরিত্যাগ করা বা অবহেলার মধ্যে ফেলতে শিশু আইন, ২০১৩-এর আওতায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হতে পারে।
সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, দেশে ক্রমবর্ধমান পারিবারিক অস্থিরতা, দাম্পত্য কলহ, আর্থিক সংকট, মানসিক অপরিপক্বতা এবং পারস্পরিক বোঝাপড়ার অভাবের কারণে বিচ্ছেদের ঘটনা বাড়ছে। এসব ঘটনার সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী হচ্ছে শিশু, যা তাদের মানসিক বিকাশ এবং ভবিষ্যতের ওপর দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
স্থানীয়রা দাবি করেছেন যে, এ ঘটনাটি সঠিকভাবে তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি শিশুটির নিরাপত্তা, ভরণপোষণ ও ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।
তাদের মতে, বিবাহবিচ্ছেদ যদি অনিবার্য হয়ে থাকে, তবে তার নিষ্ঠুর প্রভাব যেন কোনোভাবে নিরীহ সন্তানের জীবনে না পড়ে। পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের সম্মিলিত উদ্যোগেই এ ধরনের অমানবিক ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করা সম্ভব।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন