প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
হায়দরাবাদের সংসদ সদস্য ও অল ইন্ডিয়া মজলিস-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমিনের (এআইএমআইএম) প্রধান আসাদউদ্দিন ওয়াইসি ভারতের ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া (এসআইআর) এবং নয়াদিল্লির ঐতিহাসিক কাদেমি মসজিদ ভাঙার উদ্যোগের বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি প্রায়ই কেন্দ্রীয় সরকার ও উগ্র হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলোর বিদ্বেষী কার্যক্রমের বিরুদ্ধে অবস্থান নেন।
ওয়াইসির অভিযোগ, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ভুয়া তথ্য ছড়িয়ে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করা হচ্ছে। তিনি বলেন, ধর্মনিরপেক্ষতার দোহাই দিয়ে সুপরিকল্পিতভাবে সংখ্যালঘু সংস্কৃতির ওপর আঘাত হানা হচ্ছে।
ভারতে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) কার্যক্রমের মাধ্যমে ভোটার তালিকায় অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের নাম থাকার অভিযোগ করা হয়। তবে হায়দরাবাদের জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আর ভি কারনান জানিয়েছেন, এই যাচাইয়ে কোনো বিদেশি নাগরিক বা অবৈধ অনুপ্রবেশকারীর সন্ধান পাওয়া যায়নি।
ওয়াইসি বলেন, নির্বাচন কর্মকর্তার এই বক্তব্য বিজেপি ও সংঘ পরিবারের দীর্ঘদিনের দাবিকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। তার অভিযোগ, অবৈধ অনুপ্রবেশকারীর নাম থাকার অজুহাতে দরিদ্র ও শ্রমজীবী মানুষ সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন। নাগরিকত্বের প্রমাণ দিতে গিয়ে দিনমজুরদের অন্তত দুই দিনের কর্মসংস্থান হারাতে হয়েছে। প্রয়োজনীয় নথি সংগ্রহ এবং সরকারি দপ্তরে ছোটাছুটি করতে গিয়ে হাজার হাজার মানুষকে দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে।
অন্যদিকে, নয়াদিল্লির কৃষি ভবন এলাকায় অবস্থিত শতাব্দী প্রাচীন কাদেমি মসজিদ ভাঙার উদ্যোগ নিয়েও কেন্দ্রীয় সরকারের সমালোচনা করেন ওয়াইসি। সেন্ট্রাল ভিস্তা প্রকল্পের আওতায় কমন সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েট নির্মাণের অংশ হিসেবে মসজিদটি সরিয়ে ফেলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দিল্লি হাইকোর্টে কেন্দ্রীয় সরকার যুক্তি দিয়েছে, সরকারি সম্পত্তির ধর্মনিরপেক্ষ চরিত্রের সঙ্গে মসজিদটির অবস্থান সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
কেন্দ্রের এই যুক্তির জবাবে ওয়াইসি প্রশ্ন তোলেন, সেন্ট্রাল ভিস্তা প্রকল্পের উদ্বোধন যদি হিন্দু ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী ভূমিপূজার মাধ্যমে হতে পারে, তাহলে সেখানে একটি ঐতিহাসিক মসজিদের অবস্থান ধর্মনিরপেক্ষতার পরিপন্থী হবে কেন?
তিনি বলেন, ১৯১২ সালের আগেই কাদেমি মসজিদটি ওই স্থানে প্রতিষ্ঠিত ছিল। ব্রিটিশরা লুটিয়েনস দিল্লি নির্মাণের সময় জমি অধিগ্রহণ করলেও মসজিদটি অধিগ্রহণের বাইরে রেখেছিল। এটি শুধু একটি উপাসনালয় নয়, ভারতের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যেরও অংশ।
এআইএমআইএম প্রধান এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় সংখ্যালঘুবিষয়ক মন্ত্রী কিরেণ রিজিজুর হস্তক্ষেপ দাবি করেন। তার মতে, মসজিদটির ঐতিহাসিক ও আইনি মর্যাদা স্বীকার করা উচিত সরকারের। মালিকানা নিয়ে কোনো বিরোধ থাকলে তা ওয়াক্ফ ট্রাইব্যুনালে নিষ্পত্তি করা যেতে পারে।
এদিকে মুসলমানদের রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব নিয়ে বিজেপি নেতাদের বিভিন্ন মন্তব্যেরও সমালোচনা করেন ওয়াইসি। বিশেষ করে মুসলমানদের ‘আব্দুল’ বলে কেবল পাংচার সারানোর কাজে সীমাবদ্ধ রাখার মতো মন্তব্যের প্রতিবাদ জানান তিনি।
এমএমআর
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন