প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বরিশালের বাকেরগঞ্জ পৌরসভার বিভিন্ন দুর্গাপূজামণ্ডপ পরিদর্শনকে কেন্দ্র করে বিএনপির মেয়র প্রার্থী হারুন অর রশিদ সিকদারকে নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা তৈরি হয়েছে। পূজামণ্ডপ পরিদর্শনের সময় তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে সেখানে গেছেন বলে বক্তব্য দিয়েছেন—এমন দাবি পূজা মণ্ডপ কমিটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সূত্রের। বিএনপি নেতা-কর্মীদের একাংশের প্রশ্ন—দলীয় প্রতিনিধি হিসেবে যাওয়ার অনুমোদন কে দিয়েছেন? তবে এ বক্তব্যের সত্যতা পাওয়া গেলেও প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে কোনো নির্দেশনা ছিল কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, শনিবার (১৭ অক্টোবর) হারুন সিকদার বিভিন্ন পূজামণ্ডপে গিয়ে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এবং অনুদান বিতরণ করেন। এ সময় তিনি সংসদ সদস্য আবুল হোসেন খানের অনুমতি নিয়ে পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে এসেছেন এবং বিএনপির প্রতিনিধি হিসেবেও বিভিন্ন মণ্ডপে গেছেন বলে বক্তব্য দিয়েছেন।
এ নিয়ে স্থানীয় বিএনপির কিছু নেতা-কর্মীর মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে—দলীয় প্রতিনিধি হিসেবে পূজামণ্ডপ পরিদর্শনের ক্ষেত্রে তাঁর দায়িত্ব ও অনুমোদনের বিষয়টি কী ছিল? তবে ক্ষুব্ধ নেতা-কর্মীদের পরিচয়, তাঁদের বক্তব্য এবং এ বিষয়ে দলীয় কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
হারুন সিকদারের রাজনৈতিক পদ-পদবি নিয়েও স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা রয়েছে। তার উপজেলা বিএনপির বর্তমান কোন পদ সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে ইতিপূর্বে তিনি উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক এবং বরিশাল দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য ছিলেন বলে জানা যায়।
অন্যদিকে, হারুন সিকদার একসময় ভরপাশা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন। বর্তমানে বাকেরগঞ্জ পৌরসভার মেয়র পদে তাঁর প্রার্থিতা নিয়ে আলোচনা ও সমালোচনা চলছে। ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যানের পৌরসভার মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতার আগ্রহকে ঘিরে স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে নানা আলোচনা ও ঠাট্টা-তামাশাও চলছে।
তবে একজন সাবেক ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের পৌরসভার মেয়র পদে প্রার্থী হওয়ার আগ্রহকে আইনগত বা রাজনৈতিকভাবে অস্বাভাবিক বলার সুযোগ নেই। নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার যোগ্যতা ও জনসমর্থনই এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। পৌরসভার ৮ নং ওয়ার্ডের মুকুল বেগম জানান, এক সময় ভরপাশা ইউনিয়নের বাসিন্দা হারুন শিকদারের পৌরসভার মেয়র প্রার্থী হওয়ার যোগ্যতা থাকলেও, মেয়ন নির্বাচিত হওয়ার মতো ভোট ব্যাংক নেই। টাকার তো জোরে তিনি ডাক ঢোল পেটালেও পৌরসভা বিএনপির নেতা কর্মীদের কাছে তিনি প্রত্যাখ্যাত।
প্রশ্নের উত্তর চান স্থানীয় বিএনপি নেতা-কর্মীরা:
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে পূজামণ্ডপ পরিদর্শনের দাবি, সংসদ সদস্যের অনুমতির প্রসঙ্গ এবং বিএনপির প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালনের বিষয়গুলো নিয়ে যে সমালোচনা তৈরি হয়েছে, তার স্পষ্ট ব্যাখ্যা চান বলে দাবি করা হচ্ছে স্থানীয় বিএনপির একাংশের নেতা-কর্মীদের।
উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব কামরুজ্জামান মিজান এ প্রসঙ্গে জানান, হারুন সিকদার যদি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের (নির্দেশনার কথা বলে) নাম ভাঙ্গিয়ে পৌরসভায় দুর্গাপূজা মণ্ডপ পরিদর্শন করে থাকেন তবে সেটা দুঃখজনক। এরকম ভিত্তিহীন কথাবার্তা বলা তার ঠিক হয়নি। পূজামন্ডপ পরিদর্শনের জন্য বিএনপির প্রতিনিধি দলের দায়িত্ব তাকে দেয়া হয়নি। তিনি ব্যক্তিগতভাবে পূজা মন্ডপ পরিদর্শন করতেই পারেন। তবে দলের প্রতিনিধি হয়ে নয়। বাকেরগঞ্জ উপজেলায় দলের একজন প্রতিনিধি রয়েছেন তিনি হলেন সংসদ সদস্য আবুল হোসেন খান।
এ বিষয়ে হারুন অর রশিদ সিকদারের বক্তব্য, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার বিষয়ে কোনো লিখিত বা আনুষ্ঠানিক তথ্য এবং বিএনপির সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল নেতাদের প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেলে বিষয়টি আরও পরিষ্কার হবে। অভিযোগ প্রসঙ্গে বিএনপি নেতা হারুন শিকদার জানান, যেহেতু তিনি বিএনপির রাজনীতি করেন তাই পূজমন্ডপ পরিদর্শনকালে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশের কথা বলে প্রচারণা চালিয়েছেন। এমন বক্তব্যে বিএনপি তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হলে তার কিছু করার নেই।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন