প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
সংসদ ভবন, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : সৌদি আরবে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে পরিচালিত দু’টি ‘সেফ হোম’ এর মাধ্যমে নারী কর্মীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা হচ্ছে, জানিয়ে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক নুর বলেছেন, সরকারের পক্ষ থেকে ১৩টি দেশের ২২টি ল’ ফার্মের সঙ্গে চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। ভবিষ্যতে আরও দেশে এ ধরনের আইনি সহায়তার ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে।
আজ সংসদে সরকারি দলের সংরক্ষিত মহিলা আসন-৩১-এর সদস্য মোছা. সানজিদা ইয়াসমিনের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশি নারী কর্মীরা প্রধানত সৌদি আরব, ওমান, কুয়েতসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে কর্মরত আছেন। এছাড়া হংকংসহ আরও কয়েকটি দেশে হাউসকিপিং ও কেয়ারগিভিং খাতে বাংলাদেশি নারীরা কাজ করছেন।
তিনি উল্লেখ করেন, মধ্যপ্রাচ্যের কিছু দেশে অতীতে বাংলাদেশি নারী কর্মীদের নিগৃহীত হওয়ার ঘটনা ঘটলেও বর্তমানে এ ধরনের ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, বিদেশে নিয়োগকর্তার দ্বারা নিগ্রহের শিকার হলে বাংলাদেশি নারী বা পুরুষ কর্মীরা এসব ল ফার্মের মাধ্যমে আইনগত প্রতিকার গ্রহণের সুযোগ পাবেন। ওমানেও একটি সেফ হোম রয়েছে। কর্মীরা অভিযোগ জানাতে মন্ত্রণালয়ের দু’টি কল সেন্টারের মাধ্যমে যোগাযোগ করতে পারেন।
বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি করার পাশাপাশি প্রবাসী বাংলাদেশি কর্মীদের, বিশেষ করে নারী কর্মীদের সুরক্ষা ও অধিকার নিশ্চিত করতে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে, বললেন প্রতিমন্ত্রী।
সরকারি দলের সংরক্ষিত মহিলা আসনের সদস্য নিপুন রায় চৌধুরীর অপর এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর ওমানের সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরের জন্য খসড়া পাঠানো হয়েছে। এমওইউটি স্বাক্ষরিত হলে বাংলাদেশিদের জন্য ওমানের শ্রমবাজারে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
তিনি বলেন, সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ১ কোটি মানুষের কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে বিভিন্ন দেশের দূতাবাসের মাধ্যমে কর্মীর চাহিদাপত্র সংগ্রহ করা হচ্ছে। কোন দেশে কোন ধরনের দক্ষ কর্মীর প্রয়োজন, সেই চাহিদার ভিত্তিতে দেশের কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলোকে প্রস্তুত করা হচ্ছে।
নুরুল হক জানান, গত ১৭ থেকে ১৮ মে কাতারের শ্রমমন্ত্রী বাংলাদেশ সফর করেন। এ সময় কাতারের চাহিদা অনুযায়ী পাঁচটি ট্রেডে পাঁচটি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রকে বিশেষভাবে প্রস্তুত করে সেখান থেকে কর্মী নেওয়ার বিষয়ে সমঝোতা হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, জর্ডানে বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট সার্ভিসেস লিমিটেডের (বোয়েসেল) মাধ্যমে গত ছয় মাসে ৭ হাজার ৬৮৩ জন গার্মেন্টস কর্মী পাঠানো হয়েছে। জর্ডানের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সরাসরি তত্ত্বাবধানে এসব কর্মী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের শ্রমবাজার কিছুটা সংকুচিত হলেও সেখানকার দুবাইয়ের একটি ট্যাক্সি কোম্পানি বাংলাদেশ থেকে ৬০০ জন চালক নিয়েছে, উল্লেখ করে তিনি বলেন, পর্যায়ক্রমে আরো বিভিন্ন কোম্পানি বাংলাদেশ থেকে কর্মী নেওয়ার বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করছে। এসব কোম্পানির চাহিদা অনুযায়ী প্রশিক্ষিত কর্মী তৈরি করা হচ্ছে।
নীলফামারী-৩ আসনের বিরোধী দলের (জামায়াতে ইসলামী) সদস্য ওবায়দুল্লাহ সালাফির সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সৌদি আরবে বাংলাদেশি কর্মীদের প্রতারণা বা জিম্মি করার সঙ্গে জড়িত অসাধু চক্রের বিরুদ্ধে সৌদি আরবের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং বাংলাদেশ দূতাবাসের কর্মকর্তারা সমন্বিতভাবে কাজ করছেন। এ ধরনের কর্মকাণ্ডে বাংলাদেশের কারো সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে দেশে ফেরার পর তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সরকারি দলের সংরক্ষিত মহিলা আসন-২৫-এর সদস্য মোছা. সুরাইয়া জেরিনের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বিদেশে কর্মী পাঠানোর অভিবাসন ব্যয় কমানোকে সরকারের অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ২০১৩ সালে এ বিষয়ে একটি খসড়া ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছিল। বর্তমানে বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার, বিশেষ করে ডলারের মূল্যের পরিবর্তন এবং সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় সেই ব্যয় কাঠামো হালনাগাদ করা হচ্ছে। এটি হালনাগাদের পর বাস্তবায়নে জোর দেওয়া হবে।
বিদেশে কর্মীদের কাজ নিশ্চিত করার প্রক্রিয়া সম্পর্কে প্রতিমন্ত্রী জানান, কোনো বিদেশি কোম্পানি বাংলাদেশ থেকে কর্মী নেওয়ার জন্য চাহিদাপত্র দিলে সংশ্লিষ্ট দেশের বাংলাদেশ দূতাবাসের শ্রম কল্যাণ উইং তা যাচাই করে। কর্মীদের কী কাজে নিয়োগ দেওয়া হবে, তাদের বেতন, থাকার পরিবেশ ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা কী হবে— এসব বিষয় যাচাইয়ের পর বিএমইটি ক্লিয়ারেন্স দেওয়া হয়।
তিনি বলেন, বিএমইটির ক্লিয়ারেন্স নিয়ে বিদেশে যাওয়া কর্মীদের ক্ষেত্রে কাজ সংক্রান্ত সমস্যা তুলনামূলকভাবে কম হয়। তবে, বিশেষ বিবেচনায় এক থেকে পাঁচজন পর্যন্ত কর্মীর ভিসা বা ডিমান্ড লেটার দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাটেস্টেশন ছাড়াই অনুমোদনের যে সুযোগ রয়েছে, সেটির কিছু অপব্যবহার হচ্ছে। এ ধরনের অপব্যবহার বন্ধে মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন