প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
রেলপথে যাতায়াতের নিরাপত্তা এবং পরিবেশবান্ধব যোগাযোগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রধান প্রধান রুটে বৈদ্যুতিক ট্রেন চালু করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে, এ তথ্য জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বুধবার বিকেলে বঙ্গবন্ধু ভবনে জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনের প্রশ্নোত্তর পর্বে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রমের সভাপতিত্বে প্রশ্নোত্তর পর্বটি জাতীয় সংসদে উত্থাপন করা হয়েছিল।
কুমিল্লা-১০ আসনের সংসদ সদস্য মো. মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়ার প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সড়ক ও রেল যোগাযোগ উন্নয়নের লক্ষ্যে সরকার বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। মহাসড়কগুলোতে ক্রমে এক্সপ্রেসওয়ে গ্রিড ও মাল্টিমোডাল পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে। এর সাথে সাথে, সড়কে স্মার্ট মনিটরিং ও এক্সেল লোড নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা কার্যকরের ব্যবস্থা করা হবে, যা ওভারলোড নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হবে।
তিনি আরও জানান, ঢাকার ওপর চাপ কমাতে রিং রোড ও রেডিয়াল রোড নেটওয়ার্ক নির্মাণের কাজ চলছে। যানজট সমস্যার সমাধানে বিভিন্ন ইন্টারসেকশনে ওভারপাস ও আন্ডারপাস নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, বেশ কিছু মেগা প্রকল্প রয়েছে, যেগুলোর মধ্যে আছে যমুনা নদীর ওপর দ্বিতীয় যমুনা সেতু এবং পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া এলাকায় দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণের প্রক্রিয়া।
এছাড়া চলমান এবং বিভিন্ন পর্যায়ে প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে:
# ঢাকা-আশুলিয়া ও ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের সংযোগ প্রকল্প
# পঞ্চবটি থেকে মুক্তারপুর সেতু পর্যন্ত দোতলা সড়ক নির্মাণ
# বরিশাল-ভোলা সড়কে কালাবদর ও তেঁতুলিয়া নদীর ওপর সেতু নির্মাণ
# শরীয়তপুর-চাঁদপুর ও ভুলতা-আড়াইহাজার সড়কে মেঘনা নদীর ওপর সেতু নির্মাণ
# ঢাকা-চট্টগ্রাম এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে।
বাংলাদেশ রেলওয়েকে জাতীয় পরিবহন ব্যবস্থার মূল মেরুদণ্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে, বললেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, রেলসেবা দেশের প্রতিটি জেলা ও প্রধান শহরে পৌঁছে দিতে ২০৪৫ সাল পর্যন্ত মোট ২৪টি প্রকল্প নির্ধারণ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, দেশে রেল নেটওয়ার্ককে ধাপে ধাপে ডুয়েলগেজে রূপান্তর করা হবে, যার ফলে দেশের যেকোনো প্রান্ত থেকে যাত্রীবাহী ও মালবাহী ট্রেন চলাচল করা সহজ হবে।
রেলের সক্ষমতা বৃদ্ধির চিত্র তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, ক্রমান্বয়ে আন্তঃনগর এবং কমিউটার ট্রেনের সংখ্যা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। স্বল্প মেয়াদে (২০২৬-২৭) আন্তঃনগর ৩টি এবং কমিউটার ১০টি, মধ্য মেয়াদে (২০২৭-৩০) আন্তঃনগর ১৫টি এবং কমিউটার ১৬টি, আর দীর্ঘ মেয়াদে (২০৩১-৪৫) আন্তঃনগর ১০৩টি ও কমিউটার ৮৫টি ট্রেন বৃদ্ধির জন্য প্রকল্প গ্রহণ করা হবে।
এই উদ্যোগের ফলে সাধারণ মানুষের জন্য রেল ভ্রমণ আরো সহজ, নিরাপদ এবং আরামদায়ক হবে, এ বিষয়ে আশা প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন