প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
আমদানিকৃত পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপের হুমকির মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র এবং কানাডা একটি নতুন বাণিজ্যিক চুক্তি সম্পন্ন করেছে। এই চুক্তির আওতায় ওয়াশিংটন কানাডায় উৎপাদিত গাড়ি, ট্রাক এবং গুরুত্বপূর্ণ ধাতুর ওপর আরোপিত কিছু বিতর্কিত শুল্কের হার কমিয়ে আনতে পারে।
ডোনাল্ড ট্রাম্প এই চুক্তিকে ‘অত্যন্ত ন্যায্য’ বাণিজ্য চুক্তি হিসেবে উল্লেখ করেছেন। এর আগেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট কানাডা থেকে আমদানিকৃত পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছিলেন। তবে আলোচনার অগ্রগতির কথা উল্লেখ করে, তিনি সেই সময়সীমা শনিবার পর্যন্ত পিছিয়ে রেখেছিলেন।
বুধবার (১৯ আগস্ট) সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প বলেছেন, কানাডায় পণ্য পাঠানোর ক্ষেত্রে কোনো শুল্ক আরোপ করা হবে না। তিনি এই বিষয়ে আরও বলেন, কৃষকদের জন্য কোনো শুল্কও থাকবে না।
মঙ্গলবার গভীর রাতে ট্রাম্প জানান, কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির সঙ্গে ‘ফলপ্রসূ আলোচনার’ পর তিনি ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত তিন দিনের জন্য স্থগিত করেছেন। এই শুল্ক বুধবার থেকেই কার্যকর হওয়ার কথা ছিল। কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি এক্সে একটি পোস্টে জানিয়েছেন, উভয় পক্ষই একটি চুক্তির দিকে এগোচ্ছে। বুধবারের পরবর্তী সময়ে ১০টি প্রদেশের প্রধানমন্ত্রীদের (প্রিমিয়ার) এ বিষয়ে অবহিত করার কথা ছিল তার।
প্রস্তাবিত এই চুক্তির আওতায় কানাডায় উৎপাদিত গাড়ি এবং ট্রাকের ওপর সর্বোচ্চ শুল্কের হার বর্তমান ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৫ শতাংশে নামিয়ে আনার আশা করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট শিল্পখাতের নির্বাহীদের মতে, এই শুল্কহার দেশের অভ্যন্তরীণ গাড়ি উৎপাদন খাতকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিতে পারে। গাড়ি শিল্পের দুজন নির্বাহী জানিয়েছে, কানাডা এই শুল্কহার ১০ শতাংশে নামিয়ে আনার জন্য জোর প্রচেষ্টা চালাচ্ছে।
এই চুক্তির বিষয়ে অবগত শিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দুটি সূত্র জানিয়েছে, ইস্পাতের ওপর শুল্ক হ্রাসের এই সুবিধা কেবল একটি নির্দিষ্ট কোটা বা নির্ধারিত পরিমাণের আমদানির ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হবে। সূত্রগুলোর মধ্যে একটি জানিয়েছে, বার্ষিক কোটার পরিমাণ সম্ভবত ৪০ লাখ (৪ মিলিয়ন) মেট্রিক টন নির্ধারণ করা হবে এবং এর চেয়ে বেশি পরিমাণ আমদানির ক্ষেত্রে ইস্পাতের ওপর পূর্বনির্ধারিত ৫০ শতাংশ শুল্ক বহাল থাকবে।
গত বছর জাতীয় নিরাপত্তা আইনের আওতায় ওয়াশিংটন ইস্পাত, অ্যালুমিনিয়াম এবং গাড়ির ওপর শুল্ক আরোপ করেছিল, যার জবাবে কানাডাও পাল্টা পদক্ষেপ নিয়ে ছিল। কার্নি প্রায়ই বলেন, ঘনিষ্ঠ মিত্র এই দুটি দেশের মধ্যে একটি বাণিজ্য যুদ্ধ চলমান রয়েছে।
কানাডীয় প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকের পর যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার সাংবাদিকদের জানান, আমরা এমন একটি চুক্তিতে পৌঁছেছি যা কেবল আমেরিকান শ্রমিক, কর্মসংস্থান এবং সরবরাহ ব্যবস্থাকে সুরক্ষিত করবে না, বরং উত্তর আমেরিকার অর্থনীতিকেও সত্যিকার অর্থে শক্তিশালী করবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন