প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
একদিকে ঘরোয়া ফুটবলে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগের বিরুদ্ধে আইনি লড়াই চলছে, অন্যদিকে সেই মামলার রায় ঘিরে ইউরোপীয় ফুটবলেও নতুন শাস্তির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। সব মিলিয়ে ম্যানচেস্টার সিটির আইনি সংকট যেন আরো ঘনীভূত হয়ে উঠছে। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের রায়ে ১১৫টি অভিযোগের মধ্যে ১১৪টিতে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর, সিটিজেনদের দিকে কড়া নজর রাখছে ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফা।
দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার পর সম্প্রতি প্রিমিয়ার লিগের আর্থিক বিধি ভঙ্গের অভিযোগে ম্যান সিটির বিরুদ্ধে ঐতিহাসিক এই রায় এসেছে। ক্লাবটির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোর মধ্যে অন্যতম গুরুতর বিষয় ছিল, ২০০৯ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে কৃত্রিম ও ভুয়া স্পনসরশিপ চুক্তির মাধ্যমে ক্লাবটি অন্তত ৯০০ মিলিয়ন পাউন্ড রাজস্ব বেশি দেখিয়েছিল।
তবে প্রিমিয়ার লিগের এই রায় মেনে নিতে পারেনি সিটি কর্তৃপক্ষ। সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে গত সপ্তাহেই আনুষ্ঠানিক আপিল দায়ের করেছে ক্লাবটি। নিজেদের সম্পূর্ণ নির্দোষ দাবি করে ম্যানচেস্টার সিটি জানিয়েছে, তাদের হাতে এমন কিছু ‘অকাট্য প্রমাণ’ রয়েছে, যা আইনি লড়াই শেষে সব অভিযোগ থেকে তাদের পুরোপুরি মুক্ত করবে।
বর্তমানে তিন সদস্যের একটি স্বাধীন প্যানেল সিটির এই আপিল আবেদনটি পর্যালোচনা করছে। চলতি ফুটবল মৌসুম শেষ হওয়ার আগেই এই আপিলের চূড়ান্ত রায় চলে আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ‘স্কাই স্পোর্টস’-এর তথ্য অনুযায়ী, পুরো ঘটনাটি খুব কাছ থেকে পর্যবেক্ষণ করছে উয়েফা। তবে আপিলের চূড়ান্ত রায় না আসা পর্যন্ত নিজস্ব কোনো তদন্ত বা ব্যবস্থা নেওয়ার পথে হাঁটছে না সংস্থাটি।
কিন্তু স্বাধীন প্যানেলের আপিলেও যদি প্রিমিয়ার লিগের এই ১১৪টি অভিযোগের রায় বহাল থাকে, তবে ইউয়েফা সিটির বিরুদ্ধে ঠিক কতটা কঠোর ব্যবস্থা নেবে, তা নিয়ে চরম ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। ফলে ঘরোয়া আদালতে লড়ার পাশাপাশি মহাদেশীয় ফুটবল মঞ্চেও নতুন সংকটের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে ইংলিশ ক্লাবটি।
আর্থিক অনিয়মের কারণে ইউয়েফার চোখরাঙানি ম্যানচেস্টার সিটির জন্য এটাই প্রথম নয়। এর আগে ২০২০ সালে ‘ফাইন্যান্সিয়াল ফেয়ার প্লে’ (এফএফপি) নিয়ম ভঙ্গের দায়ে সিটিকে দুই বছরের জন্য চ্যাম্পিয়নস লিগসহ সব ইউরোপীয় প্রতিযোগিতায় নিষিদ্ধ করেছিল ইউয়েফা। সেই সঙ্গে দেওয়া হয়েছিল ৩০ মিলিয়ন ইউরোর মোটা অঙ্কের জরিমানা।
যদিও সেবার সিদ্ধান্তটিকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে ‘কোর্ট অব আরবিট্রেশন ফর স্পোর্টে’ (সিএএস) আপিল করে বড় সাফল্য পেয়েছিল সিটি। সিএএস তাদের ইউরোপীয় নিষেধাজ্ঞার সিদ্ধান্ত বাতিল করে দেয় এবং জরিমানার অঙ্ক কমিয়ে মাত্র ১০ মিলিয়ন ইউরো নির্ধারণ করে।
তবে এবারের পরিস্থিতি ভিন্ন। আপিল টিকতে না পারলে এবার ঘরোয়া ফুটবলে নজিরবিহীন বড় শাস্তির মুখে পড়বে প্রিমিয়ার লিগের এই পরাশক্তি। সম্ভাব্য শাস্তি হিসেবে বড় অঙ্কের পয়েন্ট কর্তন, বিশাল অর্থনৈতিক জরিমানা, অতীতে জেতা শিরোপা কেড়ে নেওয়া, এমনকি প্রিমিয়ার লিগ থেকে সরাসরি বহিষ্কার করার মতো কঠোর ব্যবস্থার কথাও ব্রিটিশ ক্রীড়াঙ্গনে জোর আলোচনায় রয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন