প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
দেশের পুঁজিবাজারে প্রাথমিক গণপ্রস্তাবে (আইপিও) বড় ধরনের খরা চলছে। দেশের পুঁজিবাজারে আইপিও আবেদন ও অনুমোদনের ঘটনা দীর্ঘ আড়াই বছরেরও বেশি সময় ধরে ঘটেনি। অবশেষে ছয়টি কোম্পানি ৬১২ কোটি ৬৫ লাখ টাকা সংগ্রহের জন্য পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনে (বিএসইসি) আইপিও আবেদন জমা দিয়েছে। এর মধ্যে পাঁচটি কোম্পানি ফিক্সড প্রাইস মেথডে এবং একটি কোম্পানি বুকবিল্ডিং পদ্ধতিতে অর্থ সংগ্রহ করতে চায়।
ফিক্সড প্রাইস পদ্ধতিতে আবেদনকারী কোম্পানিগুলো হলো অ্যালায়েন্স ফাইন্যান্স, ডিজিকন টেকনোলজিস, প্রোটেক্টিভ ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স, পার্কওয়ে প্যাকেজিং অ্যান্ড প্রিন্টিং এবং স্ক্যানডেক্স (বিডি) লিমিটেড। অন্যদিকে বুকবিল্ডিং পদ্ধতিতে ৪০০ কোটি টাকা সংগ্রহের আবেদন করেছে কনফিডেন্স পাওয়ার অ্যান্ড এনার্জি পিএলসি।
যাচাই-বাছাই শেষে বিএসইসির অনুমোদন পাওয়া গেলে কোম্পানিগুলো আইপিওর মাধ্যমে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করবে। এর ফলে দীর্ঘ আড়াই বছরের বেশি সময় ধরে চলা আইপিও খরার অবসান ঘটবে।
ডিএসইর সাবেক প্রেসিডেন্ট শাকিল রিজভী "আমার দেশ"কে জানালে, পুঁজিবাজারে নতুন কোম্পানি তালিকাভুক্তির অভাব দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যমান। নতুন কোম্পানির তালিকাভুক্তি বাজারে গতি ফিরিয়ে আনতে এবং নতুন বিনিয়োগকারী আকৃষ্ট করতে অত্যন্ত জরুরি। অতীতে অনেক নামসর্বস্ব কোম্পানিকে বাজারে নিয়ে আসা হয়েছে, যার ফলে বিনিয়োগকারীরা বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছেন। আইপিও অনুমোদনের ক্ষেত্রে কোম্পানির আর্থিক সক্ষমতার বিষয়টি বিবেচনা করে নতুন কমিশন আইপিও অনুমোদন দেবে—এমন আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
সূত্র জানায়, ২০২৪ সালের মার্চ মাসে বিএসইসি সর্বশেষ টেকনো ড্রাগস নামে একটি কোম্পানির আইপিও অনুমোদন দেয়। এরপর আর কোনো কোম্পানির আইপিও অনুমোদন হয়নি। মার্চ মাসে আইপিও অনুমোদনের পর জুলাই মাসে পুঁজিবাজারে টেকনো ড্রাগসের লেনদেন শুরু হয়।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনের পর শেখ হাসিনা ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পর অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে খন্দকার রাশেদ মাকসুদ কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ পান। তিনি আইপিও বিধিমালাসহ বেশকিছু বিধিমালা নতুন করে প্রণয়নের উদ্যোগ গ্রহণ করেন। শেখ হাসিনার শাসনামলে দুর্বল, লোকসানি ও নামসর্বস্ব অনেক কোম্পানির আইপিও অনুমোদন দেওয়া হয়, যার অধিকাংশ এখন বড় ধরনের লোকসানি প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। মাকসুদ কমিশন বাজারে এ ধরনের কোম্পানির তালিকাভুক্তির বিষয়ে খুবই সতর্ক ছিল। এ কারণে বেশকিছু কোম্পানির আবেদন থাকলেও কোনো আইপিও অনুমোদন দেওয়া হয়নি। নতুন বিধিমালা কার্যকর না হওয়ার কারণে আইপিও আবেদনে কোনো সাড়া মেলেনি।
গত জুন মাসে রাশেদ মাকসুদসহ কমিশনের সদস্যরা পদত্যাগ করার পর সরকার করপোরেট ব্যক্তিত্ব মাসুদ খানকে কমিশনের চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ দেয়। চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ পাওয়ার পর মাসুদ খান আইপিও বিধিমালা সংশোধনের কথা জানান। ইতোমধ্যে বিধিমালার খসড়া জনমত যাচাইয়ের জন্য উন্মুক্ত করা হলেও এখন পর্যন্ত চূড়ান্ত হয়নি। এর মধ্যে ছয়টি কোম্পানির আইপিও আবেদন বিএসইসিতে জমা পড়েছে। বিদ্যমান বিধিমালা, অর্থাৎ আইপিও বিধিমালা, ২০২৫ অনুযায়ী এসব আবেদন জমা পড়েছে বিএসইসিতে।
সংশ্লিষ্ট নথি অনুযায়ী, অ্যালায়েন্স ফাইন্যান্স ২৫ কোটি, ডিজিকন টেকনোলজিস ৩০ কোটি এবং প্রোটেক্টিভ ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স ১৫ কোটি টাকা সংগ্রহ করতে চায়। তিনটি প্রতিষ্ঠানই অভিহিত মূল্য ১০ টাকা দরে শেয়ার ছাড়ার প্রস্তাব করেছে।
অন্যদিকে পার্কওয়ে প্যাকেজিং অ্যান্ড প্রিন্টিং ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের প্রতিটি শেয়ারের সঙ্গে পাঁচ টাকা প্রিমিয়াম যুক্ত করে ১৫ টাকা দরে মোট ৪৫ কোটি টাকা সংগ্রহের আবেদন করেছে। স্ক্যানডেক্স (বিডি) লিমিটেড শেয়ারপ্রতি ২০ টাকা প্রিমিয়ামসহ ৩০ টাকা দরে শেয়ার ছাড়তে চায়। কোম্পানিটি প্রায় ৯৮ কোটি টাকা সংগ্রহের প্রস্তাব দিয়েছে। অর্থাৎ দুটি কোম্পানির প্রস্তাবিত ইস্যু মূল্যের মধ্যে যথাক্রমে পাঁচ ও ২০ টাকা প্রিমিয়াম রয়েছে।
অন্যদিকে বুকবিল্ডিং পদ্ধতিতে ৪০০ কোটি টাকা সংগ্রহের আবেদন করেছে কনফিডেন্স পাওয়ার অ্যান্ড এনার্জি।
কোম্পানিটির প্রসপেক্টাস অনুযায়ী, উত্তোলিত ৪০০ কোটি টাকার মধ্যে ৩০০ কোটি টাকা ব্যয় করা হবে ২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার গ্রিডসংযুক্ত সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনে। এছাড়া ৯০ কোটি টাকা ব্যাংকঋণ পরিশোধে এবং বাকি ১০ কোটি টাকা আইপিও-সংক্রান্ত ব্যয়ে ব্যবহার করার পরিকল্পনা রয়েছে।
এছাড়া স্ক্যানডেক্স তাদের সংগৃহীত অর্থ দিয়ে টেক্সটাইল ও রিসাইকেল্ড ফাইবার স্পিনিং প্রকল্প স্থাপন এবং ব্যাংকঋণ পরিশোধ করতে চায়। পার্কওয়ে প্যাকেজিং কারখানার যন্ত্রপাতি ও উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি ঋণ পরিশোধে অর্থ ব্যয় করবে। ডিজিকন টেকনোলজিস বিপিও ও তথ্যপ্রযুক্তি অবকাঠামো সম্প্রসারণে বিনিয়োগের পরিকল্পনা করেছে।
অন্যদিকে অ্যালায়েন্স ফাইন্যান্স ও প্রোটেক্টিভ ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স আইপিওর অর্থের বড় অংশ সরকারি ট্রেজারি বন্ড ও অনুমোদিত আর্থিক খাতে বিনিয়োগ করবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন