প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বাগেরহাটে একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীকে যৌন নিপীড়নের প্রস্তাব, পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং উপবৃত্তির টাকা আত্মসাতের গুরুতর অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে। এই বিষয়টির তদন্তের জন্য জেলা শিক্ষা দফতর একটি তদন্ত কমিটি গঠনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) সকালে বাগেরহাট সদর উপজেলার বড়বাঁশবাড়িয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে ঘটনার প্রাথমিক তদন্ত সম্পন্ন করেন জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোহা. সাদিকুল ইসলাম এবং উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা সোহেল পারভেজ। অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষকের নাম সরদার একরামুল করিম।
বিদ্যালয় ও জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, প্রধান শিক্ষক সরদার একরামুল করিমের বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসকের কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন এক অভিভাবক। অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ২০১২ সালে যোগদানের পর থেকে তিনি বিভিন্ন ধরনের অনৈতিক কর্মকাণ্ড, অনিয়ম ও দুর্নীতির সাথে জড়িত রয়েছেন। সম্প্রতি তিনি এক শিক্ষার্থীকে নির্বাচনী পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রলোভন দেখিয়ে নিজের বাসায় যাওয়ার অনৈতিক প্রস্তাব দেন।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী জানায়, পরীক্ষা শুরুর প্রায় দেড় সপ্তাহ আগে প্রধান শিক্ষক তাকে প্রশ্নপত্র দিয়ে বাসায় যাওয়ার প্রস্তাব দেন এবং মোবাইলে বিভিন্ন আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও পাঠান। বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক নৃপেন্দ্রনাথ রায় জানান, ওই শিক্ষার্থী বিষয়টি শিক্ষকদের জানালে তারা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে বলেন। পরে প্রধান শিক্ষকের পাঠানো আপত্তিকর বার্তা ও নগ্ন ছবির প্রমাণ পাওয়া যায়। এছাড়া শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তির টাকা আত্মসাতের বহু অভিযোগও তার বিরুদ্ধে রয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে বড়বাঁশবাড়িয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সরদার একরামুল করিম তার বিরুদ্ধে ওঠা সকল অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোহা. সাদিকুল ইসলাম জানান, অভিযোগের প্রেক্ষিতে সরেজমিনে তদন্ত করা হয়েছে। একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন