প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) বেআইনি পুশইনের চেষ্টা সীমান্তে থামছে না। জুন মাসে রাজশাহীর সীমান্ত জেলাগুলোতে বিএসএফ কেবল ১১৯ জনকে পুশইনের চেষ্টা চালিয়েছে। বিজিবি ও গ্রামবাসীদের শক্ত প্রতিরোধের ফলে বিএসএফ-এর এই চেষ্টা বারবার ব্যর্থ হয়েছে, তবে তাদের অপতৎপরতা থেমে নেই।
তপ্ত রোদ এবং বৈরী আবহাওয়ার মধ্যে সীমান্তের শূন্যরেখায় ৯ জন মানুষ নারী ও শিশুসহ চরম অনিশ্চয়তায় অবস্থান করছে। পেছনে বিএসএফের বন্দুকের নল এবং সামনে বাংলাদেশের ভূখণ্ড রক্ষায় বিজিবির দৃঢ় পাহারা, এমন নির্মম চিত্র ২৪ জুন নওগাঁর সাপাহার সীমান্তে দেখা গেছে। রাতের অন্ধকারে অত্যন্ত অমানবিক উপায়ে এই নিরীহ মানুষগুলোকে জোরপূর্বক বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করেছে বিএসএফ। বিজিবির অনড় অবস্থানের কারণে তারা সফল হয়নি।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানাচ্ছে, দেশের উত্তরের সীমান্ত এলাকায় সাম্প্রতিক সময়ে বিএসএফের পুশইন তৎপরতা আশঙ্কাজনকহারে বেড়েছে। জুন মাসে চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ, জয়পুরহাট ও রাজশাহীর সীমান্ত দিয়ে অন্তত ১৫টি পুশইনের চেষ্টা হয়েছে। বিএসএফ তথাকথিত ‘বাংলাদেশি তকমা’ দিয়ে এই গোপন মিশনগুলো চালালেও সচেতন গ্রামবাসী এবং বিজিবির সজাগ দৃষ্টির কারণে প্রতিবারই তারা পুশব্যাক হতে বাধ্য হয়েছে।
রাজশাহী অঞ্চলের ৫টি জেলায় মোট ৪৪৪ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত এলাকা রয়েছে। জুন মাসে বিভিন্ন সীমান্তে বিএসএফ-এর পুশইনের চেষ্টার পরিসংখ্যানে বলা হচ্ছে, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তের ৩ জুন গোমস্তাপুর উপজেলার বাঙ্গাবাড়ি সীমান্তে ২৮ জন, ১২ জুন গোমস্তাপুর উপজেলার রোকনপুর সীমান্তে ১৫ জন এবং ২০ জুন শিবগঞ্জ উপজেলার চৌকা সীমান্তে ২০ জনকে পুশইনের চেষ্টা করা হয়েছে। নওগাঁ সীমান্তের ৫ জুন কলমুডাঙ্গা সীমান্তে ১৯ জন, ৭ জুন নীতপুর সীমান্তে ২৫ জন এবং ২৪ জুন পাতারী সীমান্তে ৯ জনের ক্ষেত্রে বিএসএফ পুশইনের চেষ্টা চালিয়েছে। এছাড়া ১৩ জুন রাজশাহীর চারঘাট সীমান্তে ১ জন এবং ১৪ জুন জয়পুরহাটের পাঁচবিবির হাটখোলা সীমান্তে ১ জনকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার অপচেষ্টা করা হয়।
নওগাঁর সাপাহার পাতারী গ্রামের বাসিন্দা মোয়াজ্জেম হোসেন জানান, 'আমরা সব সময় সতর্ক থাকি বিএসএফের পুশইন ঠেকানোর জন্য।'
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, বিনা প্রমাণে এবং একতরফাভাবে এভাবে মানুষ ঠেলে দেওয়া আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘনের মধ্যে পড়ে। নারী ও শিশুদের ঝুঁকিপূর্ণ সীমান্তে ঠেলে দেওয়াকে চরম মানবাধিকার লঙ্ঘন বলে দাবি করছে মানবাধিকার সংগঠনগুলো।
আন্তর্জাতিক আইন বিশ্লেষক এডভোকেট ডিএম আব্দুল বারী বলেন, 'এটা খুব অন্যায় করছে বিএসএফ। কারণ আন্তর্জাতিক আইন তারা মানছে না।'
'হিউম্যান রাইটস মনিটরিং অফিসার নাইস পারভিন বলেন, 'আপনারা দেখেছেন পঞ্চগড় সীমান্তে কতটা অমানবিক ভাবে নারী-পুরুষকে সেখানে ৩ দিন থাকতে হলো। এটা আমাদের ভারত প্রতিবেশী বড় দেশ হিসেবে খুব লজ্জার। এমন আচরণ তারা করতে পারেন না।'
রাজশাহী অঞ্চলের ৫টি জেলায় ৪৪৪ কিলোমিটার সীমান্ত এলাকা রয়েছে। বিজিবি সূত্র বলছে, জুন মাসেই বিএসএফ অন্তত ১৫ বার পুশইনের অপচেষ্টা চালিয়েছে। বিএসএফ-এর এই তৎপরতা ঠেকাতে রাজশাহী অঞ্চলের সবকটি সীমান্ত পয়েন্টে বিজিবির নিয়মিত টহল এবং গোয়েন্দা নজরদারি দ্বিগুণ করা হয়েছে।
১৬ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম বলেন, 'আমরা সব সময় সীমান্তে বাড়তি নজর রাখছি।'
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন