প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
মঙ্গল গ্রহে নাসার কিউরিওসিটি রোভার একটি অদ্ভুত বিন্যাসের ছোট গর্তের সন্ধান পেয়েছে। গর্তগুলো প্রথম দেখায় পায়ের ছাপের মতো মনে হলেও, বিজ্ঞানীদের মতে, লাল গ্রহের পৃষ্ঠে হেঁটে যাওয়ার কোনো প্রাণী বা বস্তুর কারণে এগুলো তৈরি হয়নি। খবর টাইমস অব ইন্ডিয়া।
মঙ্গলের মাউন্ট শার্প পর্বত এলাকায় অনুসন্ধান চালানোর সময় কিউরিওসিটি এই অস্বাভাবিক গঠনগুলোর ছবি ধারণ করে। এই পর্বতটি মঙ্গলের পৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৫ হাজার ৫০০ মিটার উঁচু এবং দীর্ঘদিন ধরে কিউরিওসিটির অনুসন্ধানের গুরুত্বপূর্ণ এলাকা হিসেবে পরিচিত। নতুন আবিষ্কৃত গর্তগুলোর প্রতিটির ব্যাস আনুমানিক ১ সেন্টিমিটার এবং এগুলো উন্মুক্ত শিলাস্তরের ওপর অগভীর খাঁজ বা অবনতির মতো দেখা যাচ্ছে।
বিজ্ঞানীরা জানান, মঙ্গলের পৃষ্ঠে ছোট গর্ত ও ক্ষতচিহ্ন নতুন কিছু নয়। তবে এবার দেখা গঠনগুলো বিশেষভাবে নজর কাড়ছে। কারণ, গর্তগুলোর আকৃতি অস্বাভাবিক এবং এগুলো তৈরি করতে পারে এমন কোনো বস্তু কী ছিল, তা গবেষকরা শনাক্ত করতে পারেননি।
নাসার মার্স হ্যান্ড লেন্স ইমেজার (MAHLI) কর্মসূচির উপপ্রধান তদন্তকারী মিশেল মিনিত্তি মন্তব্য করেন, কিউরিওসিটি এর আগে মঙ্গলে যে ধরনের বৈশিষ্ট্য দেখেছে, নতুন গঠনগুলো তার সঙ্গে মেলে না।
মিনিত্তি বলেন, কিউরিওসিটি মঙ্গলের পৃষ্ঠে ১৪ বছর কাটানোর পরও লাল গ্রহটি বিজ্ঞানীদের চমকে দিয়ে চলেছে। তিনি উল্লেখ করেন, চলতি সপ্তাহে রোভারের অনুসন্ধানের দুটি এলাকাতেই এমন বৈশিষ্ট্য পাওয়া গেছে, যা আগে প্রায় কখনো দেখা যায়নি। এগুলো ছিল শিলাস্তরের ওপর ছড়িয়ে থাকা প্রশস্ত ও অগভীর গর্ত।
তিনি আরো বলেন, মঙ্গলে এ ধরনের গর্ত একেবারে অস্বাভাবিক নয়। যখন কোনো শক্ত নডিউল বা ছোট পাথর আশপাশের শিলা থেকে ক্ষয় হয়ে বেরিয়ে যায়, তখন সেখানে শূন্যস্থান তৈরি হয়, যা পরে গর্তের মতো দেখা যেতে পারে। তবে এবার দেখা গর্তগুলো আগের বৈশিষ্ট্যগুলোর তুলনায় অনেক বেশি প্রশস্ত ও অগভীর। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এসব গর্তের সঙ্গে এমন কোনো দৃশ্যমান বস্তু পাওয়া যায়নি, যা আগে সেখানে ছিল বলে ধারণা করা যায়।
এ কারণে গর্তগুলো কোনো প্রাণী বা অন্য কোনো বস্তুর মঙ্গলের পৃষ্ঠে পা ফেলার প্রমাণ নয়। গবেষকদের ধারণা, এর পেছনে ভূতাত্ত্বিক প্রক্রিয়াই দায়ী। তবে ঠিক কিভাবে এসব গঠন তৈরি হয়েছে, তা এখনো নির্ধারণের চেষ্টা চলছে।
মিনিত্তি বলেন, মাউন্ট শার্পের এই অংশের ভূতাত্ত্বিক ইতিহাস বোঝার ক্ষেত্রে নতুন গর্তগুলো একটি নতুন ধাঁধা তৈরি করেছে। তার মতে, ওই শিলাস্তরের নির্দিষ্ট অংশকে প্রভাবিত করা বিভিন্ন প্রক্রিয়া সম্পর্কে বোঝাপড়ায় এই নতুন ধাঁধাটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন।
কিউরিওসিটি গর্তগুলোর আশপাশের শিলাও পরীক্ষা করেছে। সেখানে বিভিন্ন ধরনের গঠন ও স্তর লক্ষ্য করা গেছে। রোভারের যন্ত্রগুলো আশপাশের শিলাস্তরের তুলনায় বেশি শক্ত কিছু স্তরের অস্তিত্ব শনাক্ত করেছে। গবেষকদের ধারণা, শিলার রাসায়নিক গঠনের পার্থক্যের কারণে এসব শক্ত স্তর তৈরি হয়ে থাকতে পারে।
২০১২ সালে মঙ্গলে অবতরণের পর থেকে কিউরিওসিটি রোভার গ্রহটির অসংখ্য অস্বাভাবিক ভূতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্য নিয়ে গবেষণা করেছে। নতুন আবিষ্কারটি সেই দীর্ঘ তালিকায় আরও একটি সংযোজন।
কিউরিওসিটি এখন পর্যন্ত মঙ্গলে ৫ হাজারেরও বেশি দিন কাটিয়ে গ্রহটি অনুসন্ধান করেছে। এ সময়ে রোভারটি পৃথিবীতে ৭ লাখেরও বেশি ছবি পাঠিয়েছে।
কিউরিওসিটির সাম্প্রতিক পর্যবেক্ষণগুলো বিজ্ঞানীদের মাউন্ট শার্পের শিলা ও মঙ্গলের পৃষ্ঠ কীভাবে তৈরি হয়েছে এবং সময়ের সঙ্গে কীভাবে পরিবর্তিত হয়েছে, তা বুঝতে সাহায্য করছে।
প্রথম দেখায় ছোট গঠনগুলোকে পায়ের ছাপের মতো মনে হলেও, সেখানে কোনো কিছু সত্যিই হেঁটে যাওয়ার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবে বিজ্ঞানীদের কাছে আবিষ্কারটি তাতে কোনো অংশে কম আকর্ষণীয় নয়। কারণ এসব ক্ষুদ্র গর্ত মঙ্গলের পৃষ্ঠকে আকৃতি দেওয়া ভূতাত্ত্বিক শক্তি ও প্রক্রিয়াগুলো সম্পর্কে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ সূত্র দিতে পারে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন